শুক্রবার ● ৫ জুন ২০২০ ● ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ১২ শওয়াল ১৪৪১
পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষ
ড. কাজী এরতেজা হাসান
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০, ৭:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষ

পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষ

করোনা পরিস্থিতির কারণে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলেও পবিত্র রমজানে চাহিদাকে পুঁজি করে সুযোগ নিচ্ছে কিছু মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী। বাধ্যতামূলক হলেও দোকানগুলোতে নেই মূল্য তালিকা। মানছে না আইন। সরবারহের অজুহাত দিয়ে ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দিচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। সবজি থেকে শুরু কওে চাল, ডাল, ফল-সব কিছুর দামই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষগুলো অসহায়ভাবে দিনানিপাত করেছে। এদিকে ভোক্তা আইন না মানায় শনিবার রাজধানীর ১১ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। তবুও থামছে না অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌড়াত্ম্য। এ অবস্থায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও বিপাকে পরেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেসব ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়াতে সাধারণ মানুষের দুর্ভে‍াগ কমছেই না। 

আমাদের ভোরের পাতার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে প্রকৃত চিত্রটা দেখে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাথিত হয়েছি। রমজানের শুরুতেই প্রতিবছরের ন্যায় চিনির দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজির রসুন এখন ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, এক সপ্তাহ আগেও যা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল। আমদানি করা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজির পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। প্রতিকেজি বিদেশি আদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা লকডাউনের অজুহাতে শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়েছে। বিশেষ করে করে ফলের দাম বেড়েছে হু হু করে। এক মাস আগে আঙুরের দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা পর্যন্ত। আপেল ছিল কেজিপ্রতি ১২০ টাকা থেকে প্রকারভেদে ১৪০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকায়। খুচরা বাজারে মাল্টা বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। একলাফে সেটা এখন ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। নাশপাতি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা থাকালেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। পেয়ারার দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

আর রমজানে সবচেয়ে বেশি কেনা হয় খেজুর। বর্তমানে সৌদি আরবের আজওয়া খেজুর প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়। মেকজেল খেজুর প্রতিকেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা। ইরানের কামরাঙ্গা মরিয়ম ১ হাজার, সাধারণ মরিয়ম ৯০০, তিউনিসিয়ার প্যাকেটজাত খেজুর ৪৬০, দাবাস ২২০, ফরিদা ৩০০, বড়ই ২২০, নাগাল ২০০ টাকা এবং বাংলা খেজুর ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি।


এদিকে মোটা আতপচাল প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা। গত সপ্তাহে যা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মোটা সেদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। আগে তা বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮০০ টাকায়। স্বর্ণা সেদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। ২ হাজার ১৫০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গুটি সেদ্ধ চাল। ১ হাজার ৯০০ টাকা দামের আতপচাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিবস্তা ৩০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মিনিকেট, জিরাশাইল, পাইজামসহ সব ধরনের চাল বস্তায় সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারের অবস্থা তো আরো খারাপ। খাসির মাংসের দাম এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬০০ টাকা প্রতিকেজি। সেখানে রোববার খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজিতে। বেড়েছে গরুর মাংসের দামও। মাত্র ২ দিনের ব্যবধানে ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে গিয়ে কেজিপ্রতি ৬০০ টাকা হয়েছে। 

এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করি। বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য সচিব যেভাবে বলেছিলেন, সেভাবে বাজার মনিটরিং হচ্ছে না। তাই বাজার মনিটরিং  আরো জোরদার করা ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের কারণে খেটে খাওয়া মানুষের হাতে টাকা নেই, এরপর পবিত্র রমজানে অসহায় মানুষকে অধিক দামে কিনতে হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অবশ্যই অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। বাজারে শৃঙ্খলা না ফিরলে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আরো অসহায় হয়ে পরবে দিন দিন। ফলে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্টও হতে পারে। সরকারকে এখনই বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা ও ডেইলি পিপলস টাইম। পরিচালক, এফবিসিসিআই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]