রোববার ২৩ জুন ২০২৪ ৯ আষাঢ় ১৪৩১

শিরোনাম: বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা    আ.লীগের প্রতিষ্ঠার প্লাটিনাম জয়ন্তীর ব্যানারে স্থান পেল জয় ও পুতুলের ছবি    পবিত্র কাবাঘরের চাবি সংরক্ষক ড. শায়খ সালেহ আল শাইবা ইন্তেকাল করেছেন    রাসেল’স ভাইপার নিয়ে জনগণকে আতংকিত না হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর    ভূমি নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : ভূমিমন্ত্রী    বিশ্বব্যাংক থেকে ৯০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ পেলো বাংলাদেশ    জননিরাপত্তা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ভারতে ২০ মিনিটের কি-লিং মিশনে যেভাবে এমপি আনারকে হ-ত্যা করা হয়!
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, ১:২২ এএম আপডেট: ২৩.০৫.২০২৪ ১:৩৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ভারতের কলকাতায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

বুধবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। 

শাসক দলের এই সংসদ সদস্য কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধাননগরের নিউটাউন এলাকায় সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি আধুনিক ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সেখান থেকে তার রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাবা হত্যার বিচার চেয়েছেন। তিনি গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলাটি করেন।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে এমপি আনারকে হত্যা করা হয়েছে। খুনের সঙ্গে এ দেশের অপরাধীরা জড়িত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে ফ্ল্যাটে এমপি আনার খুন হয়েছেন, সেখানে তার লাশ পাওয়া যায়নি। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধাননগরের নিউটাউন এলাকায় সঞ্জিভা গার্ডেন থেকে তার রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যাকাে  জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গত রাতে খুলনা থেকে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির দুই নেতা শিমুল ভূঁঁইয়া, তানভীর ভূঁঁইয়া এবং তার স্ত্রী। এই তিনজন নিয়ে মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হলো।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৩ মে আনারকে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ড ঘটাতে তারা সময় নেয় মাত্র ২০ মিনিট। ২০ মিনিটের এই কিলিং মিশনে অংশ নেয় পাঁচজন। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ৫ কোটি টাকা চুক্তিতে নৃশংসভাবে খুন করা হয় এমপি আনারকে। লাশের একাধিক টুকরো করা হয়। পরে চারটি ট্রলিব্যাগে করে ফেলে দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গেরই বিভিন্ন এলাকায়। যদিও গতকাল পর্যন্ত লাশের খন্ডিত অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আক্তারুজ্জামান শাহিন নামের বাংলাদেশি যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ৫ কোটি টাকায় খুনের কন্টাক্ট দেন সৈয়দ আমানুল্লাহ সাইদ নামের একজনকে। শাহিনের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে। তিনি নিহত এমপি আনারের ছোট বেলার বন্ধু। ঠিকাদারি ব্যবসার বাইরেও তার বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান ও হুন্ডি কারবারের অভিযোগ আছে। তবে কিছুদিন ধরে এমপি আনারের সঙ্গে শাহিনের ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল। হুন্ডি ব্যবসার হাজার কোটি টাকা আনার আত্মসাৎ করেন। যা শাহীন আদায় করতে পারছিলেন না। সবশেষ আনারকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেওয়ার ভয়ংকর পরিকল্পনা করেন। দায়িত্ব দেন সৈয়দ আমানুল্লাহ সাইদ ওরফে আমানকে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান রিপনের নেতৃত্বে একটি দল মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে প্রথমে আমানুল্লাহ নামের একজনকে আটক করার পরই চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার জট খুলতে শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব তথ্য। একে একে আটক করা হয় ফয়সল ওরফে জুয়েলকে। ডেকে নেওয়া হয় শিলাস্তি নামের এক যুবতীকে। এসব জানানো হয় ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে। দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিশ্চিত হয় খুন হয়েছেন এমপি আনার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এমপি আনারকে ১৩ তারিখেই হত্যা করা হয়। মাত্র ২০ মিনিটের এই কিলিং মিশনে অংশ নেয় পাঁচজন। আর এ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে খন্ডিত অংশগুলো চারটি ট্রলিব্যাগে ভরে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এতে অংশ নেয় আরও চার-পাঁচজন।

খুলনার ফুলতলা ডামুডা এলাকার বাসিন্দা আমানুল্লাহ দুই দফায় ২০ বছর কারাগারে ছিলেন। পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি দুর্ধর্ষ এই ক্যাডার একটি হত্যা মামলায় ১৯৯১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সাত বছর এবং ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর আরেকটি হত্যা মামলায় জেলে ছিলেন। সবশেষ এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের কন্ট্রাক্ট নেওয়ার পর শাহিনের সঙ্গেই গত ৩০ এপ্রিল ভারতে যান। সঙ্গে যান শাহীনের এক গার্লফ্রেন্ড। ওঠেন কলকাতা নিউটাউন অভিজাত এলাকায় সঞ্জিভা গার্ডেনে। এই ভবনেরই ‘ব্লক-৫৬ বিইউ’ ফ্ল্যাটটি আগে থেকেই শাহীনের ভাড়া নেওয়া। তবে ওই ফ্ল্যাটে ঘন ঘন যাতায়াত ছিল জিহাদ ও সিয়াম নামের দুই যুবকের। অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ছিলেন জিহাদ এবং সিয়াম।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা হেফাজতে থাকা আমানুল্লাহ এরই মধ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তার বরাত দিয়ে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল পরিকল্পনাকারী শাহীন এবং আমানুল্লাহ ৩০ এপ্রিল কলকাতায় যান। সবকিছু ঠিকঠাক করে শাহীন ১০ মে বাংলাদেশে চলে আসেন। কিন্তু আমানুল্লাহ রয়ে যান সেখানে। আমানুল্লাহ, মোস্তাফিজ, ফয়সাল, জিহাদ এবং সিয়াম মিলে সেই ফ্ল্যাটেই মিশন বাস্তবায়ন করে।



লাশ গুম করার জন্য টুকরো করে ট্রলিব্যাগে ভরে ভারতীয় এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাগগুলো কয়েক হাত বদল হয়। মিশন বাস্তবায়নের পর ১৫ মে শাহিনের গার্লফ্রেন্ড শিলাস্তি এবং আমানুল্লাহ ফ্লাইটে ঢাকায় চলে আসে। ১৭ মে তারেক মোস্তাফিজুর এবং ১৮ মে ফয়সাল বাংলাদেশে আসে।

একটি সূত্র বলছে, এরই মধ্যে আক্তারুজ্জামান শাহীন ১৮ মে নেপাল এবং ২১ মে দুবাইতে চলে যান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এমপি আনারকে হত্যার পরপরই তাদের মধ্যে চারজনের দেশে ফিরে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জিহাদ এবং সিয়াম নামের দুজনের পাসপোর্ট না পাওয়ার কারণে তাদের ঠিকানা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, আনোয়ারুল আজিম ১২ মে চিকিৎসার জন্য দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। কলকাতার ব্যারাকপুর-সংলগ্ন মন্ডলপাড়ায় পূর্বপরিচিত স্বর্ণ কারবারি গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। ১৩ মে চিকিৎসার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে হোয়াটসঅ্যাপের একটি খুদেবার্তা পাঠান এমপি। তাতে উল্লেখ করেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজে দিল্লি যাচ্ছি। পৌঁছে ফোন করব, তোমাদের ফোন করার দরকার নেই।’ ১৫ মে বেলা ১১টা ২১ মিনিটে আরেকটি মেসেজে জানান, ‘আমি দিল্লি পৌঁছলাম, আমার সঙ্গে ভিআইপি আছেন। ফোন করার দরকার নেই।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, একসময় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের ওয়ারেন্টভুক্ত ছিলেন এমপি আনার। হুন্ডি কারবার, চোরাচালান ও পাচারের অভিযোগে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছিল। নানা অপরাধে একসময় তার বিরুদ্ধে দুই ডজনের বেশি মামলা ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রভাব বলয় তৈরি করেন। ২০১৪ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/ADDDDDD.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]