শুক্রবার ● ২৯ মে ২০২০ ● ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ৫ শওয়াল ১৪৪১
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ঈদের কেনাকাটার জন্য খুলছে না বসুন্ধরা সিটি
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২০, ৪:২১ পিএম আপডেট: ০৬.০৫.২০২০ ৪:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ঈদের কেনাকাটার জন্য খুলছে না বসুন্ধরা সিটি

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ঈদের কেনাকাটার জন্য খুলছে না বসুন্ধরা সিটি

করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে মানুষের জীবনের কথা চিন্তা করে আগামী ঈদ বাজারের জন্য খুলছে না দেশের সর্ববৃহৎ শপিং মল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স।  করোনা দূর্যোগে বরাবরের মত এবারো সরকার ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে গ্রুপটি। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শপিং মলটি না খোলার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের গণমাধ্যম উপদেষ্টা মোহম্মদ আবু তৈয়ব জানিয়েছেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও ঈদের সময় মার্কেট না খোলার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের সব সিদ্ধান্ত মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করবেন, এমন শর্তেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তারা।’

ঈদের সময় বসুন্ধরা সুপার মল না খোলার সিদ্ধান্তে সরকারের কোনও আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করা হবে না জানিয়ে মোহম্মদ আবু তৈয়ব জানান, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, এটি এই অঞ্চলের বৃহৎ শপিং মল। এখানে সীমিত পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করা বা দোকান খোলার কোনও সুযোগ নাই। ঈদের সময় এ মার্কেট খুললে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হবে। তা কোনওভাবেই রোধ করা যাবে না। আর এমনটি যদি হয়, তাহলে সেখানে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেবেই। এতে কোনও সন্দেহ নাই। তাই সাধারণ মানুষের জীবনের কথা চিন্তা করেই বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ঈদ বাজারে শপিং মলে ভিড়ে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই ঈদকে ঘিরে শপিং মল না খোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে রমজান ও ঈদ সামনে রেখে শর্তসাপেক্ষে আগামী ১০ মে থেকে দোকান-পাট ও শপিংমল খোলার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়, সারাদেশের দোকানপাট, শপিংমলগুলো আগামী ১০ মে থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।  শপিং মল ও বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আরো অধিক হারে সংক্রমণ ও বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় করোনাভাইরাসসংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, দোকানপাট ও মার্কেট খুললে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়বে।

উল্লেখ্য, দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দেওয়ার পাশাপাশি একটি হাসপাতালের জায়গা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে এ লড়াইয়ে সামনের কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে ৫ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে ২ হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো ট্রেড সেন্টারে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ ১২ এপ্রিল থেকে বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। হাসপাতালটি পুরোপুরি প্রস্তুত। সরকার চাইলে যেকোনো সময় এটি ব্যবহার করতে পারবে। আইসিইউ রোগীদের জন্য অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের কাজ বাকি ছিল সেটি প্রায় শেষ।

দেশের এ সংকটময় মুহূর্তে পুলিশ, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ লাখ ফেস মাস্ক এবং ৫ হাজার পিস পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ২৫ হাজার ব্যাগ দরিদ্রদের মধ্যে ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]