মঙ্গলবার ● ১৪ জুলাই ২০২০ ● ৩০ আষাঢ় ১৪২৭ ● ২২ জিলক্বদ ১৪৪১
ভোরের পাতা সংলাপ: ফুটবল বাণিজ্য যারা বুঝেন তাদেরই নেতৃত্বে আসা দরকার
যৌক্তিক কারণে যেকোনো সময় ডেলিগেট পরিবর্তন করা সম্ভব: আবু নাইম সোহাগ, মন্ত্রণালয় থেকে টাকা নিয়ে বিতরণের নামে হরিলুট করেছে বাফুফে: সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, ছোট ফুটবল দলগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে কোনো উদ্যোগই নেয়নি বাফুফে: আমের খান, ফুটবল তো আর শিল্প নয়, এটা এখন বাণিজ্যও: আবু সাদাত
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০, ১০:২৭ পিএম আপডেট: ২৪.০৬.২০২০ ১০:৩৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ভোরের পাতা সংলাপ: ফুটবল বাণিজ্য যারা বুঝেন তাদেরই নেতৃত্বে আসা দরকার

ভোরের পাতা সংলাপ: ফুটবল বাণিজ্য যারা বুঝেন তাদেরই নেতৃত্বে আসা দরকার

বাংলাদেশের ফুটবল এখন আস্থা এবং ইমেজ সংকট রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে না উঠতে না পারলে আর্থিকভাবেও ফুটবল ফেডারেশন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। আর ফুটবল তো এখন আর শুধু শিল্প নয়, ফুটবল এখন বাণিজ্যও। ফুটবলের এই বাণিজ্য যারা বুঝেন তাদেরই বাফুফের নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন মনে করেন আলোচকরা।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে বুধবার (২৪ জুন) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, ব্রাদার্স ইউনিয়নের পরিচালক আমের খান এবং মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাদাত। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আহমেদ রাকীব।

বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রে বিভিন্ন সময় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষ উদ্দেশ্যে এ্যাডহক কমিটি গঠন করা যায়। সেই কমিটি কাজ করে বোর্ডের কাছে রিপোর্ট করবে। এই ধরণের কমিটি আজই প্রথম করা হয়নি। ২০০৮, ২০১২ এবং ২০১৬ সালেও নির্বাচনের সময় এ ধরণের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্বাচন আসলে অনেক প্রশ্ন উঠেই। কিন্তু এবারো গঠনতন্ত্র মেনেই করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি। যাচাই বাছাই করা কমিটি নিয়ে সরাসারি আমার এই প্লাটফর্মে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ডেলিগেট পরিবর্তন করা সম্ভব। যৌক্তিক কারণে যেকোনো সময় ডেলিগেট পরিবর্তন করতে পারবো। 

তিনি আরো বলেন,ভুল নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাই আমাদের যদি কোনো ভুল থাকে, তাহলে অবশ্যই ব্যাক্তিগতভাবে আমাকে জানাতে পারেন, তাহলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। বিভিন্ন জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন কিভাবে ৭ দিনের মধ্যে নির্বাচন করে আমাদের জানালো, সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। 

আবু নাইম সোহাগ আরো বলেন, বাফুফে নির্বাচনের সময় আইন আদালতে যাওয়া নতুন কিছু নয়। এর আগের নির্বাচনেও গাইবান্ধা ও কিশোরগঞ্জের বিষয় নিয়ে আদালতে যেতে হয়েছে। আমাদের ফুটবলে ইমেজ সংকট প্রকট, একথা সত্য। আমরা বারবার বলি, ফুটবল মরে গেছে, মরে গেছে। এই নেতিবাচক প্রচারণার কারণে আমরা আরো পিছিয়ে পরছি। ফুটবলের স্বর্ণযুগ ফিতে পেতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে কাজ করতে চাই।

সিরাজউদ্দীন মোহম্মদ আলমগীর বলেন, অনেকগুলো জেলাতেই কাউন্সিলরশিপ নির্বাচনে ঝামেলা রয়েছে। খুলনা বিভাগীয় ফুটবল সংস্থার নির্বাচনের সময় কমিটি গঠন করা নিয়ে নানা ঝামেলা হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় ফুটবল এসোশিয়েশনসহ আরো অনেক জেলাতেই হয়েছে এমনটা, যেখানে পছন্দের লোককে কাউন্সিলর নির্বাচন করতে না পারায় অন্যদের বাছাই করা হয়েছে। যাচাই বাছাই কমিটিতে যারা দায়িত্ব রয়েছেন, তারা কখনোই সততা নিয়ে কাজ করতে পারবেন বলে আমি মনে করি না। আমি আরো বলতে চাই, বাফুফেতে বর্তমান সভাপতি এবং একজন সহ-সভাপতির দুইটা গ্রুপ রয়েছে। একপক্ষ আরেকপক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। বাইরের কেউ কিন্তু বাফুফের ভেতরের কথা বলছেন না, তাই এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। 

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সালাউদ্দিন যখন বাফুফে সভাপতি হয়েছিলেন তখন ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন তো স্বপ্নই রয়ে গেছে। এমনকি সাফ চ্যাম্পিয়ানও হতে পারি নাই। আমরা যদি দেখি ৯ বছরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসাবে কাজী সালাউদ্দিন ভাই, জেলা পর্যায়ে কোনো ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে যাননি। তারা তৃণমূলে ফুটবলে নজরই দিতে চান না। একসময় ক্রিকেট বোর্ডকে আর্থিক অনুদান দিতো বাফুফে। কিন্তু আজ কি অবস্থায় বাফুফে রয়েছে, তা সবাই দেখেছে। ক্রিকেট এগিয়ে গেছে সঠিক পরিকল্পনার জন্য। জেলা পর্যায়ে ফুটবলকে গতিশীল করার জন্য নির্বাচন আসলেই মন্ত্রণালয় থেকে টাকা নিয়ে বিতরণের নামে হরিলুট করেছে।   

আমের খান বলেন, বিগত দিনেও নির্বাচন হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন নিয়ে বাইরে যে খবরগুলো এসেছে, সেগুলো কমিটির ভেতরের লোকদের কাছ থেকেই এসেছে। ৭ জুন যে কাউন্সিলরশিপ নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে, এটা নিয়ে একেক জন একেক কথা বলছেন। আগে  বাফুফের ভেতর থেকে একক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। বাফুফের ভেতরের লোকদের নিয়ে নয়, আলাদা কাউকে দিয়ে নতুন করে কমিটি করা যেতে পারে। যতদ্রুত সম্ভব সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আবু নাঈম সোহাগ যেন একটি বৈঠক ডেকে সমন্বয় করতে পারেন। তাহলেই একটি চমৎকার ক্রীড়া নির্বাচন দেখা যাবে। এখনই প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কাজ করলেই নির্বাচনের সময় তাদের জন্য সহজ হবে। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের জাতীয় ফুটবল দলে যে খেলোয়াররাই এসেছে তারা কোনো না কোনো ক্লাব থেকেই এসেছে। পেশাদার লীগ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমাদের ফুটবলার তৈরি করার প্রক্রিয়া থেমে গেছে। ২০০৫ সালের পর থেকে ফেনী সকার, খুলনা আবহানীর মতো দলগুলো হারিয়ে গেছে। সেই টিমগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কেউই উদ্যোগ নেয়নি। 

ক্রীড়া সাংবাদিক আবু সাদাত বলেন,  বাফুফে করোনাকালে গোপনে নির্বাচন করতে চায়, এটা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমের বিভ্রান্তি হয়নি। তবে সমস্যাটা বাফুফের ভেতরের। মূলত কাউন্সিলরশিপ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যে বিরোধী পক্ষটি নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, তাদের বাফুফে ভবনেও প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে যে অভিযোগ এসেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। আমি ক্রীড়া সাংবাদিকতা করতে গিয়ে দেখেছি, ফুটবলে যতটা আর্থিক সংকটের কথা হয়, এরচেয়ে বেশি ইমেজ সংকটের কথা বেশি বলা হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। 

তিনি আরো বলেন, কাজী সালাউদ্দিনের বিকল্প নেই, এটা সঠিক নয়। স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে যে আসুন না কেন কাজ করার স্বদিচ্ছা থাকলে সবাই এগিয়ে আসবেন। শুধু যে সালাউদ্দিনের ফেসভ্যালুর কারণে স্পন্সর এসেছে, তাও ঠিক নয়। কাজ করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফুটবলের স্বার্থে এগিয়ে আসবেই। ফুটবল তো আর শিল্প নয়, এটা এখন বাণিজ্যও। ফুটবলেই বাণিজ্যটা যারা বুঝতে পারে, তারাই ফুটবলের নেতৃত্বে আসা দরকার। আমাদের সর্বোচ্চ পেশাদার লীগও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করতে পারেনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com