বৃহস্পতিবার ● ৬ আগস্ট ২০২০ ● ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ ● ১৫ জিলহজ্জ ১৪৪১
ভোরের পাতা সংলাপ: অপসংস্কৃতি রোধে সিন্ডিকেট ভাঙতে শিল্পী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
আমি যে বাঙালি, সেটা আমি সর্বান্তকরণে উপভোগ করি: সুজিত মোস্তফা। পরবর্তী প্রজন্ম যেন আমাদের কাজ ভবিষ্যতে দেখতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছি: মীর ফখরুদ্দীন ছোটন। ইউটিউবে চ্যানেল খুলে ভিডিও ছেড়ে দিলেই শিল্পী হওয়া যায় না: ফারজানা ছবি।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০, ১০:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ভোরের পাতা সংলাপ: অপসংস্কৃতি রোধে সিন্ডিকেট ভাঙতে শিল্পী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

ভোরের পাতা সংলাপ: অপসংস্কৃতি রোধে সিন্ডিকেট ভাঙতে শিল্পী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

আমাদের দেশের অপসংস্কৃতি রোধ করতে যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে তা ভাঙতে হলে শিল্পী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কিন্তু এই সিন্ডিকেটের অনেকেই আবার সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই এ সিন্ডিকেট ভাঙা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ। আমাদের সমাজে শুধু যৌন আবেদনকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই পারফারমার তৈরি করছে। এতে করে সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন আলোচকরা। দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা।

শনিবার (৪ জুন) ভোরের পাতা সংলাপে আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল সংগীত শিল্পী ও নজরুল গবেষক সুজিত মোস্তফা, টেলিপ্যাবের আর্কাইভ সেক্রটারি মীর ফখরুদ্দীন ছোটন এবং অভিনেত্রী ফারজানা ছবি। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন শামীমা তুষ্টি।

সুজিত মোস্তফা বলেন, পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় সংকট এসেছে। মানুষই আবার সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছে। কিন্তু এই সংকট উত্তরণের জন্য এখনো কোনো উপায় পাওয়া যায়নি। ইন্টারনেট আমাদের কিছু সুবিধা দিয়েছে, একই সঙ্গে কিছু অসুবিধাও রয়েছে। মাঝে মাঝে কিছু মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক সময় জীবনও গেছে। এই করোনা সময়ের মধ্যে  আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। আমি সবাইকে একটা কথাই বলতে চাই, ভয় পেলে করোনা আরো সাহস পেয়ে যায়। তাই মানসিক শক্তি না থাকলে রোগ পেয়ে বসে। এই করোনাকালে আমার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এখন অনলাইনে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। গতকাল আমার স্ত্রী মুনমুন অন্ধকারের মধ্যেই ‘তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ’ গানটির সাে নেচেছে। আমি সত্যিই সোভাগ্যবান যে, এই দুঃসময়েও স্ত্রী আমাকে এত ভালোবাসে।   

তিনি আরো বলেন, করোনা আমাদের মারার আগে টিকটকের ভিডিও দেখেই মরে যাচ্ছি। আমি মূলত বেসিক বাংলা গান করি। আমরা সব সময় ভালো জিনিসকে গ্রহণ করতে গিয়ে নিজেকে বিসর্জন দেয়ার কিছু নেই। আমি যে বাঙালি, সেটা আমি সর্বান্তকরণে উপভোগ করি। আপনারা যদি দেখেন পারমানবিক বোমা দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ করেছে, আবার চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ব্যবহার হয়েছে। আমাদের সমাজে অনেক কিছুতেই সামঞ্জস্য নেই। এই সমাজে মেধাবীদের মূল্যায়ন হয় না। মেধাবিদের পিছনে ফেলে দিতে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করে অযোগ্যরা। কারণ তারা জানে একজন মেধাবী ৫০ জনের জায়গা নিতে পারে। জীবনে সফল হওয়াটাই আসল কথা। প্রতিযোগিতা করে প্রথম হওয়ার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই। ভালো জিনিস দিয়ে টিকে থাকতে হবে। কর্পোরেট দুনিয়ার অনুষ্ঠান এবং গায়ে হলুরে অনুষ্ঠানে আজকাল কোনো গান হয় না, সেখানে উন্মাদনা থাকে। এমনকি বাংলা গান সেখানেই থাকে না। বাংলায়ও অনেক ভালো ভালো গান রয়েছে। 

মীর ফখরুদ্দীন ছোটন বলেন, এমন একটা জীবনে আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে, সেটা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। মার্চের ১৭ তারিখ শেষ শুটিং করেছি। এরপর থেকে অধিকাংশ সময়ই ঘরেই থাকতে হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে শুটিং চালু করার কথা বলা হলেও এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই চার মাসে মাত্র আমি ৬ নি অফিসে গিয়েছি। এই সময়ে কোনোদিন বাজার করতেও যাইনি। আমি বলতে চাই, সবাই আমরা দুঃসময় পার করছি। আমারে শিল্পীদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

তিনি আরো বলেন, আমি নিজেই প্রথম দিকে মানসিকভাবে শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার চেহারা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। টেনশন করতাম খুব। তখন আমার সন্তানরা টেলিভিশনে নিউজ দেখা বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর আমি সিনেমা দেখতে শুরু করলাম। এমনকি বাচ্চাদের কার্টুন দেখতে শুরু করলাম। এরপর আস্তে আস্তে মানসিক শক্তি ফিরে পেয়েছি। আমাদের সংগঠনের বয়স মাত্র এক বছর। আমরা আর্কাইভ তৈরি করার জন্য কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, দুই মাসের মধ্যেই ভালো একটা ফলাফল দিতে পারবো। পরবর্তী প্রজন্ম আমারে কাজ যেন দেখতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। অনেক বড় সিন্ডিকেটের হাতেই চলে গেছে এখন নাটকের কাজ। অল্প বাজেট দিয়ে নাটক বানানোর এই পক্রিয়া আমাদের ভাঙতে হবে। আমাদের শিল্পী সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। 

ফারজানা ছবি বলেন, আমি মার্চ মাসের ১৪ তারিখ থেকে পুরোপুরি বাসায় রয়েছি। আমি একদিনের জন্যও বাসায় থেকে বের হইনি। আমি যে বাসায় থাকি, সেখানে পাশের ফ্লাটের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমি পুরোপুরিভাবে বের হইনি কারণ, পরিবারে শিশু ও বয়স্ক মানুষ আছে। আমি চাইনি, আমার অসচেতনার জন্য পরিবারের কেউ আক্রান্ত হোক। ইতিমধ্যেই আমি ঘরে থেকে একটা ধারাবাহিকের শুটিং করেছি। গত এক মাস ধরে আবারো শুটিং শুরু হয়েছে। এখানে অনেক লোকের সমাগম হচ্ছে। অন্যান্য দেশের শুটিংয়ে শিল্পীরা মাস্ক পরিধান করছেন, কিন্তু আমাদের দেশে তা মানা হচ্ছে। তাই শুটিং করতে গিয়ে শিল্পীরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। 

তিনি আরো বলেন, শিল্পী এবং পারফরমার এই দুইটার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমারে অনেকেই পারফরমার হয়েই শিল্পী ভাবতে শুরু করি। এখন একটা মোবাইল থাকলেই ইউটিউবে চ্যানেল খুলে ভিডিও বানিয়ে ছেড়ে দিলেই শিল্পী হওয়া যায় না। শিল্পী হতে হলে তৈরি হতে হয়। অনেক মেধা, শ্রম ও ঘাম থাকতে হয়। করোনার এই সময় অনেকেই টিকটিক করে হঠাৎ করেই ভিডিও বানিয়ে খুব জনপ্রিয় হলো, তারপর আবার হারিয়েও যাচ্ছে। কিন্তু শিল্পীরা হারিয়ে যায় না। আমি শিল্পী হিসাবে ধৈর্য্য রেখেই প চলছি এবং এখনো শিখছি। আরেকটা ব্যাপার এই সময়ে শিখেছি, আমার নানুর বয়স প্রায় একশ। তিনি আমার বাসায়ই আছেন। তাকে দেখে ব্যস্ত সময়ে কোনোদিন হাসেনি। কিন্তু এখন পরিবারের সবাইকে পেয়ে হাসতে শিখেছেন তিনি। ঘরে থেকেও আমাদের অনেক কিছু করার আছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com