শুক্রবার ● ৩ এপ্রিল ২০২০ ● ১৯ চৈত্র ১৪২৬ ● ৮ শাবান ১৪৪১
'প্রতিজ্ঞা করেছিলাম নেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বাসায় যাব না'
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ৫:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

'প্রতিজ্ঞা করেছিলাম নেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বাসায় যাব না'

'প্রতিজ্ঞা করেছিলাম নেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বাসায় যাব না'

২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে বাসা ছেড়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় রাত্রিযাপন করে আসছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন দলের নেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি কার্যালয় ছেড়ে যাবেন না। তিনি কথা রাখলেন। ৭৮৭ দিন পর ফিরে গেলেন নিজ বাসায়।

যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যতদিন পর্যন্ত অবৈধ সরকারের কারাগার হতে মুক্ত না হন ততদিন পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়েই থাকব। কষ্ট করে থেকেছি। এই সময়ের মধ্যে আমি দলের হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থেকেছি। দেশনেত্রী কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় আমি চেষ্টা করেছি নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে।

তিনি বলেন, দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন সব নির্দেশ মেনে চলেন। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সবাইকে চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে ঘরে থাকতে হবে।

২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন। দেশের রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাসা বাড়ি ছেড়ে অবস্থান নেন দলীয় কার্যালয়ে।

৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। সেদিন আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দিলে ওইদিনই পুরনো ঢাকার সাবেক পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়।

এরআগে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বহু মামলা দায়ের হয়। ফলে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। অবশ্য সেই বছরই ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর হোটেল লা-মেরিডিনে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন খালেদা জিয়া। এরপর একই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি গুলশানে নিজ কার্যালয়ে সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি। এহেন পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে শঙ্কা তৈরি হয়।

সেই আশঙ্কা থেকেই রিজভী নিজে থেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি দলীয় কার্যালয়েই অবস্থান নেবেন। একপর্যায়ে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় ছোট একটি রুমে (সাড়ে ৪ বাই সাড়ে ৯ ফুট) কক্ষে রাত্রিযাপন করে আসছিলেন রিজভী। সেখানে নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীরা তার সাথে কুশল বিনিময় ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য যাতায়াত করতেন। এরইমধ্যে গড়িয়েছে বহু সময়। যা একে একে ৭৮৭ দিন পার হলো।

অবশেষে সরকারের নির্বাহী আদেশে গত ২৫ মার্চ (বুধবার) ছয় মাসের জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপরই রিজভী সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আর দলীয় কার্যালয়ে রাত্রিযাপন করবেন না। পরে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয় ছেড়ে রাজধানীর ভাড়া বাসায় যান রিজভী। দলীয় কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের কর্মকর্তা কমচারীরা তাকে বিদায় জানান। তারা রিজভীর জন্য বিশেষভাবে দোয়া ও শুভকামনা করেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]