বুধবার ● ৩ জুন ২০২০ ● ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ১০ শওয়াল ১৪৪১
অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে থামছে না মৃত্যু মিছিল!
আবারও গর্ত ধসে শ্রমিক নিহত
মনোয়ার জাহান চৌধুরী, সিলেট
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯, ৭:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে থামছে না মৃত্যু মিছিল!

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে থামছে না মৃত্যু মিছিল!

সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে পাথর উত্তেলন করেত গিয়ে শ্রমিক নিহতের ঘটনা যেনো থামছেই না। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে ঝড়ছে একের পর এক নিরীহ শ্রমিকের প্রাণ। এবার উপজেলার ভোলাগঞ্জ শাহ আরেফিন টিলায় আবারও পাথর কোয়ারি ধসে আবু সাইদ (৩০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই পাথর শ্রমিক।  উপজেলার চিকাডহর গ্রামের সোহরাব আলীর কোয়ারিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার সময়ের আলো’কে বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গর্ত মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নিহত আবু সাইদ উপজেলার ছনবাড়ি গ্রামের ধন মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নিজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফখর উদ্দীন ও ইমাম হোসেন। তাদের উদ্ধার করে  কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একের পর এক দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহতের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ শাহ আরেফিন টিলার  কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু অর্থলোভী কোয়ারি মালিকরা শ্রমিকদের ৫০/১০০ ফুট গভীর গর্তে নামিয়ে পাথর উত্তোলন করান। এরই ধারাবাহিতায় দুপুরে  কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে গর্ত ধসে চাপা পড়ে মারা যান আবু সাইদ।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জে পাথর কোয়ারিতে শ্রমিক হতাহতের ঘটনা যেনো কোনোভাবেই থামছে না। আর পাথর খোকোদেরও দমিয়ে রাখতে পারছে না প্রশাসন। সুযোগ পেলেই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত করছেন শ্রমিকদের গর্ত মালিকরা। অবৈধ পন্থায় পাথর তুলতে গিয়ে পাথর কিংবা টিলা ধসে ঝড়ে যাচ্ছে নিরহ শ্রমিকের প্রাণ। কিন্তু ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন পাথর কোয়ারির মালিকরা। যদিও পুলিশ দাবি করছে, এসব কোয়ারি মালিকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ৬ মার্চ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মতিয়া টিলায় অবৈধভাবে তুলতে গিয়ে গর্ত ধসে মাটিচাপায় আক্কেল আলী (২৫) নামে এক শ্রমিক নিহত হন। নিহত আক্কেল সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মো. মজনু মিয়ার ছেলে। ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি একই উপজেলার শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে একসঙ্গে ৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। টিলা ধসে ৬ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত দেড় বছরে ওই টিলা ধসে পর্যায়ক্রমে নিহত হয়েছেন ২৪ জন।
এদিকে চলতি বছরের ৪ মার্চ ভোলাগঞ্জ এলাকায় গর্ত ধসে দোয়ারাবাজার উপজেলার আবদুল হান্নানের ছেলে মজনু মিয়া (৩৫) নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ২ মার্চ শাহ আরেফিন টিলায় আরো দুই শ্রমিক গর্ত ধসে আহত হন। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছে, শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আহত হয়েছিল। পরে তারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, শ্রমিকের নিহত ঘটনায় গর্ত মালিককে গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। ‘আজকের (বৃহস্পতিবার) ঘটনায়ও গর্তের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। এ ঘটনায় জড়িদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




আরও সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]