'শর্টসার্কিট থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন'

  • ১৬-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৩:১১ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লেগেছিল বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বারিধায়ায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে হাসপাতালের নীচতলার ওষুধের স্টোরেজে। এছাড়া হাসপাতালের শিশু ও গাইনী ওয়ার্ডে অর্থাৎ দোতালায় ও তিন তলায় আগুন পৌঁছায়নি, শুধুমাত্র ধোঁয়া ছড়িয়েছে। আর এই নীচের আগুনের ধোঁয়াকেই আগুন মনে করে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ কারণে উদ্ধারকার্যে সফলতা এসেছে।

এর আগে গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন বলেছিলেন, আগুনের সূত্রপাত তিনতলায় শিশু ওয়ার্ডে। আর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান বলেছিলেন, আগুনের সূত্রপাত নীচতলায় ওষুধের স্টোরেজে। ওই দুই সংবাদ সম্মেলনেই উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

শুক্রবার মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, বক্তব্য দুইটি সাংঘর্ষিক নয়। কারণ শিশু ওয়ার্ডের প্রত্যক্ষদর্শীরা আগুন সেখানে দেখেছিলো বলে জানিয়েছে আমাদেরকে। তাই আমরা সেটা জানিয়েছিলাম। আবার ফায়ারের ডিজি আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে দেখেছেন সূত্রপাত স্টোরেজে। এখন বাকিটা তদন্তের পর জানা যাবে। ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, হাসপাতালের সর্বমোট ১২০০ রোগী ছিলো। যাদের সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে এবং অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়েছে। এসময় কোন হতাহতের কিংবা মৃত্যুর ঘটনা ঘটে নি।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কোন শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে নি। সেটা ঘটলেও অন্য হাসপাতালে ঘটেছে।

হাসপাতালের দুইটি ওয়ার্ড বাদে বাকিগুলো চালু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে মোট ১৬টি ওয়ার্ড আছে। এর মধ্যে পুড়ে ধংস হয়ে যাওয়া দুইটি ওয়ার্ড ছাড়া বাকি ওয়ার্ডগুলো গত রাত চালু করে দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্ডগুলো দ্রুত মেরামত করে চালু করা হবে।

এ ঘটনা আমাদের জন্য একটি শিক্ষা উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের অনেক হাসপাতাল ভবনগুলো পুরনো হয়ে গেছে। এগুলোর দ্রুত মেরামত করা হবে। ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা আরো আধুনিকীকরণ করা হবে। দেশের সকল হাসপাতালে বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো পুনরায় চেকিং করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার বিষয়ে অবগত আছেন। তিনি সকল ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, সাড়ে পাঁচটায় আগুন ধরার পর সাড়ে ছয়টার মধ্যে ধাপে ধাপে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করা শুরু করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলে ব্যপক সহায়তা করেছে। না হলে এ সফলতা আসত না। সংসদ অধিবেশন শেষ করে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলাম, আগুন নেভানো পর্যন্ত ছিলাম।

Ads
Ads