বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২০ ● ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ৪ শওয়াল ১৪৪১
বয়স্করা কী করবেন
করোনায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন বয়স্করা। তাদের জন্য চাই বাড়তি সতর্কতা। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অনারারি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. রায়হান উদ্দিন
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ১২:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বয়স্করা কী করবেন

বয়স্করা কী করবেন

সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার
প্রতিবার বাইরে থেকে এসে সবার আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নেবেন কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। মনে রাখবেন, সাবান হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চেয়ে বেশি কার্যকর। এই ধোয়ার কাজটি অবশ্যই বাথরুমে দরজা বন্ধ করে করবেন। ডাইনিং রুমে যে একটি বিশেষ বেসিন থাকে সেখানে বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়া থেকে আপাতত বিরত থাকুন। সবচেয়ে ভালো হবে বাসায় প্রবেশের দরজার বাইরে একটা নির্দিষ্ট স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রেখে দেওয়া এবং ব্যবহার করা।

কাপড় আলাদা করা
বাইরের পরা কাপড় অবশ্যই আলাদা বালতিতে, পানিতে গুঁড়া সাবান দিয়ে ভিজিয়ে রাখবেন। আপনার বাইরে পরা কাপড় বাসার শিশু, বৃদ্ধের কাপড়ের সঙ্গে একই বালতিতে ধোয়া থেকে বিরত থাকুন।

কাছে রাখুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার
ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় যেখানে সাবান-পানি পাওয়া যাবে না সেখানে যেমন—বাসে, দোকানে, অফিসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন।

মাস্ক ব্যবহার করুন
মাস্ক ব্যবহার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা রয়েছে। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার মতে, কেউ যদি কভিড-১৯-এর উপসর্গ (যেমন জ্বর, গলাব্যথা, কাশি) অনুভব করেন সেসব ব্যক্তির এবং সব স্বাস্থ্যকর্মীকে মাস্ক অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না, তবে ভাইরাসের রূপ পরিবর্তন হলে তখন বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। তাই বাইরে বের হলে জনসমাগমস্থলে মাস্ক ব্যবহার করা উত্তম এবং নিরাপদ। মাস্ক ব্যবহারের আরেকটি উপকারী দিক হচ্ছে অবচেতন মনে নাকে-মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা যায়।

নাক মুখ চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন
কভিড-১৯ ভাইরাসটি লেগে আছে এ রকম জিনিস স্পর্শ করলেই কিন্তু আপনি আক্রান্ত হবেন না। ভাইরাস আছে এমন জায়গা স্পর্শ করার পর আপনি যদি হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করেন, তাহলেই এই ভাইরাসটি আপনার শরীরে ঢুকে পড়ে। তাই করোনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হচ্ছে হাত দিয়ে মুখ, নাক ও চোখ স্পর্শ না করা।

শিষ্টাচার মেনে চলুন
হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করুন। এক টিস্যু একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না। টিস্যু না থাকলে নিজের বাহুর বা কনুইয়ের মাঝে মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিন।

ঘরে থাকুন
এই কয়েক দিন সামাজিকতা রক্ষার জন্য অযথা কারো বাসায় দেখা করতে বা বেড়াতে যাবেন না। আপনি সুস্থ হলেও না। কেউ অসুস্থ হলে তার জন্য ঘরে বসে দোয়া করুন। হাসপাতালে নিকটাত্মীয় ভর্তি থাকলে তার পরিচর্যাকারী ছাড়া কেউ দেখতে যাবেন না। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দর্শনার্থী ভিজিট সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিয়ে, জন্মদিন, আকিকাসহ বিভিন্ন দাওয়াতে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বেশি দরকার না হলে সেলুন বা পার্লারে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। নখ কেটে রাখুন।

ভিটামিন ‘সি’যুক্ত ফল খান
এই সময় যত বেশি পারেন ভিটামিন ‘সি’যুক্ত ফল (কমলা, লেবু, মাল্টা, পেয়ারা) খান। কারণ ভিটামিন ‘সি’ ঠাণ্ডা, সর্দি ও ফ্লু প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ সময় প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

আতঙ্কিত হবেন না
এই সময় বয়স্করা বেশি মারা যাচ্ছে ভেবে ভীত হবেন না। মনে সাহস রাখুন, সচেতন থাকুন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে হাসপাতাল বা ডাক্তারের চেম্বারে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ হাসপাতাল বা চেম্বার এখন সংক্রামক স্থান বা ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। প্রয়োজনে হটলাইনে ফোন করুন বা পরিচিত চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলুন।

মোবাইল ব্যবহারে সতর্কতা
মোবাইল ফোন প্রতিদিন অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। এটা জীবাণু ছড়ানোর প্রধান দুটি মাধ্যম মুখ ও হাতকে একদম কাছাকাছি নিয়ে আসে। বাজারে অ্যালকোহলিক প্যাড কিনতে পাওয়া যায়। এটা দিয়ে মোবাইল জীবাণুমুক্ত করা যায়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]