এডিটর
শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক শূন্যতারোধে অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন দরকার

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

দুই যুগ পার হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের হদিস নেই। হিসেব করলে ২৭ বছর হয়ে যায়। এই সাতাশ বছরে কমপক্ষে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠিত নেতা পেত জাতি। এদের সবাই-ই বাঘা বাঘা নেতা হতো, তা বলছি না। তাতে পঞ্চাশ জনও যদি চৌকস নেতা হতেন, তাহলে দেশটি এমন যোগ্য নেতৃত্ব পেত যাদের উপর দেশ নির্ভর করতে পারতো। মহাকাল তো একদিনের দুদিনের না, যে দু’একজন নেতাই পুরা ভবিষ্যতকাল নিয়ন্ত্রণ করবেন। যে, আর কোনো বড় নেতার জন্ম না হলেও চলবে। এই যে আজকে তিনশত আসন বিশিষ্ট সংসদ রয়েছে তাতে সবাইর অতীত কি ছাত্র রাজনীতি ছিল! বাকিদের তবে ব্যাকগ্রাউন্ড কি? অধিকাংশই ব্যবসায়ী। আবার সবাই আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, তাও নয়।তাদের ব্যবসা বিষয়ক অনেক জানাশোনা থাকতে পারে কিন্তু রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক জ্ঞান কতটুকু আছে, তা আমাদের জানা আছে?

বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে ধনী ও শক্তিধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এ বিষয়ে কারোরই কোনো সংশয় নেই। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্রাম্প, যিনি ধনকুবের ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবেই একজন তুখোড় রাজনীতিক, সাবেক মার্কিন পরারাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর রেজাল্ট কি? রাষ্ট্রপতি হিসেবে ট্রাম্প প্রতি পদে পদে হোঁচট খাচ্ছেন। কারণ কি? কারণ হচ্ছে, তার রাজনৈতিক জ্ঞান এমন মাত্রায় নেই যা রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য সহায়ক হতে পারে। কাজেই একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজনীতি বিষয়ে দক্ষ নেতার কোনোই বিকল্প নেই। এটা পৃথিবীর সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য। বাংলাদেশের মতো স্বল্পশিক্ষার দেশে তো বটেই। আজকে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তাদের অধিকাংশের বয়েসই ষাট-পঁয়ষট্টি পেরিয়ে গেছে। দেশে মানুষের গড় আয়ু যা-ই হোক, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সত্তুরোর্ধ মানুষকে সব সময়েই হিসেবের খাতার বাইরে রাখতে হয়।

কাজেই যে ২৭ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হচ্ছে না, তার মানে একটা বিরাট শূন্যতার মধ্যে দিয়ে আমরা পার হচ্ছি। এখন যেসব নেতার বয়েস ষাটোর্ধ থেকে সত্তুরোর্ধ তারা যে আগামী ১০ বছর অতিক্রম করতে পারবেন এর কোনোই নিশ্চয়তা নেই। ১০ বছর অতিক্রম করতে পারলেও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুস্থ থাকতে পারবেন এরও কোনো গ্যারান্টি নেই। তাহলে কি দাঁড়াচ্ছে? রাজনৈতিক নেতার অভাবে দেশটি চলে যাচ্ছে নিশ্চিতভাবেই অরাজনৈতিক করপোরেট ব্যবসায়ীদের হাতে। যারা দেশটাকে লুটপাটের কারখানা হিসেবেই ব্যবহার করবে কোনোই সংশয় নেই। কেননা রাজনৈতিক নেতাদের যতোটুকু দেশপ্রেম থাকে অরাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের ততোটুকু না থাকাটাই স্বাভাবিক। ফলে তারাই তো সুইস ব্যাংক, পানামা কেলেঙ্কারিতে জড়াবেন।

তাহলে কাদের স্বার্থে ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না? অথচ সবাই ডাকসু নির্বাচন চাচ্ছে। তবুও কোথায় এমন গলদ যে কারণে ২৭ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না? তাই সংশয় হয়, যারা এ নির্বাচন আটকে রাখছেন তারা ওই অরাজনৈতিক ব্যবসায়ী শ্রেণিরই স্বার্থ সংরক্ষণ করছেন নাতো! অথচ রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এমনকি ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোসহ সবাই চায় অবিলম্বে ফের ডাকসু নির্বাচন হোক। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদও কিছুদিন আগে ডাকসু নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। কাজেই জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনেই শিগ্গিরই ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেটাই প্রত্যাশিত।