বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২০ ● ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ৪ শওয়াল ১৪৪১
করোনার লকডাউনে দশমিনায় আশ্রায়নে মানবেতর জীবন যাপন
প্রতিনিধি দশমিনা
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২০, ১১:০৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনার লকডাউনে দশমিনায় আশ্রায়নে মানবেতর জীবন যাপন

করোনার লকডাউনে দশমিনায় আশ্রায়নে মানবেতর জীবন যাপন

করোনার প্রভাব পড়েছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ১৫টি আশ্রায়নে। কাজ নেই, খাবার নেই, জড়াজীর্ণ ঘরে বসবাস। চারদিকে যেন হাহাকার। সরকারের খাদ্য সহায়তাও মেলে না এদের কপালে। করোনা ভাইরাসের সরকার ঘোষিত লকডাউনে ১০দিন কেমন আছেন আশ্রায়ন প্রকল্পের মানুষগুলো। সরেজমিন ঘুরে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে আশ্রায়নের আশ্রিয়ত মানুষের জীবন ধারনের করুন চিত্র পাওয়া যায়।    

নজির (৫০) পেশায় সুইপার। তার পরিবারে ৮জন লোক। করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের কারনে গত ১০দিনে তাহার কোন আয় রোজগার নাই। নজিরের মত দিনমজুর সালাম ও মস্তফাসহ ৩টি পরিবারে ২২জনের বসবাস উপজেলা সদর নিজাবাদ-লক্ষীপুর আশ্রায়ন প্রকল্পে। 

তারা অভিযোগ করে বলেন, হুনছি সরকার ত্রান দ্যায়। আমাগোরে কেউ ত্রান দ্যায় না। ইতিপূবে ৪০টি পরিবারের মধ্যে ৩৭টি পরিবার জীবন জীবিকা নির্বাহে অন্যত্রে চলে গেছে। কথা হয় সৈয়দ জাফর আদর্শ গ্রামের মোকলেচ সিকদার, মোস্তাফা , রওশন আলী ও মকবুল সাথে। তারা বলেন, এই আদর্শ গ্রামে ৩০টি পরিবারের মধ্যে ২২টি পরিবারে প্রায় দু’শতাধিক লোকের বসবাস করছে। বসবাসরতদের মধ্যে অধিকাংশই, জেলে ও দিনমজুর। জেলে সম্প্রদায়রা ১মার্চ থেকে চলতি মাস পর্যন্ত নদীতে অবরোধের কারনে মাছ ধরতে পারছে না।  অপরদিকে শ্রমিকরা করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। নেই ঘরে খাবার। 

তারা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন আইলে হ্যারা ভোট চায়। এ্যাহন আমাগোরে কেউ সাহায্য সহযোগিতা করে না। তারা আরো বলেন, সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু আমাগো কোন ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না । ভাঙ্গাচোড়া ছোট ঘরে কোন রকম তালিতুলি দিয়া অ্যামাগে থাকতে হয়। সরকার ঘর দিলেও জীবন ধারনের কোন ব্যবস্থ্য গ্রহন করে নাই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ১৫টি আশ্রয়ন প্রকল্প, আদর্শ ও গুচ্ছ গ্রাম রয়েছে। এসব আশ্রয়নে অসহায় দুস্থ্য ৭শ’ ২২টি পরিবার বসবাস করে। সরেজেিমন ঘুরে দেখা যায়, আশ্রায়ন প্রকল্পগুলো সংস্কার বা পূর্ণনিমার্ণ না করায় জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আর জড়াজীর্ণ ওইসব ভবনে দুঃস্থ অসহায় ও নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারা মানুষগুলো বছরের পর বছর প্রকৃতির বৈরতায় সাথে একরকম লড়াই করেই বেচেঁ আছে। 

দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড. ইকবাল মাহামুদ লিটন জানান, আশ্রায়ন প্রকল্পের হতদরিদ্রদের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই ত্রান পাবে। 
করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের কারনে আশ্রায়ন প্রকল্পের শ্রমজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা ত্রান পাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদাউস জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওইসব তালিকায় আশ্রায়নের লোকজনের নাম আছে কিনা দেখে ত্রান দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]