বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২০ ● ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ৪ শওয়াল ১৪৪১
কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ চালানো যেতে পারে
নিজস্ব প্রতিবেদ
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৩২ এএম | অনলাইন সংস্করণ

কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ চালানো যেতে পারে

কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ চালানো যেতে পারে

করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে যখন মানুষজনকে ঘরে রাখার জন্য সরকার সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছে, এমন সময় রাস্তায় শ্রমিকদের ঢল দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নানামুখী সমালোচনার পর পোশাক কারখানা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ। কিন্তু পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, রপ্তানিমুখী শিল্প খুব বেশিদিন বন্ধ রাখলে শ্রমিকদের বেতন দেয়া সম্ভব হবে না মালিকপক্ষের। এ অবস্থায় শ্রমিকদের না খেয়ে মরার উপক্রমও হতে পারে। 

ইতিমধ্যেই পোশাক খাতের ১১০৮ টি কারখানার ৯৪৭.৮৮ মিলিয়ন পিস অর্ডার বাতিল করা হয়েছে। ৩.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার বাতিলের কারণে  ২০ লাখ ১৯ হাজার শ্রমিকের ভাগ্যে কি আছে তা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। 

পোশাক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন,  এভাবে চলতে থাকলে পুরো পোশাক শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে। সবচে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের ওপরই। সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হবে, অপরাধের মাত্রাও বাড়তে পারে। 

তাই যেসব কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে সেসব কারখানা চালু রাখার দাবিও করেছেন অনেক ব্যবসায়ী এবং খোদ শ্রমিকরাও। 

গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমএইর সভাপতি রুবানা হক বলছেন, রাস্তার সব শ্রমিক গার্মেন্টস শ্রমিক নয়। যে কারণে গার্মেন্টস মালিকদের দায়ী করা ঠিক হবে না। কারণ, ২৫ মার্চ গণপরিবহন বন্ধ হয়েছে। আর আমরা ২৬ মার্চের পর গার্মেন্টস বন্ধ করেছি। আর আমাদের অধিকাংশ শ্রমিক কারখানার আশে পাশে থাকে। কাজেই সংক্রমণ বাড়ানোর জন্য গার্মেন্টস খোলা হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকানো আমাদের প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন নিয়ে কোনও রকম অনীহার সুযোগ নেই। তৃতীয়ত, শ্রমিক যদি কোনও কারণে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে মানবিক বিবেচনায় তার চাকরিটি যেন থাকে। বিজিএমইএর সব সদস্যের কাছে এই অনুরোধ আমি করবো।

তিনি বলেন, কলকারখানা এবং পরিদর্শন অধিদফতর আমাদের যে সার্কুলার দিয়েছিলেন তাতে বলা আছে, যেসব রফতানি মুখী প্রতিষ্ঠানে অর্ডার আছে এবং উৎপাদন চলমান আছে, সেসব কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা একেবারে সুনিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে শিল্প কলকারখানা চালু রাখতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। 

এদিকে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ রাখার যে নির্দেশনা নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করেছে নিট তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। গত ২ এপ্রিল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি জানায়, ৪ এপ্রিলের পর থেকে কারখানা মালিকরা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারবেন, কোনও বিধি নিষেধ থাকছে না।

সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশে বলা হয়, ৪ এপ্রিলের পর থেকে কারখানা খুলবেন কিনা তা একান্তই আপনাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারখানা খুললে সেক্ষেত্রে অবশ্যই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য সকল স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রমিকের সব ধরনের দায়-দায়িত্ব মালিকদের।

কারখানার মালিকদেরকে আরও বলা হয়, কারখানা পরিচালনাকালীন সময়ে যেমনভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে, তেমনি ছুটির পরে ফ্যাক্টরি খোলার সময় অবশ্যই শ্রমিক-কর্মকর্তাসহ সকলের মেডিক্যাল চেকআপ করতে হবে। তাদের কোনও রোগ না থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়ে তবেই ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করতে দিন। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]