শুক্রবার ● ৫ জুন ২০২০ ● ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ১২ শওয়াল ১৪৪১
তারুণ্যের প্রতীক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ জামালের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
ড. কাজী এরতেজা হাসান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০, ১০:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

তারুণ্যের প্রতীক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ জামালের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

তারুণ্যের প্রতীক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ জামালের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামালের ৬৭তম জন্মদিন আজ (২৮ এপ্রিল)। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্বিত অফিসার। তিনি আমাদের কাছে তারুণ্যের প্রতীক হিসাবেও বেঁচে আছেন। ১৯৫৪ সালের এ দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্ম নেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তার হাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন শেখ জামাল।

শেখ জামাল ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে গৃহবন্দি হন তিনি। কিন্তু পালিয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কমিশন প্রাপ্ত অফিসার পদে নিয়োগ পান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামালের জন্মদিনে শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তিনি ছিলেন অকুতোভয় মানুষ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে গৃহবন্দি হন। কিন্তু সেই অবস্থায় পাক বাহিনীর সব পাহারা ফাঁকি  দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৫ আগস্ট ধানমণ্ডির তারকাঁটা দিয়ে ঘিরে রাখা আর পাকিস্তানি বাহিনীর তীক্ষ্ণ নজর রাখা বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান শেখ জামাল। ভারতে পৌঁছে আগরতলা থেকে কলকাতা হয়ে তিনি উত্তর প্রদেশের কালশীতে মুজিব বাহিনীর ৮০ জন নির্বাচিত তরুণের সঙ্গে ২১ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

৯ নম্বর সেক্টরে যোগ দিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য। ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে শেখ জামাল যে ঘরে থাকতেন, সেখানে রাইফেল কাঁধে তার মুক্তিযুদ্ধকালীন ছবির দৃঢ়তা আর সাহসে ভরা একজোড়া চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় মানুষটির ভেতরের সাহস আর দেশপ্রেমের উজ্জ্বল সম্মিলন। যুদ্ধশেষে স্বাধীন বাংলাদেশে সেই যুদ্ধের পোশাকেই শেখ জামাল ঢাকায় ফিরে আসেন স্বাধীনতার দু’দিন পরে ১৮ ডিসেম্বর। ভাইকে কাছে পেয়ে বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেলের পরম শান্তি, শান্তি বঙ্গমাতার চোখেও। তবে তখনও উদ্বেগ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্য। বাড়ি ফিরে সেদিন বিকেলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভায় যোগ দেন শেখ জামাল।

শেখ জামাল তারুণ্যে উদ্যম এক প্রাণের নাম। গিটারে সুর তুলতে খুবই পছন্দ ছিল।  সে কারণেই গিটার শিখতে ভর্তিও হয়েছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানে, ক্রিকেটার হিসেবেও ছিল তার সুনাম। ছিলেন রাজনীতিতে আগ্রহী ও সচেতন।  স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কমিশন প্রাপ্ত কৃতী অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
 
শেখ জামালের জন্মদিনে হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং ১৫ আগস্ট শহীদ সকলের আত্নার মাগফিরাত কামনা করছি।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা ও ডেইলি পিপলস টাইম। পরিচালক, এফবিসিসিআই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]