মঙ্গলবার ● ৭ জুলাই ২০২০ ● ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ ● ১৫ জিলক্বদ ১৪৪১
করোনার চাপে ঈদ এখন সামাজিক মাধ্যমে
রাসেল হোসাইন
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২০, ৬:২২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনার চাপে ঈদ এখন সামাজিক মাধ্যমে

করোনার চাপে ঈদ এখন সামাজিক মাধ্যমে

বিশ্বব্যাপী যে করোনা মহামারী দেখা দিয়েছে তার ভয়াল থাবা থেকে বাঁচতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দেশের কয়েকটি সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে লকডাউন কিছুটা সিথিল করা হলেও দেশের শীর্ষভাগই এর আওতায় রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে এই রোগটি হাচি, কাশি এবং স্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে বলে সবাইকে এই রোগ থেকে বাচার জন্য এই লকডাউনের ঘোষণা। আজ ঈদের দিন অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় ২১জনের মৃত্যুসহ এপর্যন্ত দেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৫০১ জন এবং মোট আক্রান্ত রোগির  সংখ্যা সনাক্ত হয়েছে ৩৫,৫৮৫ (পয়ত্রিশ হাজার পাঁচশত পচাশি জন।
আর এই মহামারি চলাকালিন সময়েই চলে আসে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। সাভাবিকভাবেই প্রতিবছর ঈদের সময় মুসল্লিরা একসাথে ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করে। এরপর কোলাকুলি করে, একে অন্যকে তাদের বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে থাকে। তারপর একে অন্যেও বাড়ি যাওয়া, একসাথে খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়াসহ নানা আয়োজন থাকে প্রতিটি পরিবারেই।

তবে ‘এসকল কার্যক্রমের মাধ্যমে করোনার ঝুকি আরো বাড়তে পারে’ এমন একটি ধারণা থেকেই এবারের ঈদ নিজ নিজ বাড়িতে পালনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবছর আমরা সকল ধরনের গণ-জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছি। কাজেই স্বাভাবিক সময়ের মতো এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা সম্ভব হবে না। ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসন থেকেও সবাইকে সামাজিক দুরুত্ব মেনে চলা, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া এবং সকল প্রকার গণ-জমায়েত থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। আর এসকল সরকারি নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়েই এবার সবাই যার যার বাড়িতে ঈদ উদযাপন করছে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই নানা রকম ছবি আপলোড করছেন ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামসহ সকল মাধ্যমে। সেখানেই একে অন্যকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

মোহাম্মদপুরের কলেজ পড়–য়া শাহারিয়ার টুটুল তিনিও বাসায় বসেই ফেসবুকের মাধ্যমে সবার সাথে যোগাযোগ করেছেন। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন ফেসবুকের মাধ্যমেই। তিনি বলেন, ‘আসলে বিশ্বজুরে যে মহামারি দেখা দিয়েছে তা থেকে বাঁচতে হলে নিজেকে সচেতন হতে হবে। সরকার বা প্রশাসন আমাকে কতক্ষণ চোখে চোখে রাখবে। আমি নিজে যদি সচেতন না হই তাহলে মহামারি থেকে বাঁচা সম্ভব না। তাই আমি মনে করি নিজের জন্য না হলেও পরিবারের জন্য, দেশের জন্য আমাদের ঘরে থাকতে হবে।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: vorerpata24@gmail.com news@dailyvorerpata.com