শুক্রবার ● ৩ এপ্রিল ২০২০ ● ১৯ চৈত্র ১৪২৬ ● ৮ শাবান ১৪৪১
খালেদার মুক্তি: প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতা, সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত
ড. কাজী এরতেজা হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০, ১০:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

খালেদার মুক্তি: প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতা, সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত

খালেদার মুক্তি: প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতা, সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত

প্রকৃত রাজনীতিবিদের কাছে সবসময়ই নীতি আদর্শ বড় কথা। বিরোধী মত এবং পথের অনুসারীরাও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন না। তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল বুধবার বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। যদিও তার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন মিডিয়ায় পক্ষে বিপক্ষে অনেক কিছুই ছাপা হচ্ছিল। তবে এদিন সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে। গতকাল বিকেলেই তিনি মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় উঠেছেন। শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল বিকেল ৩টার পর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। 

বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক বদান্যতায় বেগম জিয়া মুক্তিলাভ করলেন। এ জন্য নিশ্চয় বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে গতকাল গণমাধ্যমের কাছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অত্যন্ত প্রাজ্ঞবান বক্তব্য রেখেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বেগম জিয়ার সাজা স্থগিতের উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তিনি উদারনৈতিক মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আশা করি বিএনপি এ বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আমাদের সবার অভিন্ন শত্রু করোনা মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত সর্বাত্মক ও সম্মিলিত উদ্যোগে সহযোগী হবেন। আমরা আশাকরি বৈশ্বিক ও দেশের ভয়াবহ এ সংকটকালে সব নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে মানুষকে বাঁচানোর অভিন্ন পথ বেছে নেবে বিএনপি। বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করা হয়েছে। তার বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী ৪০১(১) ধারা অনুযায়ী ৬ মাসের জন্য সাজা স্থগিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রজ্ঞা, সাহসিকতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।’ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞ ও দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন, তা উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এদেশের মানুষ চিন্তায় নেবে যে গণতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটা উদার রাজনীতির প্রবক্তা। অথচ বেগম জিয়া জেলে থাকা অবস্থায় বিএনপি জল কম ঘোলা করেনি। তার আইনজীবীরা আইনি লড়াইকে পাশ কাটিয়ে নানা ধরনের হাস্যকর কথাবার্তা বলে দেশের মানুষকে চরম বিভ্রান্তিতে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এতে যে তারা খুব একটা সুবিধে করতে পেরেছে তা নয়। কিন্তু  বেগম জিয়ার জেল খাটার ঘটনা নিয়ে অসত্য ভাষণ দিয়ে সরকারকে বেকাদায় ফেলার নানা কর্মকা- এদেশের মানুষ লক্ষ্য করেছে। আমরাও তার প্রত্যক্ষদর্শী। এ জাতীয় কর্মকা- থেকে বিএনপি নিজেদের সংযত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।  

গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দ-িত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে চিকিৎসার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়; গত বছরের এপ্রিল থেকে সেখানেই ছিলেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদ- নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যেতে হয় খালেদা জিয়াকে। শুরুতে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে কারা তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেখে ৭৫ বছর বয়সী এই নেত্রীকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়।

বর্তমানে দেশ করোনায় আক্রান্ত। দেশে যে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এর মধ্যে বেগম জিয়া মুক্তি পেলেন, এটা একটি ভালো দৃষ্টান্ত বলে আমরা মনে করি। বেগম জিয়া এখন জেলের বাইরে থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা নতুন করে দেশে কোনো ধরনের গোলযোগের সৃষ্টি করবে না বলেও আমরা বিশ্বাস করি। তবে বিএনপিকে বিশ্বাস করা অনেক কঠিন। তাদের অতীতের অনেক ভয়ঙ্কর কর্মকা-ের রেকর্ড রয়েছে। দেশে জ¦ালাও পোড়াওর মত ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করে মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পেট্রোল বোমায় শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে বিএনপি এবং তার অনুগত জামায়াত। সেসব ঘটনার কথা এদেশের মানুষ এখনো মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। তারা নতুন করে আবার এ জাতীয় কর্মকা-ে জড়াবে কিনা তাও সুনিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এ জাতীয় কর্মকাণ্ডে নিজেদের না জড়িয়ে শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। রাজনীতি হোক জনগণের কল্যাণে দেশের মঙ্গলে। যা মানবকল্যাণে ব্যয়িত হবে।  

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ক্ষমতার যে অপব্যবহার করেছেন, তা দেশের মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।  তার ভুল নেতৃত্বের কারণেই এবং স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক জামায়াতের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে যাওয়ায় নিজের দলকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের কোনো উন্নতি করতে সক্ষম হননি। অতীত থেকে তিনি শিক্ষা নেবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করি।  

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]