এবার দিলীপ বড়ুয়াকে একহাত নিলেন আমু!

  • ২৬-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৯:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেখানকার রাসায়নিক কারখানা নিয়ে সাম্যবাদী দলের সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার দোষারোপের জবাব দিয়েছেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু।

আমুর জাবাব, নিজের দায় এড়াতে দিলীপ বড়ুয়া তার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। দিলীপ বড়ুয়া ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীর সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনার সময় শিল্পমন্ত্রী ছিলেন।

সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যাতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উভয় ঘটনাই রাসায়নিক কারখানা ও গোডাউনের কারণে ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

চকবাজারের ঘটনায় গত শনিবার ১৪ দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে যান দিলীপ বড়ুয়া। এ সময় তিনি সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমুকে দোষারোপ করেন।

দিলীপ বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'আমাদের যে শিল্পমন্ত্রী (আমু) ছিলেন, উনি যদি সিরিয়াসলি কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানা সরানোর বিষয়টি টেকআপ করে নিতেন, তাহলে হয়তো এত দিনে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন রিলোকেট করা সহজ হতো।'

দিলীপ বড়ুয়ার এমন বক্তব্যের জবাব দিতে সোমবার রাজধানীর ইস্কাটনে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্পমন্ত্রী আমু।

দিলীপ বড়ুয়ার উদ্দেশে আমু বলেন, 'কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন যাতে না হতে হয়, সে জন্য অ্যাডভান্স এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্ট করেছে।'

দিলীপ বড়ুয়ার এই বক্তব্য আলোচনায় আসার জন্য কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগের এই হেভিওয়েট নেতা বলেন, 'আজ পর্যন্ত যে দল একটা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করতে সাহস পায় না, তারা কিসের আলোচনায় আসবে? একটা ইউনিয়ন পরিষদে সদস্য দেয়ার মতো ক্ষমতা নেই, তারা কিসের আলোচনায় আসবে?'

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারকে দোষারোপ করছে বিএনপি-আবার আওয়ামী লীগের শরিক জোটের নেতার এমন অভিযোগে সরকার বিব্রত কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন আমু বলেন, এই ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। দিলীপ বড়ুয়া এমন একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন যে দলে নিজ যোগ্যতায় একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হওয়ারও সামর্থ্য নেই। ১৪ দলে না আসলে তাকে কেউ চিনতও না।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে একটি কেমিক্যাল পলি­ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিসিকের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে একটি ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ওই কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা ছিল তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার। তার অদক্ষতা ও অযোগ্যতা ও নির্লিপ্ততার কারণে তাকে সভাপতি করা হয়নি। এতেই তার ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়।

আমু আরও বলেন, আমি দীলিপ বড়ুয়ার নাম কোথাও পাইনি। যেটা আমি দেখলাম সেটা হচ্ছে, চার মাস পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটা মিটিং হয়, সেই মিটিংয়ে একটা টাস্ক ফোর্স হয়েছিল।

সাবেক এই শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, আমি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রকল্প অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাই। আমার সময় কেমিক্যাল পলি­ গঠনের লক্ষ্যে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন করানো হয়। তারপরই আমার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের বারবার আহ্বান করা হলেও তারা স্থানান্তরের চুক্তি সম্পাদনে আসেননি।

এক প্রশ্নের জবাবে আমু বলেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা ছোট আকারের ব্যবসা করেন। তারা এখান থেকে সরতে চান না। তাছাড়া, এসব প্রতিষ্ঠান শিল্প মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্তও নয়। এসব কারণে কেমিক্যাল কারখান সরাতে সময় লাগছে।

Ads
Ads