আজ অভিনন্দনকে মুক্তি দিচ্ছে পাকিস্তান, অপেক্ষায় ভারত

  • ২-মার্চ-২০১৯ ০২:০১ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ভারতীয় বিমান বাহিনীর উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে শুক্রবার (০১ মার্চ) মুক্তি দিচ্ছে পাকিস্তান। দুপুর আড়াইটার সময় অমৃতসরের ওয়াগা-আতারি সীমান্তে আনা হবে অভিনন্দনকে। সেখানেই তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

জানা গেছে যে, অভিনন্দনকে প্রথমে পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডি থেকে লাহৌরে আনা হবে। সেখানে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রস (আইসিআরসি) এর হাতে তুলে দেওয়া হবে বিমান বাহিনীর এই উইং কম্যান্ডারকে। তারপরে তাকে নিয়ে আসা হবে ওয়াগা-আতারি সীমান্তে। সেখান থেকে অভিনন্দনকে নিয়ে যাওয়া হবে দিল্লিতে।

ইতিমধ্যেই ছেলেকে নিতে অমৃতসরে পৌঁছে গিয়েছেন তার বাবা এয়ার মার্শাল এস বর্তমান ও মা শোভা বর্তমান। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহও ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টুইট করে জানিয়েছেন অমৃতসরের আতারি সীমান্তে অভিনন্দনকে গ্রহণ করতে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন।

টুইটে তিনি লিখেন, অমৃতসরে আছি। জানতে পেরেছি যে, পাক সরকার অভিনন্দনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াগা সীমান্তে তাকে আনা হবে। সীমান্ত থেকে তাকে গ্রহণ করা আমার কাছে একটা বড় সম্মানের বিষয়।

এদিন সেনার শীর্ষ নেতৃত্ব অন্যান্য কর্তাদের পাশাপাশি বহু মানুষ হাজির হয়েছেন ওয়াগা সীমান্তে। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা সীমান্ত। কখন অভিনন্দন আসবেন সেই অপেক্ষায় ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ।

পাক সেনার হাতে উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের ধরা পড়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই তার মুক্তির জন্য দেশ জুড়ে প্রার্থনা শুরু হয়। কন্দহরের মতোই পাকিস্তান এক্ষেত্রেও শর্ত রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভারত আগেই বলেছিল কোনও শর্তেই তারা রাজি নয়। সেই সঙ্গে পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দিয়েছিল জেনেভা কনভেনশনের কথা। পাকিস্তান যখন বুঝল, কোনোভাবেই যখন ভারতকে টলানো সম্ভব নয়, পাক প্রধানমন্ত্রী তারপরই ঘোষণা করে দিলেন, শান্তির বার্তা দিতেই মুক্তি দেওয়া হবে অভিনন্দনকে।

ইমরান তার বক্তব্যে ‘পিস জেসচার’ এই দু’টো শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। পাকিস্তান যতই এটাকে ‘পিস জেসচার’ বলুন না কেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপে পড়েই কিন্তু অভিনন্দনকে মুক্তি দিতে বাধ্য হচ্ছে পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় ভারতের বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ৪৪ জওয়ান নিহত হন।

জঙ্গিদের মদত দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদকে অভিযুক্ত করে এর মোক্ষম জবাব দিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে পাকিস্তানের বালাকোট শহরে জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের আস্তানায় হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। হামলায় প্রায় ৩০০ জঙ্গি নিহত হয় বলে দাবি করে ভারত। এর একদিন পরই ভারতের দু’টি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত ও পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করার দাবি করে পাকিস্তান।

Ads
Ads