রাজনীতি

গাজীপুর-৪ আসন মুখোমুখি আ.লীগ-বিএনপি

:: আসাদুল্লাহ মাসুম, কাপাসিয়া ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তবে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের তিন কেন্দ্রীয় নেতাও সমানতালে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে বিএনপিতে মনোনয়ন পেতে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন দুইজন। জামানত হারানোর আশঙ্কায় সিপিবি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত বিএনপি নেতা হান্নান শাহ’র ছেলে রিয়াজুল হান্নানের মধ্যে যে কোনো একজন মনোনয়ন পাবেন- এমন ধারণা স্থানীয় নেতাকর্মীদের। অতীতে বিএনপি, স্বতন্ত্র, কমিউনিস্ট পার্টি থেকেও এমপি নির্বাচিত হলেও এখন তাদের রাজনৈতিক কর্মকা- পার্টি অফিসে সীমাবদ্ধ।

এ আসনে আওয়ামী লীগ আর কৃষকলীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। বিশেষ করে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কৃষকলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লাকে মনোনয়ন দেয়াতে আওয়ামী লীগের একাংশ নির্বাচনে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে। এতে করে আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।

গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই কালে আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রার্থী বাছাই নিয়ে টানাপোড়েন চলে। কোনো কোনো ইউনিয়নে আলাদাভাবে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এসব কর্মকান্ডের কারণে এ আসনের নেতাকর্মীরা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

একটি অংশ কাজ করছে বর্তমান সংসদ সদস্যের পক্ষে । অপর অংশ কাজ করছে বাংলাদেশ কৃষকলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার পক্ষে। তারা দুটি গ্রুপই এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। সভা সমাবেশ করে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জনগণের মাঝে পরিচয় করে নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা ও উপদেষ্টা আলম আহমেদ।

আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি সিমিন হোসেন রিমি এবারো মনোনয়ন চাইবেন, জোর চেষ্টা চালাবেন কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ মোতাহার হোসেন মোল্লা। মনোনয়োন চাইতে পারেন কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আলম আহমেদ। বর্তমান এমপি সিমিন হোসেন রিমি আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। দুইবারের নির্বাচিত এমপি তিনি। নিজ আসনে উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্য যথেষ্ট সুনাম আছে। বাবা তাজউদ্দীন আহমদের ইমেজ ও ব্যক্তি ইমেজ কাজে লাগিয়ে হেভিওয়েট এ প্রার্থী আসন ঠিক রাখবেন বলে আশাবাদী।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে পাওয়া না পাওয়ার ক্ষোভ আছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যারা আশায় বুক বেঁধেছিল তাদের সে আশা ভেস্তে গেছে। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে যারা রাজপথে ছিলেন, প্রতিপক্ষের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, সেসব ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মোতাহার হোসেন মোল্লার এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের সাথে দ্বন্দ্ব রয়েছে।

মোতাহার হোসেন মোল্লা বলেন, আমি তিন বার মনোনয়ন চেয়েছি, হাইকমান্ড থেকে আমাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন। এবারও আমি নৌকা মার্কা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে মনোনয়ন চাইব। বিএনপি উপজেলার সাবেক সভাপতি, ছাত্রদল কাপাসিয়া উপজেলা শাখা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কোহিনুর স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি জামাল উদ্দিন মনে করছেন তার নির্বাচনী মাঠের অবস্থান ভালো।

২০০৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া মনোনয়ন দিয়েও ফিরিয়ে নেন। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, জামাল উদ্দিনকে মনোনয়ন দিলে কাপাসিয়া আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার বাবা ও বড় ভাই ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে কাপাসিয়ায় জনপ্রিয় ছিলেন। আরেক বড় ভাই সাবেক নৌবাহিনীর প্রধান। শিক্ষাদিক্ষায় সামাজিক অবস্থানে পারিবারিক সুনাম রয়েছে।

জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০৮ সালে আমি মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কিন্তু মনোনয়ন দিয়েও বেগম খালেদা জিয়া আমাকে ডেকে বলেছেন, এবার নয় আমি আপনাকে ভবিষ্যতে মূল্যায়ন করব। তাই আমি এবার ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করতে চাই। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলে জানান তিনি। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন প্রয়াত বিএনপি নেতা আ স ম হান্নান শাহ’র ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান। পিতার আদর্শ নিয়ে নেতৃত্বে এগিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। বিএনপিতে কোনো পদপদবি না থাকায় রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

একাধিক বিএনপি নেতার মুখে শুনা যায়, সিনিয়র নেতাদের মূল্যায়ন করছেন না তিনি। শাহ রিয়াজুল হান্নানকে কাপাসিয়ায় শোডাউন করতে দেখা গেছে। রিয়াজুল হান্নান বলেন, কাজ করে যাচ্ছি হাইকমান্ড মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। জাতীয় পার্টি গাজীপুর জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুইবার এ আসনে নিবার্চন করেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। কাপাসিয়ার সন্তান মানবেন্দ্র দেব ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সভাপতি হন তিনি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ছাত্র বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র একজন নেতা। আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত ১০টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারির ‘বিতর্কিত’ নির্বাচন বাদ দিলে বিএনপি মাত্র দুইবার এ আসন থেকে জয়লাভ করে। মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা আ স ম হান্নান শাহ। কাপাসিয়া উপজেলায় এগারো ইউনিয়ন ২৩২টি গ্রাম ও ৯৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

উপজেলার আয়তন ৩৫৬.৯৮ বর্গ কিমি.। জনসংখ্যা ৩,২১,৫৫৪ জন। মোট ভোটারের সংখ্যা ২,৫৩, ৫৮৫ জন। পুরুষ ১,২৪,৮৪৩ জন মহিলা ভোটার ১,২৮,৭৪২ জন। গত নির্বাচনে ১১৭টি ভোট কেন্দ্রের অধিকাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

 

অনলাইন/কে 

Spread the love
  • 14
    Shares

রাজনীতি | আরো খবর