আমতলী উপজেলা নির্বাচন : দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতিতে নিমজ্জিত জিএম  দেলোয়ার

  • ১২-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
Ads

সিনিয়র প্রতিবেদক

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম দেলোয়ারের বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে সম্ভব্য একক প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম পাঠানোর হীনচেষ্টা সহ দুর্নীতির বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ এনেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতাকর্মী। তারা বলছেন, দুর্নীতি স্বজনপ্রীতিতে নিমজ্জিত দেলোয়ার নিজের নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে যোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থীদের  কূটকৌশলে হটিয়ে উপজেলা পরিষদ বাগিয়ে নিতে এ হীন পথে হাঁটছেন। 

অভিযোগের ব্যাপারে সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, গত পাঁচ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগ, চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগ্রহী প্রার্থীগণকে ছয় তারিখ সকাল দশটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সময়ের ভেতরে চেয়ারম্যান পদে দশ হাজার টাকা ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ফর্ম কিনতে একটি নোটিশ জারি করে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন বোর্ডের কোথাও এমন কোনো নির্দেশনা নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছয় তারিখ বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সময়ের ভেতরে চেয়ারম্যান পদে দু'জন মনোনয়ন ফর্ম ক্রয় করেন। সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যা ঘোষণাও করেন আমতলী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতিকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার একটি হীন প্রচেষ্টা তাদের ছিলো। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মীদের বিরোধিতায় তা নস্যাৎ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের পরেও আরো দু'জনকে মনোনয়ন ফর্ম কেনার তালিকায় যোগ করে একটি কূটকৌশলী সিদ্ধান্ত নেয়া হয় পাশাপাশি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বর্ধিত সভার সমাপ্তি টানা হয়। 

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে, উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী এ প্রতিবেদককে জানান, জিএম দেলোয়ার দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির দায়ে বহু আগে থেকেই অভিযুক্ত। তিনি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে গত দশ বছরের মধ্যে কয়েকশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অবৈধ এসব টাকায় তিনি গড়েছেন সুবিশাল কাপড়ের দোকান, ব্রিকফিল্ড, বিশাল রড সিমেন্টের দোকান। কুয়াকাটায় শতকোটি টাকায় গড়ে তুলছেন অত্যাধুনিক হোটেল। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ওয়ার্ড কাউন্সিলের বিবাহিত স্ত্রী এবং কন্যাকে জোরপূর্বক দীর্ঘদিন ঢাকায় এনে আটকে রাখার এবং পরবর্তীতে মতের বিরুদ্ধে বিয়ে করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার ছোটো ছেলে জি এম মুসার বিরুদ্ধে রয়েছে, কলেজ ছাত্রকে দিনের বেলায় কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ৭ টুকরো করার অভিযোগ। সে মামলায় নিম্ন আদালতে মুসার ফাঁসির আদেশ হলেও উচ্চ আদালতের রায়ে দণ্ড কমে আসে। জেল থেকে মুক্ত হয়ে মুসা পুনরায় এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়। গত নির্বাচনে আমতলী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কমিশনার নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে চলমান পৌরসভা নির্বাচনেও তিনি একইভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা উত্তোলনে বাধ্য করা হয়। ছিলেন প্যানেল মেয়রের দ্বায়িত্বে, এর পাশাপাশি কূটকৌশলে দখল করে রেখেছেন আমতলী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আরো অভিযোগ করেন, জিএম দেলোয়ার কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ১৯৯২ সাল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের এবং তার বড় ছেলে জিএম ওসমানী হাসান ২০০৮ থেকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতির পদ আঁকড়ে আছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ জোরপূর্বক আঁকড়ে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের অভিমত জানতে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জিএম দেলোয়ারের দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকার জনগণ এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জিএম  দেলোয়ার কে কোন ভাবেই মেনে নিতে চাইছেন না, তারা চাইছেন স্বচ্ছ ইমেজের, যোগ্যতাসম্পন্ন এবং দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ প্রার্থীকে। এরই ফলশ্রুতিতে নৌকার নমিনেশন চেয়ে ইতোমধ্যেই মাঠে আছেন কয়েকজন সিনিয়র এবং জনপ্রিয় নবীন নেতা। এই উপজেলা থেকে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। মর্যাদাপূর্ণ এই উপজেলায় বর্তমান সরকারের উন্নয়নের পরিকল্পনাকে আরো তরান্বিত করতে বর্তমান উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা জামাল বিশ্বাস, ২০০২ সালের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাওয়া মো. গোলাম সরোয়ার ফোরকান, আমতলীর কৃতি সন্তান, জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক ও বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান বাহাদুর এবং বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এম পি মরহুম নিজাম উদ্দিন আহম্মদ এর বড় ছেলে মো. এলমান আহম্মেদ সুহাদ তালুকদার। 

প্রার্থী হিসেবে কাকে চাইছেন জানতে চাইলে আমতলীর ভোটাররা এ প্রতিবেদককে জানান, যোগ্য স্থানে যোগ্য মানুষকেই প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে নবীন দু'জন প্রার্থীর প্রতিই অধিক সংখ্যক মানুষ ঝুঁকেছেন।  এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল ধারার রাজনীতির পক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান নিয়ে অ্যাডভোকেট বাহাদুর গুরুত্বপূর্ণ পালন করে কেবল প্রশংসাই কুড়াননি পাশাপাশি তার যোগ্যতার পরিচয় আরো একবার দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি এক এগারোর দুর্দিনে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে বরগুনায় হাতে লেখা পোষ্টার লাগানোর পরিকল্পনায় অংশগ্রহণকারীদের একজন। এর সাথে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হিসেবেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন এলাকায়। অন্যদিকে এলমান আহম্মেদ তার পিতার প্রতি মানুষের আবেগ কে কাজে লাগিয়ে আদায় করছেন ভালোবাসা। তাদের মধ্যে থেকে যেকোনো একজনের মধ্যে থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা চূড়ান্ত হলে, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানকে নিয়ে জনগণের মাঝে যে অসন্তোষ বিরাজ করছে তা কেটে যাবে বলে তারা বলছেন। তাই তারা প্রত্যাশা করেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে, নবীন এবং স্বচ্ছ ইমেজের কাউকে নৌকার কাণ্ডারি মনোনীত করার মাধ্যমে আরো একবার আমতলীবাসীর মন জয় করে নেবেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীতার ঘোষণা দিলেও অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

tion Here ...

Ads
Ads