মঙ্গলবার ● ১১ আগস্ট ২০২০ ● ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ ● ২০ জিলহজ্জ ১৪৪১
ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তে সরকার
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০, ৬:০০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তে সরকার

ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তে সরকার

মধ্যরাতে বাড়ি থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। 

সোমবার (০৬ জুলাই) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ডিসি সুলতানা পারভীনকে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনু বিভাগে অনুসন্ধান ও শুনানি কার্যক্রম চলছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মামলার কার্যক্রম চলমান আছে। অধিকতর তদন্তে সুলতানা পারভীন দোষী প্রমাণিত হলে তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে।’

গত ১৩ মার্চ গভীর রাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক রাখার অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই অভিযান পরিচালনা করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার এস এম রাহতুল ইসলাম। পরে অভিযোগ উঠে, ডিসি সুলতানার নির্দেশেই মধ্যরাতে আরিফুলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সাজা দেয়া হয়।

শুধু সাজাই নয়, এমনকি আরিফকে তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে অকথ্য নির্যাতন করে সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়। চোখ বেঁধে তার কাছ থেকে স্বাক্ষরও নেয়া হয়। ওই ভিডিও প্রকাশ হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। 

মূলত ডিসি সুলতানা কুড়িগ্রাম শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কারের পর নিজের নামে ওই পুকুরের নাম ‘সুলতানা সরোবর’ রাখতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক আরিফুল। ওই সংবাদ প্রকাশের প্রায় ১০ মাস পর জেলা প্রশাসন আরিফের বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মধ্যরাতে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সাজা দেয়।

এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে অপসারণ করে সরকার। 

এ ঘটনায় সাংবাদিক আরিফুল গত ১৯ মার্চ ডিসি সুলতানা ও সাবেক তিন সহকারী কমিশনারসহ ৩৫-৪০ জনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ করেন। এরপর উচ্চ আদালত সেই অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আরিফকে দেয়া সাজা স্থগিত করা হয়।

এরইমধ্যে গেল ২৫ মার্চ ডিসি সুলতানা পারভীনসহ তার কার্যালয়ের সাবেক ৩ জন সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে সরকার। একইসঙ্গে তাদের কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশও পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সাংবাদিক আরিফকে শাস্তি দেয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে স্বাক্ষরকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা গত ১৮ জুন বিভাগীয় মামলার জবাবে জানান, তিনি সাজার আদেশে (পরোয়ানায়) স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। 

তিনি জানান, জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নির্দেশনার কথা বলে তাকে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন আরডিসি নাজিম উদ্দিন। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা পর প্রতিসিউশন পক্ষকে ডিসি অফিসে ডেকে এনে নথিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলেও জানান রিন্টু বিকাশ চাকমা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার দাবি, আরডিসি নাজিম উদ্দিন পেশকার সাইফুল ইসলামকে ডিসি অফিসে জব্দ তালিকা তৈরির নির্দেশ দিলে, পরে আধা লিটার মদ ও দেড়শো গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের বিষয়টি তিনি জানতে পারেন।

এ ঘটনায় গত বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত সংবাদ নজরে নিয়ে ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com