শুক্রবার ● ৩ এপ্রিল ২০২০ ● ১৯ চৈত্র ১৪২৬ ● ৮ শাবান ১৪৪১
শিশুদের ডায়রিয়ায় কী করবেন
ডা. ইফতেখার উল হক খান
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০১৯, ১:৩৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শিশুদের ডায়রিয়ায় কী করবেন

শিশুদের ডায়রিয়ায় কী করবেন

শিশুদের ডায়রিয়া বড়দের তুলনায় বেশি হয়। যে শিশুরা মায়ের বুকের দুধ খাচ্ছে তাতে ল্যাক্সেটিভ উপাদান বেশি থাকায় শিশুরা ঘন ঘন পাতলা পায়খানা করে। মারাত্মক যেটি সেটি হলো শিশুরা বিভিন্ন জিনিস ও আঙুল মুখে দেয় এবং তা থেকে সংক্রমণে ডায়রিয়া হয়। আরেকটি হচ্ছে রোটা ভাইরাস ডায়রিয়া। এই ভাইরাসগুলো সাধারণত সেসব শিশুকে আক্রমণ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। সাধারণত ছয় মাস থেকে দু-তিন বছরের বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়। যে শিশুরা মায়ের বুকের দুধ খায় তাদের ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে, কারণ মায়ের দুধ থেকে তারা অ্যান্টিবডি পাচ্ছে। রোটা ভাইরাসের টিকা ও দু’বছর বয়সের পর কলেরার ভ্যাকসিন দিলে শিশুদের ডায়রিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শিশু তিন বা এর চেয়ে বেশি পাতলা বা তরল পায়খানা করলে তাকে ডায়রিয়া বলে। কোনো শিশু যদি স্বাভাবিকভাবে যতবার পায়খানা করে তার চেয়ে বেশি হলেও আমরা তাকে ডায়রিয়া বা পেটের ব্যাধি বলি।

তিন-চার বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সি বাচ্চারা বাজারের প্যাকেটজাত গøুকোজসমৃদ্ধ পানীয় বা জুস গ্রহণ করলে তাদেরও পাতলা পায়খানা হয়, একে অসমোটিক ডায়রিয়া বলে। একে কিন্তু ডায়রিয়ার সংজ্ঞা অনুযায়ী লেভেল করা হয় না। ডায়রিয়া হলে যে শিশুরা বুকের দুধ খাচ্ছে তা চালিয়ে যেতে হবে, কোনোক্রমেই বন্ধ করা যাবে না। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ-ছয়বার করতে হবে। প্রতিবার পাতলা পায়খানা ও বমির পর খাবার স্যালাইন অবশ্যই খাওয়াতে হবে। দু’বছরের নিচের বাচ্চাদের ৫০-১০০ মিলিলিটার, দুই-দশ বছরের বাচ্চাদের ১০০-২০ মিলিলিটার, আড়াই আউন্সের কাপে দু’বছরের নিচের বাচ্চাদের আধা থেকে এক কাপ, দুই-দশ বছরের বাচ্চাদের ১-২ কাপ, দশ বছরের বেশি বয়সের বাচ্চাদের যত পারে তত স্যালাইন খাওয়া উচিত। কখন চিকিৎসককে দেখাবেন : বাচ্চা যদি কিছুই খেতে না পারে ও বমি করে ফেলে দেয়, পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে, শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণ অনেক কমে গেলে, চোখ অক্ষিকোটরে ঢুকে গেলে, জ্বর শুষ্ক হয়ে গেলে, স্যালাইন ঠিকমতো খাচ্ছে না কি কম খাচ্ছে নাকি অতি দ্রুততার সঙ্গে খাচ্ছে, শিশুর জ্বর হলে অবশ্যই কাছের চিকিৎসক বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। শিশুর যদি চেতনা হ্রাস পায়, অধিক অস্থির বা ইরিটেবল বা খিটখিটে হয়ে যায় বা খিঁচুনি হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে লবণ-পানির পরিমাণ কমে গিয়ে ডিসইলেক্ট্রোলাইটেসিয়া হয়। এটি একটি মারাত্মক অবস্থা। এই উপসর্গগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক হলে আর ঘরে বসে থাকবেন না।

চিকিৎসকদের করণীয় : এ ধরনের শিশু চিকিৎসকের কাছে এলে প্রথমেই অ্যাসেস বা মূল্যায়ন করা হবে এটি কি একিউট ওয়াটেরি ডায়রিয়া বা হঠাৎ করে অধিকমাত্রায় পানির মতো ডায়রিয়া নাকি ডিসেন্ট্রি বা আমাশয়, অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন আছে কি নেই। সবচেয়ে জরুরি ডিহাইড্রেশন বা পানিস্বল্পতার মাত্রা ভালোভাবে দেখতে হবে। দেখতে হয় শুধু মুখে খাওয়ার স্যালাইন দিলেই উন্নতি হবে কি না। এ ক্ষেত্রে মা-বাবাকে বাসায় গিয়ে কী করণীয় তার উপদেশ দেওয়া হয়। খাবার স্যালাইন চালিয়ে যেতে বলা হয়। বাসার স্বাভাবিক খাবার দিতে বলা হয় এবং জানানো হয়, ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে শিশুর এ অবস্থা থেকে উন্নতি হবে। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে বাচ্চাদের ৪ ঘণ্টা হাসপাতালে রেখে স্যালাইন দেওয়া হয় ও ৪ ঘণ্টা পর আবার অ্যাসেস করা হয়। যদি রোগীর অবস্থার উন্নতি হয় তাহলে বাড়ি যেতে বলা হয়। যদি না হয় তবে হাসপাতালে ভর্তি করে নিরাপদে স্যালাইন দেওয়া হয় এবং তীব্র মাত্রার ডায়রিয়ার মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে শীতকালে বেশিরভাগ ডায়রিয়া রোটা ভাইরাসজনিত কারণে হয়ে থাকে, যা পানিবাহিত রোগ নয়। বাচ্চারা প্রাথমিকভাবে প্রচন্ড বমি করে এবং ২৪-৪৮ ঘণ্টায় বমি কমে গিয়ে ডায়রিয়া শুরু হয়। গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়া সাধারণত পানিবাহিত যেমন ভিব্রিও কলেরি ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া থেকে হয়।

প্রতিরোধে করণীয় : বাচ্চাকে মায়ের বুকের দুধ ছয় মাস পর্যন্ত দিতে হবে এবং ছয় মাস পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার হিসেবে ঘরের স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পার্সোনাল হাইজিন পরিবারের সবাইকে মেনে চলতে হবে। শিশুকে কখনও বাসি খাবার দেওয়া যাবে না অর্থাৎ ঢেকে রাখা ফ্রেশ খাবার দিতে হবে। বাইরের কেনা খাবার দেওয়া যাবে না। নখ কেটে রাখতে হবে। ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়া যায়।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, কুমিল্লা ট্রমা সেন্টার

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]