বুধবার ● ৩ জুন ২০২০ ● ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ১০ শওয়াল ১৪৪১
জেলার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়ে খুবই আনন্দিত: অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ
জাহানুল করিম শিমুল
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৯, ১১:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ

অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ

ছোট বেলা থেকেই স্বাধীনচেতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত ছিলেন অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান। খেলাধুলার প্রতিও ছিল দারুণ আকর্ষণ। নিজেও ছিলেন একজন কৃতী ক্রীড়াবিদ। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবা করার মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতি, পরবর্তী সময়ে যুবলীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়েও ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও সফল। ঢাবির কৃতী ক্রীড়াবিদ ইউসুফ খান পাঠান ডাকসু নির্বাচনেও সর্বোচ্চ ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়ে জহিরুল হক হলের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। রাজনীতি করতে গিয়ে জেলও খেটেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মূল্যায়ন করে ২০১৬ সালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়নে কাজ করার বিরাট সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। মানুষ ও জেলার উন্নয়নে কাজ করতে পেরে তিনি তৃপ্ত। তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

 ২০ মার্চ দুপুরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান দৈনিক সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের শুরুতেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার জানান। তিনি তার জীবনী বলতে গিয়ে বলেন, তিনি ১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৪ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তারপর তিনি ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে পড়াশোনা শেষ করেন।

স্কুল জীবন থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তার ভালো লাগত বলেই স্কুল জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেন। তিনি আনন্দ মোহন কলেজে ছাত্র অবস্থায় জেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর সদস্য ছিলেন। জহিরুল হক হলের ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন দীর্ঘদিন।

১৯৯০ সালে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৫ সালে যুবলীগের সভাপতি হন। তারপর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

 রাজনীতির বাইরেও তিনি একজন ক্রীড়াবিদ ছিলেন। বৃহত্তম ময়মনসিংহ ফুটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে অনেক পদক পেয়েছেন। জেলা পরিষদের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি দৈনিক সময়ের আলোকে জানান, ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০ জন নির্বাচিত সদস্য নিয়ে তিনি জেলা পরিষদের কার্যক্রম শুরু করেন। জেলার ১৩টি থানায় ২০ জন সদস্যকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, গোরস্থান, মন্দির ইত্যাদি উন্নয়নমূলক কাজে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের মোট ৭০ শতাংশ ভাগ টাকা ব্যয় হয়েছে এসব কাজে।

জেলা পরিষদের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প : ময়মনসিংহ সদরের রেলি মোড়ে ১ হাজার আসনের ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অডিটোরিয়াম নির্মাণকাজ চলছে। এ ছাড়াও সদরের কিছু উন্নয়নের জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া আছে। সদরের ডাক বাংলোকে মাল্টিপারপাস বিল্ডিং করার জন্য জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।  
ত্রিশালে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার আসনের একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। গফরগাঁওয়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অডিটোরিয়ামের কাজ চলছে। এ ছাড়াও গফরগাঁওয়ের জামতলা বাজারে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মার্কেটের জন্য প্রকল্প পাস হওয়ার প্রক্রিয়াধীন আছে। তারাকান্দায় আগে কখনও ডাকবাংলো ছিল না। এখানে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডাক বাংলোর নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। এখানে একটি মাঝারি মানের মার্কেটের জন্য একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। শম্ভুগঞ্জে ৫০ লাখ টাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য অডিটোরিয়ামের কাজ চলছে। মুক্তাগাছায় অডিটোরিয়ামটি সংস্কার করে ভাড়া দেওয়া হবে। ঈশ্বরগঞ্জে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি অডিটোরিয়াম এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়াও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০ লাখ টাকা বৃত্তির জন্য বরাদ্দ আছে। দুস্থদের জন্য সেলাই মেশিন দেওয়া এবং কর্মসস্থানের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পরিষদের অব্যবহৃত বা বেহাত হওয়া জমিগুলো উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। জেলা পরিষদের ২৭টি পুকুর সংস্কারের জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।

ইউসুফ খান পাঠান তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে বলেন, জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে যেসব প্রকল্প আছে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা পরিষদে মাত্র ৩ জন ইঞ্জিনিয়ার আছে। দরকার এখন ৬ জন ইঞ্জিনিয়ার।

দৈনিক সময়ের আলোকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন আশা করছি পত্রিকাটি বেশি করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরবে এবং স্বাধীনতার পক্ষের কথা বলবে। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]