আবারো ফিরছেন অশ্লীল নায়ক-নায়িকারা

  • ১-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৪:২৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

বিনোদন ডেস্ক 
নব্বই দশকের পরপরই অশ্লীলতার কালো থাবা এসে পড়ে বাংলা চলচ্চিত্রে। ওই যুগে রমরমা অবস্থা ছিল নায়িকা মুনমুন, ময়ুরী, পলি , সাহারা , নাসরিনদের। নায়কদের মধ্যে আলেজান্ডার বো, অমিত হাসান, রুবেল, সোহেল খান, শাহিন আলম, মেহেদিরা ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। ভিলেনদের মধ্যে ডিপজল, ডন, মিশা সওদাগর, শিবা শানুদের ছিল ব্যাপক চাহিদা।  

একটা সময় ঢাকাই সিনেমা থেকে এর মধ্যে প্রায় সবাই বিতাড়িত হয়ে যায়। কৌশলে কেউ কেউ সুশীল সমাজে রপান্তরিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম মিশা সওদাগর। অশ্লীল যুগে তিনি কারও চেয়ে কম ছিলেন না। অসংখ্য ধর্ষণ দৃশ্যের নামে কুরুচিপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয়ে করেছেন। যখন সময় পরিবর্তন হয়ে গেছে। মিশাও খোলস বদল করেছে। অমিত হাসানও এখন নিয়মিত অভিনয় করছেন। যেসমস্ত অশ্লীল সিনেমা হয়েছে। তার মধ্যে বেশকিছু ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ও অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। ডিপজলও হেটেছিলেন অশ্লীলতার পথে। তার মুখে ঢাকাই সিনেমার দর্শকরা যেভাবে নোংরা, কুৎসিত সংলাপ শুনেছেন। সেটা খুব কম অভিনেতাই দিতে পেরেছেন। সিনেমায় তারও রয়েছে বহু কুরুচিপূর্ণ অভিনয়ের রেকর্ড। ডন, শিবা শানুরাও নিজেকে বদলে ফেলেছেন।

তবে নতুন করে এই ফেরার অপেক্ষায় আছে ঢাকাই সিনেমার একঝাঁক অশ্লীল তারকারা। তারা নিজেদের সাফাই গাইছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকার কিংবা অনুষ্ঠানে। আর তাদের সেই সময়ের যে পরিচিত মুখ, তা কাজে লাগাতে নির্মাতারাও ব্যতিব্যস্ত তাদের ফেরাতে। মুনমুন থেকেই শুরু করা যাক। গুণী নির্মাতা এহতেশামের হাত ধরে ১৯৯৮ সালে ‘মৌমাছি’ ছবিতে সর্বপ্রথম অভিষেক হয় চিত্রনায়িকা মুনমুনের। প্রায় ৯০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। অশ্লীলতার অভিযোগে সমালোচনায় মুখে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত সিনেমা জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তবে অশ্লীলতার জন্য তিনি নিজে দায়ী নন বলে সবসময় দাবি করেছে মুনমুন। সংসারে সময় দেয়ার জন্য অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছেন বলে দাবি তার। ঢাকাই সিনেমার এ অশ্লীল তারকা বর্তমানে ব্যস্ত আছেন ‘দুই রাজ কন্যা’, ‘রাগি’, ‘তোলপাড়’, ‘পাগল প্রেমি’, ‘পদ্মার প্রেম’ সিনেমা নিয়ে। এর মধ্যে কিছু সিনেমার শুটিং চলছে, কিছু সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। 

অশ্লীল যুগের আলোচিত নায়ক আলেকজান্ডার বো আবার নতুন করে ফিরেছেন ঢালিউডে। একটু একটু করে আবার পুরোদস্তুর ব্যস্ত হয়ে উঠছেন সিনেমায়। সম্প্রতি ‘পদ্মার প্রেম’ ও ‘আব্বাস’ নামের দুটি সিনেমার শ্যুটিং শেষ করেছেন। সর্বশেষ ‘অন্ধকার জগৎ’ নামের একটি ছবির শ্যুটিং শেষ করেছেন। এ মাসেই মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ছবিটির।

পলিরও ফেরার কথা রয়েছে। তবে পলি এখন অভিনয়ে নয়, প্রযোজনায় নাম লেখাতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন,‘ আমি এক মাসে ৩৬ সিনেমায় সাইন করেছিলাম। আমি যখন কাজ করতাম তখন তো বছরে ১১০- ১১২টা ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেত। আর এখন দেখেন অর্ধশত ছবিও পায়না। তাহলে এইদিন কীভাবে সুদিন হয়? নায়ক-নায়িকারা সবার সাথে কাজ করতে পারেনা। এখন নায়িকাদের নায়করা বন্দি করে রাখছে। পরিচালকরা ইচ্ছেমতো নায়ক-নায়িকা নিতে পারেন না। ফলে এখন তো ফ্লেক্সিবল হয়ে কেউ কাজ করতে পারছেনা। এসব বন্ধ হলে আবার ছবি নির্মাণের সংখ্যা বাড়বে। ছবির সংখ্যা বাড়লে ভালো ছবির সংখ্যাও বাড়বে। দর্শকও বাড়বে। আমি অভিনয়ে ফিরতে ইচ্ছুক, তবে নিয়মিত হতে পারবো না অন্যান্য ব্যবসার জন্য। ভালো গল্প পেলে প্রযোজনা করতে পারি।’

নাসরিনও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে চাচ্ছেন প্রযোজক হয়ে। নিজের বায়োপিক নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঘোষণার অবশ্য কোন বাস্তবিক রুপ দেখা যাচ্ছে না। তবে নাসরিন জানান,‘ গত বছর রাজনীতি নিয়ে একটু অস্থির সময় গেছে। এ বছরই ছবিটি নির্মাণ করার প্ল্যান আছে। এ ছবিটি ছাড়াও আরও কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের কথা আছে।’

মেহেদিও ফিরতে ইচ্ছুক। তিনি জানান,‘আমি অশ্লীল সিনেমার মাধ্যমেই আসিনি। আমি এসেছি ভালো মানের সিনেমায়। পরিবেশ পরিস্থিতিতে পরে হয়তো কিছু খারাপ ছবিতে অভিনয় করেছি। আমি এখনো সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। এখন ভালো ছবি হচ্ছে, পরিচালকরা ভাবলে আমি অভিনয় করবো। সে সময়েও যারা নিয়মিত অভিনয় করেছেন। এখনও কিন্তু অনেকে খোলস বদলে আছে। নাম বলতে চাই না। মানুষ তাদেরকে ভুলেনি। এমন অনেক পরিচালকও কিন্তু পরে এমন ভাব ধরেছে যে তারা কিছুই জানে না। দোষ শেষ পর্যন্ত সব আমাদের উপর পরেছে। এখনো যদি সুযোগ দেওয়া হয়, আমরা দেখাতে পারি কত ভালো অভিনয় জানি।

e ...

Ads
Ads