বড় ওভেনে পোড়ানো হয় খাসোগির দেহ!

  • ৫-মার্চ-২০১৯ ০১:৪২ অপরাহ্ন
Ads

:: সীমানা পেরিয়ে ডেস্ক ::

হত্যার পর সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির টুকরো টুকরো দেহ বড় আকারের একটি ওভেন বা চুল্লিতে পোড়ানো হয়। এভাবে তিন দিন পুড়িয়ে গলিয়ে ফেলা হয়। ইস্তাম্বুলে সৌদি দূতাবাস থেকে ৫০০ মিটার দূরেই সৌদি কনসাল জেনারেলের বাসভবনে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয় ওভেনটি।

এর তাপমাত্রা ছিল ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রা যে কোনো কঠিন ধাতুও গলিয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট। অর্থাৎ ওভেনটি ব্যবহার করা হয় হাড়-মাংসসহ খাসোগিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য। আলজাজিরার এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সৌদির ঘাতক দলের হাতে এই সাংবাদিক হত্যার বিষয়ে রোববার রাতে বিস্তারিত তথ্য সংবলিত একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র প্রচার করেছে আলজাজিরা আরবি।

এতে বলা হয়েছে, সৌদি কনসুলেটের ভেতরে খাসোগিকে হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। পরে কয়েকটি ব্যাগে ভরে কয়েক শ মিটার দূরে অবস্থিত কনসুলেট জেনারেলের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ভেতরে তার মরদেহ পোড়ানো হয়। তুর্কি কর্মকর্তাদের তদন্তে পুরো বিষয়টি উঠে এসেছে।

খাসোগির মরদেহ পোড়ানোর জন্য চুল্লি নির্মাণকাজে জড়িত তুরস্কের এক শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে আলজাজিরা। তিনি বলেছেন, ‘সৌদি কনসাল থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়ার পর এ চুল্লি নির্মাণ করা হয়। তাকে বলা হয়েছিল, এ চুল্লি হবে অনেক গভীর, তাপমাত্রা হবে এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে, যাতে যে কোনো ধরনের ধাতব পদার্থও গলে যায়।

শরীরের কোনো অংশ যাতে অবশিষ্ট না থাকে, সেজন্য হত্যাকাণ্ডের পর খাসোগির মরদেহের টুকরো ওভেনে সিদ্ধ করা হয়েছিল। সৌদি কনসালের দফতরের দেয়ালে খাসোগির রক্তের সন্ধান পেয়েছেন তুর্কি তদন্তকারীরা। ২ অক্টোবর ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্টকে হত্যার পর কনসালের দেয়াল নতুন করে রং করা হয়। তদন্তকারীরা সেই রং ওঠে ফেলার পর দেয়ালে রক্তের আলামত পেয়েছেন।

আলজাজিরার চাঞ্চল্যকর এ তথ্যচিত্র তুরস্কের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও খাসোগির বেশ কয়েকজন তুর্কি বন্ধুর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। সৌদি আরবের প্রতাপশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত নির্বাসিত সাংবাদিক খাসোগি তার তুর্কি বংশোদ্ভূত বান্ধবীকে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ২ অক্টোবর সৌদি কনসুলেটে যান।

কনসুলেটে প্রবেশের পর সৌদির এই সাংবাদিকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুরুর দিকে সৌদি আরব জানায়, কনসুলেট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহের পর বেরিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক চাপ ও সমালোচনার মুখে কনসুলেটের ভেতরে জামাল খাসোগি খুন হয়েছেন বলে স্বীকার করে সৌদি আরব। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে খাসোগিকে হত্যা করা হয়। তবে সৌদি আরব এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। খাসোগি হত্যার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে চিহ্নিত করে দোষী সাব্যস্ত করেছে সৌদি আরব। দেশটিতে তাদের বিচার চলমান রয়েছে। সন্দেহভাজন এই খুনিদের তুরস্কের হাতে তুলে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে রিয়াদ।

Ads
Ads