বিনোদন

১০ হাজার জামাই’র সাথে যা করলেন অপু বিশ্বাস!

:: বিনোদন ডেস্ক ::

নানা আয়োজনে বাংলা বৎসরের প্রথম দিনকে বরণ করে নিয়েছেন সবাই। তবে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের পহেলা বৈশাখের উদযাপনটা ছিল একটু অন্যরকম। তিনি জয়পুরহাটের মেয়ে। বৈশাখটাও সেখানেই করেছেন। তবে একা কিংবা শুধু পরিবারের সদস্যদের সাথেই নয়। মোট ১০ হাজার জামাইয়ের সঙ্গে বৈশাখের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন তিনি!

বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন শনিবার সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রার পর ১০ হাজার গামছা দিয়ে জামাইদের প্রথমে বরণ করেন মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামাইদের প্রতীকী শ্বশুর আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক।

পরে দিনব্যাপী পুঁথি পাঠ, বাউল গান, সারি গান, মুর্শিদী গান, বেদে-বেদেনীর সাপ খেলা, বদন খেলা, বউচি খেলা, লাঠি খেলা, নাগরদোলাসহ গ্রামীণ ঐতিহ্য প্রদর্শিত হয়।

বিকেলে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস। তিনি অনুষ্ঠানে আগত ১০ হাজার জামাইকে অভিবাদন জানান।

কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নে সকল সম্প্রদায়ের লোকজনের সমন্বয়ে প্রায় ৫৮ হাজার লোকের বসবাস। এ ইউনিয়নের বসবাসরত সকল ধর্মের পরিবার থেকে প্রায় ১০ হাজার মেয়ের ইতোমধ্যে বিবাহ হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলাতে। তাদেরকে সাথে নিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গত ৬ মাস ধরে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী স্থানীয় মাত্রাই উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করেন এই জামাই-মেয়ের মেলা।

মাত্রাই ইউনিয়নের নিমন্ত্রিত ১০ হাজার মেয়ে ও জামাই বৈশাখের দাওয়াত পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একই ইউনিয়নের গাড়ইল গ্রামের স্থানীয় জামাতা ফরিদ আহম্মেদ, পার্শ্ববর্তী আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বোরাই গ্রামের বাসিন্দা ও মাত্রাই ইউনিয়নের শালগুন গ্রামের আব্দুল গনির জামাতা সুজাউল ইসলাম, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা ও মাত্রাই ইউনিয়নের শিশ সমুদ্দুর গ্রামের জামাতা আব্দুস সালাম, একই গ্রামের অপর জামাতা কালাই পৌরসভার পাঁচশিরাা এলাকার বাসিন্দা ফারুখ হোসেনসহ অনেক জামাতা জানান, দেশের মধ্যে এমন আয়োজন হয়েছে বলে তাদের জানা নাই। প্রীতিভোজ ছাড়াও হালের শীর্ষ চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস তাদের অভিবাদন জানানোয় মুগ্ধ জামাইরা।

বগুড়া সদরের আবু জাফর ও সৌদি প্রবাসী আব্দুল হাকিমসহ অনেক জামাই বলেন, মাত্রাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমাদের দাওয়াত কার্ড দিয়ে আমন্ত্রণ জানান। আমরা ১০ হাজার জামাই একত্রিত হতে পেরে আনন্দিত। মনে হচ্ছে আমরা অনেকগুলো ভায়রা ভাই একত্রিত হলাম।

মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শওকত হাবিব তালুকদার লজিক বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষ দিন দিন স্বার্থপর হচ্ছে। পরস্পরের মধ্যে বন্ধন তৈরি করতেই এই আয়োজন। এমন আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন হয়, অন্যদিকে সামাজিকভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সম্ভব।

Spread the love
  • 40
    Shares

বিনোদন | আরো খবর