শনিবার ● ৪ জুলাই ২০২০ ● ২০ আষাঢ় ১৪২৭ ● ১২ জিলক্বদ ১৪৪১
ভোরের পাতা সংলাপ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধিরাই কাজ করে
পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউনের সময় ৯৯ শতাংশ মানুষই সহযোগিতা করেছে: আতিকুল ইসলাম। জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা খুব সহজ, মাঠে কাজ করা কঠিন: জাহাঙ্গীর আলম। ১ শতাংশ অসচেতন থাকলেই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন: ইকরামুল হক টিটু।
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০, ১০:৩৬ পিএম আপডেট: ২৯.০৬.২০২০ ১০:৪৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ভোরের পাতা সংলাপ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধিরাই কাজ করে

ভোরের পাতা সংলাপ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধিরাই কাজ করে

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরাই। তবুও গুটিকয়েক জনপ্রতিনিধিদের কারণে অনেকসময় খুবই বাজে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। সরকার বিরোধী একটি অংশ ঘোলা পানিতে মাঠ শিকার করতেই এ ধরণের সমালোচনা করেন বলে জানিয়েছেন আলোচকরা। 

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে সোমবার আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের সুনাগরিক হতে হবে। মাস্ক পরা এখন সুনাগরিকের লক্ষণ। আমরা বীরের জাতি। আমরা হারতে জানি না। জাতির পিতা বলেছিলেন, বাঙালি বীরের জাতি। এই করোনা মোকাবিলায় আমাদের নিজেদের অনেক কিছু করতে হবে। আমরা ম্যানেজমেন্টের দিকে বেশি বেশি জোর দিচ্ছি। আমরা গত ১৭ মার্চ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে করেছি, বাসস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন এলাকায় হাত ধোয়ার স্থান রেডি করেছি। গুলশান, নিকেতন এবং বনানী এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত জো-বাইক (সাইকেল) পরিবহন চালু করেছি। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৭টি করোনা টেস্ট ল্যাব স্থাপন করেছি। এমনকি মহাখালী বাজারের জন্য যে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটাকে হাসপাতালে পরিণত করেছি। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পুরো নগরজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমরা পূর্ব রাজাবাজারে কাজ করে সফল হয়েছি। ওখানকার মাত্র ১ শতাংশ মানুষ গভীর রাতে পিজা খেতে চাওয়ার মতো অসহযোগিতা করেছে, কিন্তু ৯৯ শতাংশ মানুষ আমাদের সহযোগিতা করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে শুধু  করোনা মোকাবিলায় নয়, ডেঙ্গু মোকাবিলায় অনেক কাজ কওে যাচ্ছি। পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। আমি ওখানকার রাজনৈতিক নেতা থেকে জনপ্রতিনিধিদের সাথে একটু আগে কথা বলেছি। আমরা করোনা কতটুকু কমে এসেছে, সেটার একটা পরিসংখ্যান চেয়েছি। এছাড়া কোরবানির হাট কিভাবে বসবে সেটা নিয়েও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই করোনা ভাইরাস নিয়ে পৃথিবীর মানুষ যেভাবে জানে, বাংলাদেশের মানুষও জানে। বাস্তবে যারা আক্রান্ত হননি, তারা হয়তো অবহেলা করছেন। যতদিন পর্যন্ত করোনার ভ্যাকসিন না আসে ততদিন যেন আমরা নাগরিক হিসাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আমার পরিবারের ৪ জন মারা গেছেন। আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করছি যেন, করোনায় মারা যাওয়া সবাইকে তিনি যেন কবরের আযাব মাফ করে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখেছি, বিপদের সময় মানুষের পাশে কাজ করার। গাজীপুর খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এবং অপরিকল্পিত শহর। আমাদের সাধ্যমতো আমরা মানুষের পাশে থেকেছি। আমাদের ৭৬ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছুটি দিই নি। আমরা সবাই মাঠে থেকে কাজ করেছি। অন্যান্য শহরের তুলনায় গাজীপুরের অবস্থা এখন ভালো। এখানে এখন প্রায় সব কারখানাই চালু রয়েছে। এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ব্যবসাকে বিশেষ করে পোশাক শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০০-৩০০ থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছে। তারা বিবেকবোধ থেকেই এই কাজ করেছে। করোনা শুরুর সময়ই আমি চীন থেকে কিট এনেছিলাম। তখন অনেক সমালোচনাই হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ১ কোটি কিট এখন কাজে লেগেছে। আমি একটা কথা বলতেই পারি, সমালোচনা করা সহজ; মাঠে থেকে কাজ করাটা অনেক কঠিন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে ৬০ থেকে ৬২ হাজার জনপ্রতিনিধি রয়েছে। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ জন চোরের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ কিছু বিরোধীরা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে উল্টোপাল্টা বলছেন। আমাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম নিয়মিত আমাদের সাথে অনলাইনে বৈঠক করছেন। আমরা বিভিন্ন উন্নত দেশের মেয়রদের সাথে কথা বলছি, কিভাবে তারা পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। এমনকি চিকিৎসকদের সাহস দিয়েছি। আমার গাজীপুরে ৪ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি শিশুখাদ্যও সরবরাহ করেছি। এই পরিস্থিতিতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের সবার একত্রে দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু কিছু লোক সমালোচনাই করে যাচ্ছেন। আমরা গাজীপুরে মানুষদের জন্য রাতেও পাহারার ব্যবস্থা করেছি। আগে আমাদের সিটি কর্পোরেশনের একটা এ্যাম্বুলেন্সও ছিল না, এখন ১৫ টা এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে পাড়া মহাল্লায় কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এখন রাত ২ টার পর হলেও সব মানুষের ফোন ধরি। কেউ বিপদে পড়লে কিনা, সেটা জানার জন্য; সব সময়ই জনগণের পাশে আছি।  

ইকরামুল হক টিটু বলেন, বাংলাদেশের মতো সারাবিশ্বের মানুষ করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। আমরা মুখিয়ে ছিলাম এই বছরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী নিয়ে নানা আয়োজনের জন্য। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেন না বাড়ে সেজন্য সব অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। এই করোনা মোকাবিলায় আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। কারণ আমরা এখানে অদৃশ্য একটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র অসচেতনতার কারণেই ডায়েবেটিস রোগ হয়। রোগটি হয়ে গেলেও আবারো নিয়ম মেনে চললে বেঁচে থাকা যায়। কিন্তু করোনায় ৯৯ শতাংশ সচেতন থাকার পরও মাত্র ১ শতাংশ অসচেতন হওয়ার কারণে আপনার মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। করোনার শুরুতে আমরা সবাইকে সচেতন করেছি। দ্বিতীয় ধাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীগ্রহণ করেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই দুঃসময়ে কোনা মানুষ যেন না খেয়ে থাকে। ময়মনসিংহের ৩৩ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং ১১ জন মহিলা কাউন্সিলরের মাধ্যমে সরকারি খাদ্য ঘরে ঘরে বিতরণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা ছিল অনেক।

তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহে করোনায় প্রথম যেদিন একজন মারা গিয়েছিল, তখন পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের লাশ নেয়া এবং দাফন করতে অপরাগতা প্রকাশ করেছিল। এমন নির্মম পরিস্থিতির জন্য কেউ শিকার না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সর্বোপরি নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে ভালো রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

টিটু আরো বলেন, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করাটা একশ্রেণীর মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে। তারা আসলে ভালো কাজ চোখে দেখে না এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com