বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২০ ● ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ ● ৪ শওয়াল ১৪৪১
আইন মানছে না ঢাকাকোচসহ আন্তঃজেলা বাস
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯, ৫:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আইন মানছে না ঢাকাকোচসহ আন্তঃজেলা বাস

আইন মানছে না ঢাকাকোচসহ আন্তঃজেলা বাস

কারো কোনো কথাতেই কাজ হচ্ছে না। ঢাকাকোচসহ আন্তঃজেলা বাসের ড্রাইভার মানছে না কোনো আইন। বেপরোয়াভাবে চালাচ্ছে শহরের ভিতর গাড়ি। ফলে রাস্তা পারাপার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না এলাকাবাসী এবং নগরীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

রাজশাহী নগরীর রেল স্টেশনের পাশেই ঢাকা ও আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ড। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিরোইল মোল্লামিল হয়ে সাগরপাড়ার দিকে চলে গেছে ৪০ ফিটের রাস্তা। আর এ রাস্তার আশপাশেই মসজিদ মিশন, সূর্যকণা, সিরোইল, মর্নিং স্টার, ওয়াইজডোমসহ ছয়টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এবং দুই মসজিদ রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০০ শিক্ষার্থীর অধিকাংশই এ পথে আসা-যাওয়া করে। আবার এদের মধ্যে প্লে, কেজি, নার্সারীর মতো ছোট ক্লাসের বাচ্চারাও আসে এসব স্কুলে।  

মসজিদ মিশন একাডেমী (শিরোইল শাখা) এর কিছু অভিভাবক জানান, এই রাস্তা দিয়ে যেভাবে বড় বড় বাসগুলো যায় তাতে আমাদেরই জান শুকিয়ে যায়। বাচ্চাদের নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে খুবই ভয় লাগে। স্কুলের সামনে হর্ন বাজানো নিষেধ জেনেও এখানে এসেই হর্ন বাজায়। বাচ্চারা হর্ণের আওয়াজ শুনে চিৎকার দিয়ে কেদে ফেলে।  
 
জানা গেছে, ২০০২ সালে সাগরপাড়া স্টেশন রোডের মো. মোবারক হোসেন শাহীন নামের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর দোতলা বাসার প্রাচীর ভেঙ্গে বাসার ভেতর পর্যন্ত ঢুকে গেছিলো এনপি এলিগেন্স পরিবহনের একটি ঢাকা কোচ। যদিও ঘটনায় সামান্য আহত হয় ড্রাইভার ও হেলপার, কিন্তু প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয় বাড়ির মালিকের। একই এলাকায় ২০১৭ সালে দোশড় মন্ডলের মোড়ে পরিবার পরিকল্পনার পণ্যবাহী এসএমসি কোম্পানির কভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনায় পড়ে। পরে স্থানীয়রা বড়  ড্রাম দিয়ে গাড়ি ঘোরানোর জায়গাটি বন্ধ করে দেয়। তৎকালীন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযিমের উদ্দোগ্যে সেখানে একটি গোল চত্বর করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানে দুর্ঘটনা কমেছে।

এলাকাবাসী জানান, আইন অনুযায়ী শহরের ভিতরে রাত ১২ টার আগে কোনো বড় যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু বাস চালক বা মালিকরা মোটেও আইনের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করে না। তারা তাদের সময় বাঁচানোর জন্য শহরের ভিতরের এ রাস্তা ব্যবহার করে, যা স্কুলের ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে সবার জন্য বিপদজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, আর কত মায়ের বুক খালি হলে এ রাস্তায় স্পিড ব্রেকার দেয়া হবে। সেই সাথে ঢাকা কোচসহ আন্তঃজেলা বাসগুলোর বেপরোয়ো গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ হবে জনবহুল এ রাস্তায়।

এলাকাবাসী জানান, শহরের মধ্যেকার রাস্তায় গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। বিষয়টি নিয়ে বহুবার  ঢাকা কাউন্টারের ম্যানেজার ও আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতি এবং অস্থায়ী রাজশাহী জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেক্রেটারিকে বলেছি। কিন্তু কোনো সুফল আসেনি, তারা এবিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেনি। বাস স্ট্যান্ডের পাশেই অবস্থিত রাজশাহী মহানগর যুবলীগ সভাপতি ও ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতির বাসা।

ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মোঃ খোকন শেখ জানান, ‘২১ নং ওয়ার্ড যুবলীগ ও এলাকাবাসী আমরা সম্মিলিতভাবে বিষয়টি নিয়ে বার বার তাদের বলেছি। কিন্তু এতো বলার পরেও কাজের কাজ হচ্ছে না। একটা বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার পর কাউন্সিলরকে বলেছি স্কুলের সামনে স্পিড ব্রেকার দিতে। যাতে অভিভাবকসহ বাচ্চারা নিরাপদে সড়ক পার হতে পারে। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন খুব দ্রুত স্পিড ব্রেকার করার জন্য মেয়র সাহেবকে প্রস্তাবনা দিবেন।’

এ সম্পর্কে ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযীম জানান, দূর্ঘটনা এড়ানোর জন্য অবশ্যই সাগরপাড়া স্টেশন রোডে বিশেষ করে স্কুলের সামনে স্পিড ব্রেকার প্রয়োজন। এ বিষয়টি নিয়ে মেয়র সাহেবকে অনেক আগে থেকেই জানানো আছে। রাস্তাটির প্রসস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই আপাতত স্পিড ব্রেকারের বিষয়টি স্থগিত রয়েছে।

বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, বাস মালিকসহ ঢাকা ও আন্তঃজেলা মালিকদের হাজার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে, ফোন মাধ্যমে এমনকি আমি নিজে গিয়ে বার বার এই রাস্তাতে গাড়ি ঢোকাতে নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা কানেই নেয় না। শুধু আমাদের না, তারা কারো কথাই মানে না।

রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহন গ্রুপের সেক্রেটারি মোঃ মনজুরুল রহমান পিটার বলেন, ‘ঢাকাকোচ ও আন্তঃজেলা বাস স্টেশন সাগরপাড়া রোডে গাড়ি বেপরোয়াভাবে চালায়, অনেকে এটা নিয়ে অভিযোগ করেছে। আমি তাদরে ধীরে গাড়ি চালানোর কথা বলবো। আর ঢাকা কোচ ও আন্তজেলা বাসস্ট্যান্ড যেনো এখান থেকে সড়িয়ে নওদাপাড়া কেন্দ্রীয় টার্মিনালে নেওয়া যায় সেই চেষ্টা চলছে। বাসস্ট্যান্ড সড়ে গেলে এমন সমস্যা আর থাকবে না।’

এবিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কেন্দ্রীয় বাস টারমিনাল করা হয়েছে। অথচ, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের কারণে সিটির মধ্যে বাস চলাচল করছে। রাজশাহী মহানগর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জোরালো চেষ্টা চলছে শিরোইল বাসস্ট্যান্ড থেকে সড়িয়ে কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে সড়িয়ে নেওয়ার। এ সম্পর্কিত একটি বৈঠকও রাসিক মেয়র সাহেবের নেতৃত্বে হয়েছে। তাছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে হাইওয়ে ও ফ্লাইওভারের কাজটি সম্পন্ন হলে এ সমস্ত সমস্যা আর থাকবে না।’



 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »




সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]