ডিপিডিসির রমিজের অবৈধ অর্থের জোগানদাতা ৮ কর্তা

  • ৩-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: সিনিয়র প্রতিবেদক ::

ঢাকা পাওয়ার ডিসট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটডের (ডিপিডিসি) পরিচালক (প্রকৌশল) রমিজ উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দুদকে যে শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ উঠেছে সেই আয়ের যোগানদাতা ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী (ডেভেলপমেন্ট) এ এস এম মাহমুদুল হক। এরপর ডিপিডিসি’র ১৩২/৩৩ কেভি সাব স্টেশন প্রকল্পের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ সাহেদ মাহবুব ভূঞা।

এ ছাড়া মিডিয়ার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে রমিজের আরো ৫টি মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি। গত তিন বছরে ৫ টি মেগা প্রকল্প থেকে অবৈধভাবে আরো শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি বড় বড় প্রকল্পের ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন ডিপিডিসির এই নির্বাহী পরিচালক। সেখান থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অর্থ।

মেগা প্রকল্পগুলো হলো-২ লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন। প্রতিটি মিটার গ্রাহকের কাছ থেকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করা হয়। মিটার প্রদানের ক্ষেত্রে টাকা গ্রহণে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই দুই লাখ মিটার স্থাপনের টেন্ডার পায় চীনের হেকজিং কোম্পানি। প্রিপেইড মিটার দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হেকজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ থোরাই কেয়ার করে আবারও ১ লাখ মিটার স্থাপনের টেন্ডার দিয়েছেন ডিপিডিসির এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। এসব মিটার আগামি ফ্রেরুয়ারী মাসে কাজ শুরু করবে।

ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে একক ক্ষমতাবলে চায়না হেকজিং কোম্পানিকে পুনরায় টেন্ডার দিয়েছেন তিনি। তবে স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ডিপিপিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মেগা প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক গত দুই বছরে টেন্ডারের মাধ্যমে ঢাকা- নরায়ণগঞ্জে ৫ টি বিদ্যুতের উপ-কেন্দ্র (গ্রীড) নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে, বনশ্রী, মুগদা এবং নারায়ণগঞ্জে।

ভূ-গর্ভস্থ ১৩২ এবং ৩৩ কেভি ক্যাবল স্থাপন প্রকল্পের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী   মোঃ সাহেদ মাহবুব ভূঞায় বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগ। প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ফ্রান্সের অর্থায়নে এ এফ ডি প্রজেক্ট করা করা হয়। ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে এই দরপত্র আহবান করা হয়। কোরিয়ান ঠিকাদার এলএস ক্যাবল এ- সিস্টেম লিমিটেড কোম্পানি এই কাজটি পায় ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে ডিপিডিসি’র সাথে চুক্তি সম্পূর্ণ করে। ১৩২ কেভি ক্যাবল স্থাপন করা হবে ১৫৮ কিলোমিটার। ৩৩ কেভি হবে ১১৫ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ৪৮ কিলোমিটার ৩৩ কেভি ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যাবল স্থাপন শেষ হলে রাজধানীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে বলে প্রকৌশলীরা জানান।

এই ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল রাজধানীর জিগাতলা থেকে গ্রিনরোড সড়কে, আগারগাঁও থেকে  মনিপুরী পাড়া, রামপুরা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জিগাতলা থেকে কামরাঙ্গীরচর, জিগাতলা থেকে ঢাকা সোহরাওয়াদী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, কাঁটাবন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ফতুল্লাহ থেকে ফতুল্লাহ টাওয়ার, পোস্তগোলা থেকে শ্যামপুর টাওয়ার, মদনগঞ্জ থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর টাওয়ার পর্যন্ত, মতিঝিল থেকে বঙ্গভবন, মানিকনগর থেকে মতিঝিল স্থাপন করা হবে। অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের যোগসাজশে নিম্নমানের তার ও উচ্চমূল্য দেখিয়ে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

ডিপিডিসি’র প্রকল্প পরিচালক-২ এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ গিয়াস উদ্দিন এর নামেও রয়েছে অভিযোগ। ডিপিডিসি’র লোকাল লাইন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ এই তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অধিনে হয়। অভিযোগ রয়েছে বড় কাজগুলো ইজিবি’র দরপত্র হলেও গোপনে পছন্দের ঠিকাদারদের দর দিয়ে কাজ পাইয়ে দেয়ায় সহায়তা করছেন। এতে করে ইজিবি’র দরপত্রে সাধারণ ঠিকাদাররা অংশগ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা না থাকায় কাজ পাচ্ছেনা। এতে করে সংস্থাটির যেমন বিপুল পরিমান অর্থের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি কাজের গুনগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ঐ প্রকল্পটির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবদুর রাজ্জাকের নামে রয়েছে ঠিকাদারদের নানান অভিযোগ। নামে বেনামে এই প্রকৌশলী সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুদকেও রয়েছে নানান অভিযোগ। যা এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা গেছে। 

এত অভিযোগ থাকার পরও ডিপিডিসি’র প্রধান প্রকৌশলী (ডেভেলপমেন্ট) এ এস এম মাহমুদুল হককে চলতি সপ্তাহে পরিচালক প্রকৌশলের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে ডিপিডিসি’র একটি সূত্র দাবি করেছে। ডিপিডিসি’র পরিচালক (প্রকৌশল) রমিজ উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দুদকের অবধৈ সম্পদের অভিযোগে তাঁর সম্পদ ক্রোক এবং ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। রমিজের আয়ের  যোগানদাতা উপরের কর্তাব্যক্তিরা।

Ads
Ads