মানসম্পন্ন শিশুশিক্ষা: সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাস্তবতার আলোকে

  • ২৭-মার্চ-২০১৯ ০৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিশুদের প্রতি আলাদা মনোযোগ নতুন নয়। আর সে জন্যই তো বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের সঙ্গে শিশু দিবসও যোগ করিয়ে নেন। এ উপলক্ষে সারাদেশে শিশুদের জন্য গল্পবলা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সম্প্রতি শিশু দিবসে তিনি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার বিরুদ্ধে নতুন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এতে তিনি শিশুদের ওপর থেকে বই পড়ার বোঝা কমানোর পরামর্শ দেন। এবার জাতীয় শিশু সপ্তাহের অনুষ্ঠানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন।

অর্থাৎ আগামী বছর থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণিতে কোনো পরীক্ষা থাকবে না। উন্নত বিশ্বের কোথাও প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্তরেই পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। শিশুরা আনন্দের মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জন করে। তবে আমাদের দেশে শিশুদের মূল্যায়নের যথাযথ পদ্ধতি না থাকায় পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীলতা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তা ছাড়া স্কুলে অনেক ছাত্রের তুলনায় প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব, স্কুল সময়ের স্বল্পতা, উপযুক্ত আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি এবং শিক্ষকদের আর্থিক ও মর্যাদাগত প্রণোদনার অভাব মিলিয়ে সামগ্রিক স্কুল শিক্ষা খুুবই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেদিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শিক্ষার মানের সংকট আরও বেশি বেড়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, কোনোরূপ চিন্তাভাবনা না করে শুধু খামখেয়ালির বশে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আমাদের বাস্তবতার আলোকে এবং সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

বরং শিশুদের জন্য আনন্দময় পরিবেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট রূপরেখার মধ্যেদিয়ে যেতে হবে আমাদের। প্রাথমিক শিক্ষায় মেধাবী তরুণদের আকৃষ্ট করা না গেলে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। তার ওপর রয়েছে শ্রেণিকক্ষের উপযুক্ত পরিবেশ, যথাযথ উপকরণ এবং শিশুদের অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি প্রয়োগের বন্দোবস্ত। এগুলো যথাসময়ের মধ্যে পূরণ করা না গেলে পরীক্ষা বাতিলের ক্ষেত্রে কোনো সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

তবে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, বিশেষ পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই অবিলম্বে যা কার্যকর করা যায় তা হলো পঞ্চম শ্রেণির পর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা পিইসি বাতিল। সেটা বহাল রেখে স্কুলে পরীক্ষা বাতিল করলেও অভিভাবক ও শিক্ষকরা কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে পরীক্ষার বাধ্যবাধকতার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের আটকে রাখবে। তাতে শিক্ষা এবং পরীক্ষা দুটোই হাতছাড়া হবে। সেটাও আমলে নিতে হবে। শিক্ষা হবে যুগোপযোগী। কিন্তু সেই যুগটা তো সর্বত্রই একই মাত্রার নয়। কাজেই এটা কোথায় কীভাবে লাগসই হবে সেটাও তো সবার আগে বিচারবিবেচনায় নিতে হবে! 

Ads
Ads