কুমুদিনী ট্রাস্ট মানবতার সেবায় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • ১৪-মার্চ-২০১৯ ১০:১০ অপরাহ্ন
Ads

:: আব্দুস সাত্তার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,মানুষকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেবার জন্য দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা কুমুদিনী হাসপাতাল স্থাপন করেছেন। কুমুদিনী ট্রাস্ট মানবতা সেবায় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান ও কুমুদিনীর ৮৬তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সকল কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। তিনি যেমন এক হাতে অর্থ উপার্জন করতেন আর এক হাতে মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিতেন। তিনি সকলের কথা ভেবেছেন। কুমুদিনী ট্রাস্টের মাধ্যমে অনেক সেবামূলক কাজ করা হচ্ছে। কুমুদিনীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল ধরণের সহযোগিতা দেয়ারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মির্জাপুর কুমুদিনী কমপ্লেক্সে গিয়ে স্মৃতিচারণা করে বলেন,ছোট বেলায় ৫৬/৫৭ সালে এখানে একবার এসেছিলাম, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাসহ সবাই।দীর্ঘ সময় এখানে ছিলাম। এই স্কুলটা, হাসপাতাল সব ঘুরে ঘুরে দেখেছি। খুব ছায়ার মতো আমার এইটুকু স্মৃতি মনে আছে। তবে মনে আছে এই জায়গা এতো সুন্দর দেখে বাবা বলেছিলেন আমাকে এই কুমুদিনী স্কুলে ভর্তি করে দেবেন। তবে হোস্টেলে রেখে পড়ানো আমার মায়ের খুব একটা পছন্দ ছিল না। তাছাড়া এরপর ৫৮ সালে মার্শাল ল হয়। আমার বাবাকে জেলে নিয়ে যায়। আমাদের পড়াশোনা এমনিতেই বন্ধ। পরে আর আসা হয়নি। তবে ৮১ সালে দেশে ফেরার পর আমি অনেকবারই এসেছি।এখানে আসতে পেরে আজ সত্যি নিজেকে ধন্য মনে করছি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল, মা বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল, সেই একাত্তর সালেই ৭ মে হানাদাররা নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। তাদের পরিবার আর কখনোই তাদের ফিরে পায়নি। স্বজন হারানোর বেদনা যে কত কঠিন, এই বেদনা যে কত যন্ত্রণাদায়ক সেটা আমরা বুঝতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই আমার যাত্রা শুরু। একটাই আলো ছিল, জনগণের ভালোবাসা। সেটা নিয়েই কাজ করেছি। মনে রেখেছি বাবা কী করতে চেয়েছিলেন। মনে রেখেছি তার কাজের একটুকুও যদি আমি করতে পারি সেটাই হবে আমার বড় সাফল্য। বাংলাদেশকে এখন বিশ্ব উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে দেখে। আমরা আরও অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই।  

এর আগে বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌছালে অনার অব গার্ড প্রদান করেন পুলিশ বাহিনী। শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লের প্রশংসাও করেন তিনি।পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার ১২ টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৯ টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।এরপর কুমুদিনী পরিবার ২০১৫ সালে রণদা প্রসাদ স্বর্ণপদক প্রবর্তন করে। এ বছর যে চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণ পদক প্রাপ্তরা হলেন,পদক পেয়েছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর) পক্ষে পদক গ্রহন করেন শেখ রেহানা, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর) পক্ষে পদক গ্রহন করেন খিলখিল কাজী, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং চিত্রশিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন। রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে কুমুদিনী ট্রাস্টের পরিচালক ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ জলিল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম, ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।সে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী, এমপি, সচিব ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেৃতবৃন্দরা ।  

বিকালে একই স্থানে তিনি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সফর শেষে বিকালে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হন।

উল্লেখ্য, এর আগে রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক দেয়া হয় ২০১৫ সালে ২ জন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং জাতীয় অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ ইব্রাহিম (মরণোত্তর) পক্ষে অধ্যাপক ডাক্তার এ.কে. আজাদ খান। ২০১৬ সালে ৩ জন প্রয়াত কবি বেগম সুফিয়া কামাল (মরণোত্তর) পক্ষে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, শাইখ সিরাজ ২০১৭ সালে ৩ জন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (মরণোত্তর) পক্ষে আরমা দত্ত, স্যার ফজলে হাসান আবেদ, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

Ads
Ads