বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২০ ● ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ৪ শওয়াল ১৪৪১
১৪০০ বছরেও এমন ফাঁকা হয়নি আল-আকসা
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০, ১:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

১৪০০ বছরেও এমন ফাঁকা হয়নি আল-আকসা

১৪০০ বছরেও এমন ফাঁকা হয়নি আল-আকসা

গত ১৪০০ বছরেও এমন দৃশ্য দেখেনি পৃথিবী। এবার মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সেটাই দেখলো বিশ্ব মুসলিমদের কাছে অন্যতম একটি পবিত্র স্থান হিসেবে খ্যাত আল আকসা মসজিদ। প্রতি বছরই রমজান আসার আগেই এমনকি রোজার পুরোটা মাসজুড়ে আল আকসা মসজিদ ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। কিন্তু জেরুজালের সেই মসজিদটি এবছর জনমানবহীন, চারপাশে খা খা শূন্যতা, কোথায় কোনও পদচিহ্ন নেই। 

সাধারণত রোজা চলাকালে আল আকসা মসজিদটিতে হাজার হাজার মুসল্লি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রমজানে সেখানে মানুষের গমনাগমন বেড়ে যেতো। রোজা যতই শেষের দিকে যেতো মানুষের আগমন ততই বাড়তে থাকতো। রমজান মাসের শেষ দিকে কয়েকদিন লাখো মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তো মসজিদটিতে। 

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মুসলমানদের প্রথম কিবলাহ ও তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ গেল মার্চ মাসের মাঝামাখির দিকে বন্ধ করে দেয় জেরুজালেমের ওয়াকফ কমিটি। 

ওইসময় ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, জনগণ যেন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ কমিয়ে ফেলে সেজন্যই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত মসজিদের ভেতরে নামাজের স্থানগুলো বন্ধ থাকবে। যতটা সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। একইসঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে জনগণকে ঘরে বসে প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়। 

এবার যখন সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান শুরু হলো তখন আল-আকসা মসজিদে একজন মানুষেরও উপস্থিতি নেই। নামাজ পড়ার মতো কেউ নেই সেখানে। 

এ মুহূর্তে স্কুল-কলেজ, রেস্তোরাঁসহ জেরুজালেমে সবকিছুই বন্ধ রয়েছে। তবে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা কোনও দিন কল্পনাও করতে পারেননি রমজান মাসে আল আকসা মসজিদ বন্ধ থাকবে।

তারা জানিয়েছেন, এই রোজার সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এমনকি নিজ দেশেরও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা এখানে আসে। এ বছর কেউ আসছে না। আসবেও না। তাই তাদের সবারই মন খারাপ। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এবার ঈদ ঘিরেও সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে তেমন কোনও সাড়া কিংবা উৎসাহ নেই।

আল-আকসা মসজিদের পরিচালক শেখ ওমর আল-কিসোয়ানি জানিয়েছেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে মসজিদে নামাজ বন্ধ থাকলেও যথারীতি ৫ ওয়াক্ত আজান দেয়া হবে। এবার রোজায় সবাই তারাবির নামাজ বাড়িতেই পড়বেন। পরিস্থিতির কারণেই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]