ত্যাগী এবং পরীক্ষিতদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উপহার রয়েছে!

  • ১৬-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ১২:০৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মহিলা সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন এবং উপজেলায় প্রথম ধাপে মনোনয়নে খুশী তৃণমূলের আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ত্যাগী এবং দুঃসময়ে দলের জন্য যারা হাল ধরেছেন, এই দুই মনোনয়নে তারাই প্রাধান্য পেয়েছেন। দলের ভেতর উড়ে এসে জুড়ে বসা এবং হাইব্রিডদের রীতিমতো উচ্ছেদ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বলছেন ‘এটা আওয়ামী লীগের আরেকটি বিজয়।’ এর ফলে ত্যাগী কর্মীরা উৎসাহী হবে, তারা সংগঠনের জন্য কাজ করবে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দুটি বার্তা দিয়েছেন:

প্রথমত; দলের জন্য কাজ করলে দল মূল্যায়ন করে। দ্বিতীয়ত; হঠাৎ এসেই আওয়ামী লীগের বড় নেতা হওয়া যায় না।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের একজন নেতা বলেছেন, গত দশ বছরে তৃণমূলে যেভাবে ভাড়াটে আওয়ামী লীগের উপদ্রপ শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ালো। অবশ্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারা মনে করেন, দলে ‘অতিথি পাখি’দের আগমন বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আগেই। গত বছর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতি এই কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের তিন পুরুষের ঠিকুজী নিয়েছিলেন। যাদের নেতৃত্বে নেয়া হয়েছে তাদের বাপ-দাদারাও আওয়ামী  লীগ করতেন। অন্যদল থেকে আসা বা হঠাৎ ছাত্রলীগ করা দের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের ফল পাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ছাত্রলীগের বদনাম গত কয়েকমাসে অনেকটাই ঘুচেছে। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির অভিযোগ নেই। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই প্রক্রিয়া অনুসরন করা পুরোপরি সম্ভব হয়নি। কারণ বিএনপি নির্বাচন করায়, আওয়ামী লীগের প্রধান বিবেচ্য ছিলো কে জিতবে? তারপরও ঐ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকাতেও সুবিধাবাদী, সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারীদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মহিলা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনে সুবর্ণা মুস্তাফা এবং এ্যারোমা দত্ত ছাড়া সবাই দলের পোড় খাওয়া নেতাকর্মী। এদের অনেকেই তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের জন্য। সুবর্ণা মুস্তাফা সরাসরি আওয়ামী লীগ না করলেও সারাজীবনই মুক্ত চিন্তা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে ছিলেন দৃঢ়। এ্যারোমা দত্ত ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দৃঢ় ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত। অনেকেই আশংকায় ছিলেন, এতো মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি আসল নকলের পার্থক্য চিনবেন কী করে? কিন্তু এই মনোনয়ন দিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন, তিনি পাকা জহুরী।

মহিলা মনোনয়নের ১২ ঘণ্টা পরই ঘোষণা করা হলো, ৮৭টি উপজেলায় চেয়ারম্যানের মনোনয়ন। গতবার উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ছিলো হাইব্রিডের ছড়াছড়ি। বিএনপি-জামাত থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই উপজেলা চেয়ারম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বনে গিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। প্রথম তালিকা দেখে বোঝা গেল, যারা আওয়ামী লীগের থেকে উৎসারিত তাদেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূলে আবার ক্ষমতায় এলো সত্যিকারের আওয়ামী লীগ। এই দুই মনোনয়নকেই বলা হচ্ছে, ত্যাগী এবং পরীক্ষিতদের জন্য শেখ হাসিনার উপহার।

Ads
Ads