সুলতানের পথেই বিএনপির ৫ সাংসদ?

  • ৪-মার্চ-২০১৯ ০১:০০ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক :: 

আগামী ৭ মার্চ শপথ নেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত দুই সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান। তাদের শপথ গ্রহণের পর পরিস্থিতি ও আইনগত দিক পর্যালোচনার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বিএনপি থেকে নির্বাচিত বাকি ৫ জন সাংসদ হিসেবে শপথ নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। একাদশ জাতীয় সংসদে শপথ নেয়ার ব্যাপারে মির্জা ফখরুল আপত্তি জানালেও বাকি ৫ জন ইতিমধ্যে শপথ নেয়ার জন্য একাধিক বৈঠক করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সুলতান মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিএনপি থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি তাদের বলেছি, আমাদের কণ্ঠ যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, সংসদে গিয়ে আমাদের মূল কথাগুলো বলা উচিৎ। সংসদে গিয়ে যদি আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারি তাহলে সেটা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির জন্য ভাল হবে।’

জানা গেছে, ঢাকায় বিএনপির এই ৫ নেতা দুটি বৈঠক করেছেন। গতকাল সুলতান মনসুর সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে তারাও নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করেন। এরপর তারা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন ফখরুল বলেন যে, বিএনপি এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং বিএনপি এই সংসদে যাবে না। কিন্তু এই ৫ জন নেতাই নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় ঠিক করেছেন যে, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর যদি সংসদে যান এবং শেষ পর্যন্ত তাদের যদি কোন আইনগত জটিলতা সৃষ্টি না হয় তাহলে সুলতান মনসুরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই ৫ জন নির্বাচিত নেতা সংসদে যেতে পারেন।

গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা মোকাব্বির খানের শপথের ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ নেই। যেহেতু তিনি গণফোরাম থেকে নির্বাচিত একমাত্র এমপি, তাই তার ক্ষেত্রে দলীয় অনুমোদনের কোন শর্ত প্রযোজ্য নয়। কিন্তু সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের ব্যাপারে কিছু আইনগত জটিলতা হতে পারে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। তিনি বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষরে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। বিএনপি নির্বাচন কমিশনের একটি নিবন্ধিত দল এবং তার প্রতীকও নিবন্ধিত প্রতীক। বিএনপির সম্মতি ব্যতিরেকেই তার শপথ নেয়ার ব্যাপারে আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। অনেকেই বলছেন, যেহেতু সুলতান মনসুর বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন তাই বিএনপি যদি তার শপথ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে চ্যালেঞ্জ করে তাহলে নির্বাচন কমিশন সে অভিযোগ শুনতে বাধ্য। এই পক্ষে রয়েছেন অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক। আবার ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের মতো আইনজীবীরা মনে করছেন, সংসদে শপথ নেয়ার পরই কেবল দলের সিদ্ধান্ত মানা বা না মানার বিষয়গুলো কার্যকর হবে। শপথ নেয়ার আগ পর্যন্ত এসব কোন বিষয়ই কার্যকর হবে না। 

এই বিতর্কের কারণেই বিএনপির ৫ জন নেতা জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩), মোশারফ হোসেন ((বগুড়া-৪), আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), হারুনুর রশিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) ও উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), যারা সংসদে গিয়ে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে ইচ্ছুক তারা সুলতান মনসুরের পরিণতি দেখতে চান। তাদেরকে দলের মহাসচিব বলেছেন, সুলতান মনসুর শপথ নিলেই তারা দলগতভাবে এটাকে চ্যালেঞ্জ করবেন। চ্যালেঞ্জের পরিণাম দেখেই এই ৫ নেতা সিদ্ধান্ত নিতে চান তারা শপথ নেবেন কি না। 

তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই ৫ জনই সংসদে যেতে ইচ্ছুক। সংসদে গিয়ে তারা তাদের কথা বলতে আগ্রহী। আইনানুযায়ী সংসদের প্রথম কার্যদিবসের ৭০ দিনের মধ্যে একজন নির্বাচিত সাংসদকে শপথ নিয়ে সংসদে যোগদান করতে হয়। যদি কোন কারণে তারা শপথ না নেন এবং সংসদে যোগদান না করেন তাহলে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে তারা এই সময় বাড়াতে পারেন।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Ads
Ads