বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২০ ● ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ৪ শওয়াল ১৪৪১
​পৃথিবীর কাঁপুনি কমে গেছে, শান্ত সমুদ্র!
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০, ৫:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

​পৃথিবীর কাঁপুনি কমে গেছে, শান্ত সমুদ্র!

​পৃথিবীর কাঁপুনি কমে গেছে, শান্ত সমুদ্র!

বদলে গেছে পৃথিবীর গতিবিধি। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি মানুষ এখন ঘরবন্দি। এর ফলেই পৃথিবীর গতির এই পরিবর্তন। কারণ, মানুষ বাইরে যাচ্ছেনা বলে গাড়ি-ট্রেন চলছে খুবই কম, লাখ লাখ ভারি শিল্প-কারখানা এখন বন্ধ।

আর এর ফলে, ভূ-পৃষ্টের ওপর চাপ কমে গেছে অনেক। ফলে নাটকীয় পরিবর্তন হয়ে পৃথিবী এখন কম কাঁপছে। পৃথিবীর ওজন ছয় বিলিয়ন ট্রিলিয়ন টন। সেই বিবেচনায় এই পরিবর্তন বিস্ময়কর।

বিষয়টি প্রথম আবিষ্কার করেন বেলজিয়ামের রয়্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানীরা। তারা বলেন- ‘লকডাউনের আগের তুলনায় ১-২০ হার্টস ফ্রিকোয়েন্সিতে (বড় একটি অর্গানের আওয়াজের যে ফ্রিকোয়েন্সি) ভূ-পৃষ্ঠের দুলুনি এখন অনেক কম।’

শুধু বেলজিয়াম নয়, পৃথিবী পৃষ্ঠের ই পরিবর্তন সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ভূকম্পন কমার বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নেপালের ভূকম্প-বিদরা একই প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। প্যারিস ইন্সটিটিউট অব আর্থ ফিজিক্সের একজন গবেষক বলেছেন, ফ্রান্সের রাজধানীতে ভূকম্পন 'নাটকীয় মাত্রায়' কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস শহরে কাঁপুনি কমে যাওয়ার মাত্রা দেখে বিস্মিত হয়েছেন ক্যাল টেক ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

পৃথিবীতে শব্দও এখন অনেক কম। যে বিজ্ঞানীরা শব্দদূষণ মাপেন বা মহাসাগরের শব্দ নিয়ে গবেষণা করেন, তারা একবাক্যে বলছেন পৃথিবীতে আওয়াজ এখন অনেক কম।

পৃথিবীর কম্পন কমলেও একদম যে স্থির হয়ে গেছে তা বলা যাবে না। তবে গতিবিধির এই পরিবর্তনে উৎসাহিত হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের নানা গতিবিধির কারণে এত শব্দ তৈরি হয় যে পৃথিবী ও প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ তাদের জন্য কষ্টকর।

ওয়াশিংটনে ইনকর্পোরেটেড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর সিসমোলজির বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি ফ্রাসেটো বলেন, ‘এখন আপনি এমন সিগন্যাল পাচ্ছেন যাতে কোলাহল অনেক কম। ফলে ঐ সব সিগন্যালের ডেটা বিশ্লেষণ এখন সহজতর হচ্ছে।’

আর কিছু বিজ্ঞানী সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছেন যে কেন একটি এলাকায় ভূকম্পন কমেছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের স্টিভেন হিক্স বলছেন লন্ডন এবং ওয়েলসের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মহাসড়ক এম-ফোরের ওপর গাড়ি চলাচল কমে যাওয়ায় ঐ মহাসড়কের দুই ধারের এলাকাগুলোতে ভূকম্পন অনেক কমে গেছে।

তবে শব্দ এবং ভূকম্পনের ওঠা-নামা একদম নতুন কিছু নয়। বছরের একেক সময়, দিনের একেক সময় মানুষের গতিবিধি বাড়ে-কমে। উৎসব চলাকালীন বা ছুটি চলাকালীন শব্দ বা ভূ-পৃষ্ঠের দুলুনি কমে যায়। তেমনি দিনের চেয়ে রাতের বেলা এগুলো কমে যায়।

তবে এখন যেটা হচ্ছে তা হলো সারা পৃথিবীব্যাপী কয়েক সপ্তাহ বা কোথাও কোথাও মাস জুড়ে মানুষের গতিবিধি অনেকটা কম। আর তাতে পৃথিবীর ওপর যে চাপ কমেছে তার নজির বিরল।

শুধু পৃথিবীর গতিবিধির পরিবর্তনই ঘটেনি, ঘটেছে পরিষ্কার বাতাস, শান্ত সমুদ্রের অবস্থা। স্যাটেলাইটের চিত্রে দেখা গেছে, পরিবেশ দূষণের পেছনে যার বড় ভূমিকা রয়েছে সেই নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস এখন বাতাসে অনেক কম। কারণ বাস-ট্রাক-গাড়ি, কারখানার ধোঁয়া এখন অনেক কম।
 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]