আত্মসমর্পণ করলেন ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর

  • ১৭-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দোষ স্বীকার করে কক্সবাজারের টেকনাফের ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছেন। এর মধ্যে ৩০ জন গডফাদার ও ৭২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছেন।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে ইয়াবা ও অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় আত্মসমর্পকারীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

আত্মসমর্পণের পর তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আত্মসমর্পণকালে তারা ৩ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও ৩০টি দেশীয় পিস্তল জমা দিয়েছেন

যে ৩০ ইয়াবা গডফাদার আত্মসমর্পণ করেন, তারা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির চার ভাই আবদুর শুক্কুর, আবদুল আমিন, শফিকুল ইসলাম শফিক, ফয়সাল রহমান, বদির ভাগনে সেহেদ রহমান নিপু, বদির ভাগনে পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, বদির বেয়াই সাহেদ কামাল, বদির ফুপাতো ভাইয়ের ছেলে কামরুল হাসান রাশেল।

হ্নীলার নুরুর হুদা মেম্বার, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের ছেলে দিদার মিয়া, ডেইল পাড়ার দুই সহোদর আবদুল আমিন ও নুরুল আমিন, এনামূল হক এনাম মেম্বার, একরাম মেম্বার, সৈয়দ হোসেন মেম্বার, সাবারংয়ের মৌলভি বশির আহম্মদ, পল্লানপাড়ার শাহ আলম, জালিয়াপাড়ার মোজাম্মেল হক ও জুবায়ের হোসেন, নজিরপাড়ার আবদুর রহমান, ইয়াবা ডন সাইফুর করিমের দুই শ্যালক গুদারবিলের জিয়াউর রহমান ও আবদুর রহমান।

হ্নীলা বাজার পাড়ার মোহাম্মদ শাহ, পশ্চিম লেদার নুরুল কবির, পৌর এলাকার মারুফ বিন খলিল বাবু, মোহাম্মদ ইউনুস, হ্নীলার সৈয়দ হোসেন সৈয়দু, জামাল মেম্বার, শাহাপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম রেজু মেম্বার ও হাসান আবদুল্লাহ।

আত্মসমর্পণের পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দুই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা হলেন- টেকনাফ সদরের ইউপি সদস্য বহুল আলোচিত এনামুল হক ও মো. সিরাজ।

প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন- ইয়াবা পুরো দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে দেশের নতুন প্রজন্মর চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অপরাধে আমরা দায়ী। অন্যদিকে ইয়াবা ব্যবসার কারণে টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজার জেলার মানুষ সারাদেশের মানুষের কাছে ছোট হয়ে আছে। যেখানে যাই টেকনাফের মানুষ পরিচয় দিলেও আমাদের ঘৃণা করা হয়। এমনকি কোথাও হোটেল ও বাসা ভাড়া নিতে গেলে আমাদের দেয়া হয় না। আমাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে ভর্তি করা হয় না। এটা বড়ই কষ্টের এবং লজ্জার। এসব কিছু বুঝতে পেরে আমরা দেশকে ইয়াবার আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছি। যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেনি তাদেরও আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদেরকে ক্ষমা করে স্বাভাবিক জীবনের ফেরা সুযোগ দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আকুতি জানাচ্ছি।

তারা আরও বলেন, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করলে ইয়াবার আগ্রাসন বন্ধ হয়ে যাবে। সীমান্তে যৌথভাবে টহল দেয়া হলে কোনোভাবেই ইয়াবা বাংলাদেশে ঢুকতে পারবে না।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশের চট্টগ্রাম রেন্ঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ, কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, আলহাজ আশেকউল্লাহ রফিক, আলহাজ সাইমুম সরওয়ার কমল, শাহীন আক্তার চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

/কে 

Ads
Ads