মঙ্গলবার ● ১১ আগস্ট ২০২০ ● ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ ● ২০ জিলহজ্জ ১৪৪১
ভোরের পাতা সংলাপ: ইসলামই মানবতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে
ইসলামের নামে যে রাজনীতি করা হচ্ছে তার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্কই নেই: ফরীদ উদ্দিন মাসউদ। পুরো পৃথিবীর সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের একক নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা শুধু মহানবীর রয়েছে: ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। নিউইয়র্কের অনেক চার্চেও মুসলমানরা নামাজ আদায় করতে পারেন: মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০, ১০:৩৪ পিএম আপডেট: ০৩.০৭.২০২০ ১০:৫৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ভোরের পাতা সংলাপ: ইসলামই মানবতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে

ভোরের পাতা সংলাপ: ইসলামই মানবতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে

ইসলাম শান্তির ধর্ম। পৃথিবীর সকল ধর্মই শান্তির জন্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে শুধু ইসলামই মানবিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। আর ইসলামের নাম ব্যবহার করে যে রাজনীতি করা হচ্ছে, তার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্কই নেই। এগুলো শুধু নামেই ইসলামী দল বলে মনে করেন আলোচকরা। দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরের পাতা সংলাপে আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শোলাকিয়া ঈদগাহ জামে মসজিদের গ্রান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার উপাচার্য ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাদকাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন মিরাজ রহমান।

ফরীদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, ধর্ম সৃষ্টিই হয়েছে মানুষের কল্যাণে। ধর্মে শিরক এবং কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই। দেখুন হিন্দুধর্মেও শিরককে স্বীকার করে না। তারা একেশ্বরবাদেই বিশ্বাসী। বিভিন্ন দেবদেবীর পূজার মাধ্যমে তারা একজনের বহুরূপকেই পূজা করে। ইসলাম তার পূর্ববর্তী সকল ধর্মকে স্বীকৃতি দিয়েছে। পৃথিবীর সকল ধর্মেই মানবতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম সেটিকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে। দেখুন নামাজ রাসুল (সাঃ) পৃথিবীতে আসার আগেই নামাজের প্রচলন ছিল। তার জীবনদর্শনেই একজন মানুষের পরিপূর্ণ জীবনবিধান রয়েছে। মানবতা আগেও ছিল। কিন্তু মানবিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। একইভাবে ইবাদতকেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ইসলামে যাকাতের যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানে মানব সেবার সুযোগ রয়েছে। যাকাতটা সরকারি বাধ্যতামূলক বিষয়। রাসুল (সাঃ) তার জীবনযাপনে বুঝিয়েছেন, অতিরিক্ত অর্থ মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। জনকল্যাণে তিনি অর্থ ব্যয় করেছেন। বিভিন্ন সফরের সময় সমষ্টিকভাবে সব বন্টন করতেন। যেমন যে ব্যক্তি ১ কেজি খেজুর দিয়েছে বা কেউ দিতেই পারেনি। কিন্তু বন্টনের সময় সবাইকে সমান পরিমাণ খেজুরই দেয়া হয়েছিল। ইসলামে ঘোষণা করা হয়েছে, তোমাদের যা আছে তা সব মানবের কল্যাণে বিলিয়ে দাও। তুমি যা খাবে, অন্যকেও তাই খেতে দিবে। 

তিনি আরো বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সব সময়ই শান্তি চায়। এ বিষয়ে বহু হাদিস আছে। ইসলামী রাজনীতিকে তথাকথিত পাশ্চত্য রাজনীতির সাথে মেলানো ঠিক হবে না। কারণ ইসলামী রাজনীতির যে ধারা সেটি স্বতন্ত্র। কোথাও যেন ইনসাফ ব্যাহত না হয় এবং ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা থেকে বেঁচে থাকার নীতি রয়েছে ইসলামী রাজনীতিতে। ইসলামের রাজনীতির নামে বর্তমানে যা করা হচ্ছে তার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামের রাজনীতির নামে বিশৃঙ্খলাকারীদের মুনাফেক হিসাবে স্বীকৃত হবে।

ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, মানবতা বা মানবতাবাদ এটি শুধু বর্তমান বিষয় নয়। গত কয়েকশ বছর ধওে দেখে আসছি, ধর্মের নামে মানুষ মারা হচ্ছে। মানুষে মানুষে হানাহানি হচ্ছে। আজকে প্রয়োজন এসেছে নতুন করে মানষের ধর্মকে সজ্ঞায়িত করা। এ ব্যাপারে আমাদের শান্তির ধর্ম ইসলামে অনেক বিষয় রয়েছে। মানব ও মানবতাবাদের মাধ্যমে সকল মানুষকে একত্রিত করার শিক্ষা দেয় ইসলাম। 

তিনি আরো বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে কতবড় মানবতাবাদী ছিলেন তা আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি। তিনি যে রাস্তায় যেতেন সে রাস্তায় এক বুড়ি কাটা বিছিয়ে রাখতেন। একদিন সেই রাস্তায় কাটা না দেখে তিনি বুড়ির বাড়িতে গিয়ে দেখলেন তিনি অসুস্থ। ঘোরতর শত্রুর প্রতি তিনি মানবিক আচরণ করেছিলেন। এমনকি তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেছিলেন। এছাড়া ৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন ইয়েমেনে প্রায় দেড়শ খ্রিষ্টান আলোচনায় বসেছিল। মুহাম্মদ (সাঃ) তাদের মসজিদে প্রার্থনা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই মহানুভবতায় খ্রিষ্টানরা অভিভূত হয়েছিলেন। এছাড়া পৃথিবীর অন্যতম সেরা দার্শনিক ও কবি বর্নাড শ বলেছিলেন, পুরো পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণের মানুষকে যদি একজন এককভাবে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি মহানবী (সাঃ)। এছাড়া ভারতীয় দার্শনিক ও রাজনীতিক এম এন রায়সহ বিভিন্ন মনষী একবাক্যে স্বীকার করেছেন মহানবী (সাঃ) মধ্যযুগের শুরুতেই একজন প্রাজ্ঞ মানুষ ছিলেন মহানবী (সাঃ)। নিজের প্রজ্ঞা, বুদ্ধি দিয়ে তখনকার সময়ে বিজ্ঞান মনস্ক সমাজ গড়ে তুলেছেন। ওই সময়টাই আবরে ছিল গোত্রে গোত্রে বিবাদ ছিল চরমে। ৬২৮ সালে তিনি মদীনায় শতবছরের বিবাদমান গোত্রের মধ্যে সমঝোতা করেছিলেন।  

ড. আসকারী বলেন, দেশপ্রেমের সাথে ইসলামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিরমিজি হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, মহানবী বলেছিলেন, হে আমার প্রিয় মক্কা, আমার জন্মস্থান; আমার যদি যেতে না হতো, তাহলে কোনোদিন আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতাম না। এটার মাধ্যমে তার দেশপ্রেমের নজির রয়েছে। নানা বিরোধিতা, অত্যাচারের পর তিনি যখন মক্কা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তারপর যখন মক্কা বিজয়ের পর আবারো ফিরে এসেছিলেন গভীর দেশপ্রেমের কারণেই। মক্কার মানুষ তার ওপর অত্যাচার করেছিল, তা কিছুই মনে রাখেননি তিনি। মহানবী (সাঃ) মক্কার সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। 

মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, যখন আমাদের নবী করিম (সাঃ) যখন পবিত্র নগরী মক্কায় জন্মেছিলেন তখন ছিল আইয়ামে জাহেলিয়া যুগ। এরপর তিনি মদীনাতেও জীবনের একটি অংশ পার করেছেন। পাপাচারে ভরপুর একটি সমাজ ব্যবস্থাকে মানবিক সমাজে পরিণত করতে মহানবী কাজ করে গেছেন। ১৯৭৮ সালে ফ্রান্স এবং ৭৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এরপর জাতিসংঘে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে। কিন্তু ১৪০০ বছর আগেই এসব মানবতার কথা বলে গেছেন মহানবী (সাঃ)। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফয়েডের হত্যাকাণ্ডে প্রতিবাদে মিশিগান, ফ্লোরিডাতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণী ব্যবহার করে মানবতাবাদী বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, নিউইয়র্কে অনেক চার্চগুলোতে সমঝোতার ভিত্তিতে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাওয়া যায়। আমেরিকার মুসলমানরা মানবিক কাজ করছে। প্রায় ৫ শতাধিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমেরিকা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অসহায় মুসলিমদের পাশে দাঁড়ায়। যেমন রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক কিছু করেছে। সেখানে করোনা সংকটকালে একজন মুসলমান মারা যাওয়ার পর বিনা জানাযায় দাফন করা হয়নি।  

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com