আজ ডাকসু নির্বাচন: অনুকরণীয় সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশায়

  • ১১-মার্চ-২০১৯ ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড.কাজী এরতেজা হাসান ::

দেশের মিনি পার্লামেন্ট বলে খ্যাত ডাকসু নির্বাচন। দীর্ঘ ২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে পড়বে আজই। বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিশ^বিদ্যালয়ের সব ছাত্র সংগঠন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই একটা উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে গোটা ক্যাম্পাসজুড়ে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি, অপরাজেয় বাংলার মতো জমজমাট আড্ডাস্থলগুলোতে বহুমুখী প্রচারের ঢেউ। 

তবে ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থী, ভোটার, ছাত্র সংগঠন সবার একটাই চাওয়া- সুষ্ঠু ভোট। কিন্তু দেশের সব রাজনৈতিক সংগঠনগুলো মুখে তোতাপাখির মতো ‘গণতন্ত্র’ আওড়ালেও কার্যত নির্বাচনী ময়দানে সবাই যেন যেকোনো মূল্যে হলেও জয় ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবতেই পারে না। আর এই ভাবনা থেকেই ভর করে তাদের ওপর অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। আর তখনই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। ফলে এ অবস্থায় একাধিক ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এরই মধ্যে গত শনিবার প্রচারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খানিকটা উত্তাপ ছড়ায় বাম ছাত্র সংগঠনের হাতে জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র সমাজের ধাওয়া খাওয়ার ঘটনা। এ ছাড়া শেষ দিনে ইশতেহার ঘোষণা, মিছিলের মতো কর্মসূচিও ছিল। নির্বাচনে মোট ভোটার ৪৩ হাজার ১৭৩ জন। মোট প্রার্থী ৭৩৮ জন। তাদের মধ্যে ডাকসুতে প্রার্থী হয়েছেন ২২৯ জন। ১৮টি হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫০৯ জন। প্যানেল সংখ্যা ১০। এর বাইরে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। ভোট গ্রহণ ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন একজন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাঁচজন রিটার্নিং কর্মকর্তা। শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হবেন ডাকসু ও হল সংসদগুলোর নতুন নেতৃত্ব। তাদের বরণ করে নিতে অপেক্ষায় রয়েছেন ছাত্র-শিক্ষকসহ পুরো ঢাবি পরিবার।

কেননা, এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আড়াই দশকের বেশি সময় শেষে ফের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা পাবে। কিন্তু তার আগে সবারই একটা চাওয়া, ২৮ বছর পর হতে যাওয়া এ নির্বাচন যেন জাতীয় নির্বাচনের মতো প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। সিইসি’র মতো কাউকে এমন বক্তব্য যেন দিতে না হয়, ‘ইভিএম হলে আগের রাতে ব্যালট বাক্সে ভোট ভরতে হবে না আর’। যে দেশের মানুষ এক সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভোট দিত, যে ভোটে এত বিতর্কের জন্ম দিত না, সেখানে দেশের মানুষ আজ এত শিক্ষিত ও সচেতন হওয়ার পরও কেন ‘সুষ্ঠু নির্বাচন’ নিয়ে এত সংশয়াকূল থাকবে? এই প্রশ্নের সমাধানের উদ্দেশ্যেই এখন আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, দীর্ঘ ২৮ বছর পর হতে যাওয়া এ ডাকসু নির্বাচনে একটা সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে দেশের ছাত্রসমাজ এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যে, তাতে করে যেন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নেতাদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। 

Ads
Ads