বুধবার ● ৩ জুন ২০২০ ● ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ১০ শওয়াল ১৪৪১
উম্মতের খেদমত ও রক্তদান নিয়ে মাওলানা সাদ কান্ধলভি'র পয়গাম
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২০, ১১:২৫ পিএম আপডেট: ২১.০৪.২০২০ ১১:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

উম্মতের খেদমত ও রক্তদান নিয়ে মাওলানা সাদ কান্ধলভি'র পয়গাম

উম্মতের খেদমত ও রক্তদান নিয়ে মাওলানা সাদ কান্ধলভি'র পয়গাম

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মাবাদ,

আমার মুহতারাম দোস্ত বুজুর্গ আজিজো,

আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত এর পক্ষ থেকে যেই দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন সেটাকে সমস্ত মানবকুলের কাছে পৌঁছানোর এবং মানুষদেরকে ঐ দ্বীনের এর উপর আনার জন্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ এর কাছে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বেশি কার্যকরী মাধ্যম এটা ছিল যে, মানুষের সাথে দয়াশীলতা আর রহমতের আচরণ করা এবং নিজের জান-মাল খরচ করে মানুষের কাজে আসা।

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফরমান হলো এই যে, আমি আমার আনীত এলমে দ্বীনের তালিম দিব বাবার মত দয়াশীলতার সাথে। বর্তমান জামানায় হুজুর সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর সমস্ত উম্মতের ওপর এটাই জিম্মাদারী।
এই মুহূর্তে ছড়িয়ে পরা মহামারীর মধ্যে দ্বীন-ইসলামের পরিচয় তুলে ধরার জন্য আমরা যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই উসুলকে আপন করে নিই।

হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে যে, প্রত্যেক জানদার রুহের অর্থাৎ প্রাণীর উপর রহম করা এবং দয়া করার মধ্যে আজর আর সওয়াব রয়েছে।

এই মুহূর্তে মানুষের সমস্ত জরুরত- খানাপিনা আর অসহায় লোকদের বাড়িতে জরুরী প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছানো আর প্রত্যেক ক্ষুধার্তের খবর নেওয়া দরকার। এই সমস্ত আমলে খায়েরের ওপর সবচেয়ে আগে যে কাজটি রয়েছে তা হল: অসুস্থ রোগীর জান বাঁচানো এবং তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য নিজের জান মালের কোরবানি দেওয়া।

কেননা সহি হাদিসের মাহফুম এই যে, পুরা দুনিয়াতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঈমানওয়ালা একই শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো। যদি এই মুহূর্তে দুনিয়াতে কোন মানুষ এই করোনা ভাইরাসের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে, তাহলে তার এই রোগাক্রান্ত হওয়ার দ্বারা বাকি দুনিয়ার সমস্ত মানুষ যেন এই পরিমাণ প্রভাবিত হয় যেমন শরীরের কোন একটি অঙ্গের রোগাক্রান্ত হওয়ার দ্বারা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রভাবিত হয়।
উম্মতের খেদমত ও রক্তদান নিয়ে মাওলানা সাদ কান্ধলভি'র পয়গাম

উম্মতের খেদমত ও রক্তদান নিয়ে মাওলানা সাদ কান্ধলভি'র পয়গাম

কোন কুয়ার মধ্যে পড়ে যাওয়া ব্যক্তিকে কুয়া থেকে বের করা এবং তার জান বাঁচানো ওই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই ফরজ, যে তাকে বের করার সামর্থ্য রাখে।

এই কথা আমি এইজন্য আরজ করছি যে, প্রত্যেক মুসলমান আর বিশেষ করে আমাদের দাওয়াতের সাথী যাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং তাদের টেস্ট করা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ তাদের মধ্যে অধিকাংশেরই শুরু থেকেই নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।

কিন্তু কিছু সংখ্যক লোকের পজিটিভ আসার পরে তাদের চিকিৎসা করা হয়েছে আর তাদের মধ্যেও আলহামদুলিল্লাহ অধিকাংশই নেগেটিভ হয়ে সুস্থ হয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে কিছু লোক এখনো কোয়ারেন্টাইনে আছেন, এই সমস্ত লোকদের করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য প্লাজমা অর্থাৎ রক্ত দান করার জরুরত এসে পড়েছে।

এই জন্যই ঐ সমস্ত হযরত এর নিকট দরখাস্ত এই যে, যাদের কাছেই আমার এই পয়গাম পৌছে যায়, তারা সবাই যেন মনুষ্যত্বের ওপর দয়া-অনুগ্রহ করে আর রহম খেয়ে আল্লাহর রাজি খুশির আশায় মানুষের কাজে আসে এবং প্লাজমা অর্থাৎ রক্তদান করতে হুকুমত অর্থাৎ সরকারের সাহায্য করে।

ফাকাদ ওয়াসসালাম,
বান্দা মুহাম্মদ সা'আদ গুফিরালাহ
মারকাজ নিজামুদ্দিন,
নয়াদিল্লি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]