মঙ্গলবার ● ৭ জুলাই ২০২০ ● ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ ● ১৫ জিলক্বদ ১৪৪১
‘তুই ফিরে আয় বাজান, ফিরে আয়’
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে, ২০২০, ১১:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

‘তুই ফিরে আয় বাজান, ফিরে আয়’

‘তুই ফিরে আয় বাজান, ফিরে আয়’

‘আমাগের আর ছাদের বাড়ি করা লাগবে না, সংসারে আর সচ্ছলতা ফিরানো লাগবে না। তুই ফিরে আয় বাজান, ফিরে আয়। আমার সোনারে আমার কাছে আনি দেন।’

আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে এভাবেই আর্তনাদ করছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার খাটবাড়িয়া গ্রামের মাহেরুন নেছা বেগম।

গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদাহ শহরে বৃহস্পতিবার ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করে দালাল চক্র। রাকিবুল ইসলাম রাকিব তাদেরই একজন।

স্বচ্ছল ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে চার মাস আগে বাড়ি ছেড়ে সম্পত্তি বিক্রি আর জমানো টাকা খরচ করে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যান রাকিব। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই নিভে যায় তার প্রাণ প্রদীপ। দালাল চক্র লিবিয়ার একটি শহরে রাকিবকে আটকে রেখে নির্যাতন ও পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলেন বাবা ইসরাফিল। এরইমধ্যে খবর আসে রাকিবুলকে গুলি করে হত্যা করেছে দালাল চক্র। সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা মাহেরুন ও বাবা ইসরাইল।

শনিবার দুপুরে রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলের শোকে আর্তনাদ-আহাজারি করছেন মাহেরুন নেসা। শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও। ছেলে হারা মাকে সান্তনা দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তারাও।

জানা গেছে, চার ভাই-বোনের মধ্যে রাকিব সবার ছোট। তার বড় ভাই সোহেল রানা বলেন, কাজের জন্য দালালের মাধ্যমে রাকিবকে লিবিয়া পাঠাই। শুরু থেকেই দালালরা রাকিবসহ বাকিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরে তার মুক্তির জন্য মোবাইলে ১০ লাখ টাকা চায় তারা। আমরা ভাইয়ের মুক্তি জন্য দিতে রাজিও হয়েছিলাম। ১ জুন টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই সব শেষ হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার সকালে মোবাইলে জানতে পারি লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রাকিবও আছে।

বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, রাকিবের চাচাতো ভাই ফিরোজ হোসেন লিবিয়া প্রবাসী। সে লিবিয়ায় থাকা আব্দুল্লাহ নামে এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চার মাস আগে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে রাকিবকে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে রাকিবও স্বেচ্ছায় চলে যায়। লিবিয়ার ত্রিপুরা শহরে যাওয়ার পথে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদাহ শহরে বাকি বাংলাদেশিদের সঙ্গে সেও জিম্মি হয়ে পড়ে। সেখানেই তাদের গুলি করে হত্যা করে পাচারকারীরা।

রাকিবুলের মা মাহেরুন নেছা বলেন, ছেলের মুক্তির জন্য বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সম্পত্তি বিক্রি করে টাকাও জোগার করা হয়েছিলো। ১ জুন টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার ছেলের মতো নিহত বাকিরাও কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। তাদের হত্যার বিচার চাই। এখন দ্রুত ছেলের মরদেহ বাড়িতে আনতে চাই। জীবিত ছেলেকে তো আর দেখতে পাবো না। কবর দেখেই সান্তনা নেবো।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com