লড়াইয়ের পরও সেই ইনিংস পরাজয়

  • ৩-মার্চ-২০১৯ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

আরেকবার ইনিংস ব্যবধানে হারের চোখরাঙানি ছিল কালই। অনেকে তো ভেবেছিলেন, আজ প্রথম সেশনেই তা নিশ্চিত হবে। মাহমুদউল্লাহ-সৌম্য মিলে এই ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করেছেন, আবার করেননি। না, স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের কাছে তারা হেরেছে ইনিংস ও ৫২ রানের ব্যবধানে। তবে এই হারের আগে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ সেশনে টানতে পেরেছে বাংলাদেশ।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় বাংলাদেশ এই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করতে পেরেছে সৌম্য-মাহমুদউল্লাহর ২৩৫ রানের দুর্দান্ত এক জুটির কল্যাণে।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দেয়া ২৩৪ জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৭১৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। ফলে ৪৮১ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। পাহাড়সম রানের নিচে চাপা পড়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৭৪ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করে সফরকারীরা।

রবিবার চতুর্থ দিন খেলতে নামে বাংলাদেশ। সৌম্য ৩৯ ও মাহমুদউল্লাহ ১৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। এদিন শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন তারা। বলের গুণাগুণ বজায় রেখে ব্যাট চালান দুজনে। বোঝাপড়া তৈরি হলে জমাট বাঁধে তাদের জুটি। গড়ে ওঠে অসাধারণ মেলবন্ধন।

এরইমধ্যে ফিফটি তুলে নেন সৌম্য। যেন পণ করেছিলেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাবেন। দুর্দান্ত টাইমিং আর রিফ্লেক্সে খেলেন অনন্য সব ক্রিকেটীয় ও উদ্ভাবনী শট। এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে। মাঝে চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহও।

স্বভাবজাত খেলে ৯৪ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য। এটি বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। অবশ্য যৌথভাবে। ২০১০ সালে লর্ডসে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডটি এতদিন একার ছিল তামিম ইকবালের। তার পর সেঞ্চুরির পথে থাকেন মাহমুদউল্লাহ। এতে নিউজিল্যান্ডকে সমুচিত জবাব দিতে থাকে টাইগাররা।

তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করে লম্বা ইনিংসের পথে এগিয়ে যান সৌম্য। মনে হচ্ছিল, দেড়শ ছোঁয়া সময়ের ব্যাপর। তবে হঠাৎই খেই হারান তিনি। ট্রেন্ট বোলের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন সৌম্য। ফেরার আগে খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৪৯ রানের বীরোচিত ইনিংস। ২১ চার ও ৫ ছক্কায় এ ইনিংস সাজান বাঁহাতি টপঅর্ডার। এতে ভাঙে ২৩৫ রানের জুটি।

পরক্ষণেই টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি লিটন দাস। বোল্টের বলে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এতে পথ হারায় বাংলাদেশ। এর জের না কাটতেই নিল ওয়েগনারের বলে জিত রাভালকে ক্যাচ তুলে দেন শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসান মিরাজ। পরে মাহমুদউল্লাহকে সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করেন আবু জায়েদ রাহী। তবে ব্যর্থ হন তিনি। বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এ লোয়ারঅর্ডার।

আবু জায়েদ এরপর ফিরলে বেশিক্ষণ থাকেননি রিয়াদও। তার আগে চতুর্থ সেঞ্চুরি নিয়েছেন। রিয়াদ টেস্টের ক্যারিয়ার সেরা ১৪৬ রানের ইনিংস খেলে সাউদির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে লেজ গোটাতে সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। শেষ উইকেটে এবাদতকে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দী করান সাউদি। বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৪২৯ রানে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে এই ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন বোল্ট। ৩টি টিম সাউদি ও দুটি নেইল ওয়াগনার। ম্যাচসেরা ডাবল সেঞ্চুরি করা কেন উইলিয়ামসন।

Ads
Ads