জাতীয়

বৈশাখ উদযাপনে অনন্য শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র, মুগ্ধ এমপি মুক্তা

::সিনিয়র প্রতিবেদক::

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দেশ গঠনের লক্ষ্যে সমাজে পিছিয়ে পড়া সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রতিভা বিকাশের প্রত্যয় নিয়ে ‘সহ শিক্ষাযুক্ত অপরাধ মুক্ত শিক্ষার্থী ঐক্য’ স্লোগানে এক ঝাঁক মেধাবী তরুণ ও যুবকের স্বেচ্ছাশ্রম ও অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র। বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে অন্যরকম একটি দিন পারলো সংগঠনটি। দেশের সবাই যখন বহুজাতীয় কর্পোরেট সংস্কৃতির আগ্রাসনে নিমজ্জিত তখন এই সংগঠনটি পিছিয়ে পড়া শিশু কিশোরদের নিয়ে অন্যরকম একটি বৈশাখ উদাযাপন করেছে। রাজধানীর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের মাঠে শনিবার দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বৈশাখ উদযাপন করে শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র। পিছিয়ে পড়া শিশুদের মুখে উন্নতমানের খাবার তুলে দিয়ে এবং তাদের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেখে অনুষ্ঠানে এসে মুগ্ধ হয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি এ্যাড. নূরজাহান বেগম মুক্তা।

শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমানের আমন্ত্রণে অন্যরকম এক বৈশাখ উদযাপনে এসে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন তরুণ এই পরিশ্রমী রাজনীতিবিদ। এমপি মুক্তা শিশু কিশোর প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের প্রশংসা করে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই শিশুদের প্রতি যত্নশীল ও আদুরে। তারই আদর্শ নিয়ে এ সংগঠনটি যেসব কাজ করে যাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমাদের সমাজে কেউ যে বোঝা নয়, সঠিক পরিবেশ এবং সুযোগ পেলে যে সমাজের অনগ্রসর শিশু কিশোররা দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে সেটা আমরা বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের পাশে থাকার কথা জানান।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈশাখি মিলন মেলায় সারাদিন ব্যাপীই নানা আয়োজনের মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শেষ দিকে বৃষ্টির কারণে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও সবাই হাসিমুখে বৈশাখের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতেও তুলে দেয়া হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ করে এমন সব পুরষ্কার।

শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র’র প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এই শিশুদেরকে একজন দেশপ্রেমিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, সমাজের অধিকার থেকে বঞ্চিত এই শিশুদের অবিভাবক রুপে তাঁদের পাশে থেকে তাদেরকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিতে বিকশিত করা তারা যেন কখনও উপলব্ধি করতে না পারে তারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান, তাঁদের পাশে কেউ নাই। আমরা সেই কাজই করে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, শিশুদের নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনটির বর্তমানে প্রায় ১২টি জেলায় (ঢাকা, খুলনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর পটুয়াখালী ও নোয়াখালীর হাতিয়ায়) ১৩ টি কেন্দ্রে ৮৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই ৮৬০ শিক্ষার্থীকে শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র বই-খাতা, জামা-কাপড় থেকে শুরু করে শিক্ষা উপকরণের যাবতীয় সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করছে।

গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের মৌজা মালিবাড়ি গ্রামের চর এলাকায় সংগঠনটির সাংস্কৃতিক বিভাগের পরিচালক সুজাউর রহমান শীষ এর দান কৃত দশ শতাংশ জমিতে নিজস্ব স্কুল ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছে সংগঠনটি। এই স্কুলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশুনার সুযোগ পাবে। এছাড়াও মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে এসপিবিকে শিক্ষালয়ের নিজস্ব স্কুল ভবন। পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় ঢাকাস্থ এক হোটেল কর্মচারীর দান করা জমিতে এসবিপিকে শিক্ষালয় নির্মানেরও প্রস্তুতি চলছে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে জালাল উদ্দিন নামের একজন ব্যবসায়ীর জমিদানের প্রক্রিয়া চলছে, প্রক্রিয়া শেষ হলে স্কুল নির্মাণের কাজ শুরু করবে সংগঠনটি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র’র শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা নামের পাঁচটি আলাদা বিভাগ রয়েছে।

শিক্ষা বিভাগে নিয়োজিত এক দল মেধাবী তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে বিনাপারিশ্রমিকে সপ্তাহে চার দিন বাংলা ইংরেজি ও সাধারণ গণিত টিউশনি করছে এসপিবিকে শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীদের।

Spread the love
  • 429
    Shares

জাতীয় | আরো খবর