শুক্রবার ● ৫ জুন ২০২০ ● ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ১২ শওয়াল ১৪৪১
রুপসায় ত্রাণ নিয়ে বিক্ষোভের নেপথ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিনা কামাল
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০, ৯:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রুপসায় ত্রাণ নিয়ে বিক্ষোভের নেপথ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিনা কামাল

রুপসায় ত্রাণ নিয়ে বিক্ষোভের নেপথ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিনা কামাল

গত মঙ্গলবার খুলনার রূপসা উপজেলায় ত্রাণ ও সাহায্যের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিল এলাকাবাসী। ক্ষুধার জ্বালায় রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন বলেন জানান তারা।  ১৪ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে রূপসা উপজেলার পূর্ব রূপসা বাজার পার্শ্ববর্তী আদর্শগলির শত শত নারী পুরুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেয়।  করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব না মেনে তারা বাজারের বাঁশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল করতে করতে পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা খুলনা-মোংলা মহাসড়কে সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি পেয়ে তাদের কাছে দাবি তুলে ধরেন।

‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় লে: তালহার নেতৃত্বে টহল ডিউটি করার সময় রুপসার ৩ নং নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা আদর্শ গলিতে পৌঁছালে ঘটনাটি ঘটে। 

অধিকতর অনুসন্ধানে জানা যায়, পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রাপ্তির পরও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের পথে নামিয়েছিল স্থানীয় নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল।  তিনি এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ত্রাণ নিয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন। সাধারণ মানুষের জন্য সরকার কোনো ত্রাণ দেবে না-এমন উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালান তিনি।

কে এই মিনা কামাল:  খুলনার রূপসা উপজেলার ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের পীর হুজুর খ্যাত মিনহাজ উদ্দিন ওরফে মিনা মৌলভির দ্বিতীয় স্ত্রীর বড় ছেলে মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল। ছোটবেলায়ই তিনি জুয়া ও গাঁজায় আসক্ত হয়ে অপরাধ জগতে পা রাখেন। একপর্যায়ে সর্বহারা পার্টির অন্যতম ভয়ংকর ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি পান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লাহাট বাজারের কাছে বাস ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজন চিংড়ির পোনা ব্যবসায়ীকে খুন করে লুটে নেওয়া হয় আট লাখ টাকা। ওই ডাকাতি পরিকল্পনার মূল হোতা মিনা কামাল। ওই ডাকাতির পর থেকে ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মিনা কামাল। গড়ে তোলেন ভয়ংকর সন্ত্রাসী বাহিনী। একটি হত্যা মামলায় প্রায় আট বছর কারাভোগ করে ২০০৯ সালে জামিনে বেরিয়ে এসে নৈহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে জোর করে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর তাঁর ভয়ংকর রূপ আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এক সময়ের বিএনপির এই ক্যাডার মিনা কামাল, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে এলাকায় টিকে থাকতে যুবলীগে যোগদান করেন। যুবলীগে যোগদান করলেও মূলত তিনি বিএনপি-জামাতের হয়ে কাজ করেন। তার অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতা কর্মীরা। জেলা পুলিশের শীর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম রয়েছে।  তাঁর ভয়ংকর কর্মকাণ্ড খুলনার এরশাদ শিকদারকেও হার মানিয়েছে। জেলা পুলিশের শীর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। আবার দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করেন মিনা কামাল। ২৫টির বেশি (৯টি খুন) মামলা, শতাধিক জিডি থাকা মিনা কামালের কাছে প্রশাসন অসহায়। নিজ বাড়িতে বিচারালয়ের নামে বসিয়েছেন টর্চার সেল। সেখানে বিচার-সালিসের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে চালানো হয় অবর্ণনীয় শারীরিক-মানসিক নির্যাতন। 

বিচারের নামে হাতুড়িপেটা করে হাত-পা ও পাঁজরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়। থেঁতলে দেওয়া হয় শরীরের স্পর্শকাতর স্থান। এসব অপকর্মে লিপ্ত তাঁর সহযোগী ২০ জনের সশস্ত্র বাহিনী। মিনা কামাল ও তাঁর বাহিনীর হাতে গত ১০ বছরে দুই শতাধিক মানুষ নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। খুন হয়েছেন ৯ জন। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ১০ জন। ভয়ে-আতঙ্কে সহায়-সম্বল রেখে পরিবার নিয়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে কয়েক শ পরিবার। মিনা কামালের সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি রূপসার ৫০ হাজার মানুষ। দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক বাণিজ্য করে গড়ে তুলেছেন বিপুল অবৈধ সম্পদ।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]