বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২০ ● ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ৪ শওয়াল ১৪৪১
একজন শেখ হাসিনা সামলাবেন কয়দিক!
খুরশীদুল আলম শাহীন
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২০, ১১:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

একজন শেখ হাসিনা সামলাবেন কয়দিক!

একজন শেখ হাসিনা সামলাবেন কয়দিক!

করোনা তাণ্ডবে পুরো বিশ্ব আজ কাবু। বিশ্বজুড়েই চলছে এর মহামারী রূপ। এর শেষ কোথায় কি এর গতিবিধি এখন পর্যন্ত জানেন না কেউ। এর বিস্তার,প্রকোপ রোধে বিশ্বের সব উন্নত দেশ গুলিই হিমশিম খাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এটি একটি  নিয়ন্ত্রণহীন রোগ। অবনত মস্তকে হাতজোর করে নিজনিজ দেশের জনগণের কাছে অপারগতা প্রকাশ করে সারেন্ডার করছে সব সরকার প্রধানেরা। নাস্তানাবুদ হয়ে যাচ্ছে সুপার পাওযার সব দেশ গুলো। 

প্রতিষেধক না থাকায় হযবরল অবস্থা এর চিকিৎসা ব্যবস্থায়। থমকে গেছে বিশ্ব, স্থবির পুরো পৃথিবী। অর্থনীতির চাকা বন্ধ। অর্থনীতির ধাক্কা সামলাতে সব দেশই নিচ্ছে নানান ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনা। দীর্ঘমেয়াদি,স্বল্প মেয়াদি সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদানে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার গুলো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও তার সর্বোচ্চ টুকু করে যাবার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সেক্টরের জন্যে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার মতো প্রণোদনা সাহায্যের ঘোষনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। মানুষ যেন খাবারের কষ্ট না পায় তারজন্যে সরকার নিয়েছে নানান পরিকল্পনা। ত্রাণের বিপরীতে খাবারের জন্যে উপহার সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। 

ঈদ উপলক্ষ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদান করছে সরকার। এই পদ্ধতিটি গ্রহণের উদ্দেশ্য ছিল মূলতঃ বন্টনের ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দূর্নীতিমুক্ত ভাবে একজন সঠিক পাওনাদারের  কাছে তার প্রাপ্য সহযোগিতা টুকু পৌছে দেয়া। দুঃখজনক হলেও সত্য, এখানেও সরকার ব্যর্থ। চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। এই তালিকায়ও হয়েছে দূর্নীতি। প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত আর্থিক সহায়তার এই তালিকা তৈরিতেও ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাগেরহাটের শরণখোলায় ৪০ টি নামের বিপরীতে নিজের ফোন নাম্বারটি ব্যবহার করেছে স্থানীয় একজন মেম্বার। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ২০০ জনের নামের পাশে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ফোন নাম্বার।

বঙ্গবন্ধু দুঃখ করে বলেছিলেন- "মানুষ পায় স্বর্ণের খনি আমি পাইছি চোরের খনি"! যে দেশে দোতলা থেকে একতলা নামতে বিশ টাকা দশ টাকা হয়ে যায় সেই দেশের উন্নতি কি করে সম্ভব। আমরা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের সরকার প্রধানদের সামান্য কৃতিত্বে বাহবা দিই। ঐ সরকার প্রধানকে পূঁজার আসনে বসিয়ে ফেলি। আমরা নিজে ভালো হতে চাই না অন্যকে ভালো হতে তাকিদ করি। নিজের সব কূকামকেও  সূকাম বলে বিবেচনা করি। আমরা চিনিনা পূঁজনীয় শেখ হাসিনাকে। দিনরাত পরিশ্রম করে নির্ঘুম রাত কাটায় যেই মানুষটি তাকেও আমরা নিস্তার দেই না। দেশ রাষ্ট্রের উন্নয়ন উন্নতির পরিকল্পনা নিয়ে জনস্বার্থে যখন যেই কাজটিই করছেন সেই কাজটিতেই আমরা চুরির হাত বাড়িয়ে দিই। ডানে বামে চারদিকেই যেন চোরের হাট।

একা একা কি করবেন একজন শেখ হাসিনা। যাকে যেখানে বসান, যেই কাজের দায়িত্ব দেন সেই সেখানে অনিয়মে মেতে উঠে। অনিয়মটাই যেন নিয়ম হয়ে গেছে। করোনা সাহায্যটুকুও এই চাটার দলোরা চাটার বাকী রাখে নাই। এই সাহায্যে যারা হাত বাড়ায় তারা মানুষ না। এদেরকে পশু বললে পশুরাও হয়তোবা অপমানিত বোধ করবে। নর্দামার কীট বলাই শ্রেয় হবে নাকি কি বললে এদের চরিত্রের সাথে খাপ খাবে সেটিই এখন গবেষণার বিষয়। তবে এটি সত্য যে,এদেরকে ঘৃণা করতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। এদের ছেলেমেয়ে, পরিবার পরিজন, আত্মীয়স্বজনদেরও ঘৃণার চোঁখে দেখতে হবে। এদের সাথে কোন প্রকার সখ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক থেকেও বিরত থাকতে হবে। সরকার, প্রশাসন আইন কোনটাই এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। জেল জুলুম এদের চরিত্র ভালো করতে পারবে না। সামাজিকভাবে বয়কট করাই হতে পারে এই কুখ্যাতদের নিয়ন্ত্রণের একমাত্র পথ। তাই আসুন আমরা সব ধরনের খারাপ মানুষদের ঘৃণা করি। ঘৃণা দিয়ে এদেরকে একঘরে করে ফেলি। ফল আসবেই একদিন।

লেখক: খুরশীদুল আলম শাহীন এর ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]