পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে গ্রহণে অস্বীকৃতি বাংলাদেশের

  • ৩১-জানুয়ারী-২০১৯ ০৫:০৯ অপরাহ্ন
Ads

সিনিয়র প্রতিবেদক
বাংলাদেশে মনোনীত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সাকলাইন সাইয়েদাহকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরের মার্চে সাকলাইন সাইয়েদাহকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর সাইয়েদাহকে গ্রহণের অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ সরকার কেন তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালো সে সম্পর্কে কোন কারণ ব্যাখা করেনি।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসের ২০তম ব্যাচের সাইয়েদাহ’র সঙ্গে বাংলাদেশের ‍যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অবসরে যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়ার প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়ার পর জানা যায়, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে।

এছাড়াও ২০১৮ সালের মার্চে তাকে নিয়োগের আগে তিনি লন্ডনে যান এবং সেখানে বিএনপির পলাতক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে গত ১০ বছর ধরেই বাংলাদেশের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় পাকিস্তানের অবস্থান ছিল যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল এবং দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে যে, সাকলাইন সাইয়েদাহকে বাংলাদেশ গ্রহণ না করার ফলে কোন টানাপোড়েন সৃষ্টি হবে না। তবে পাকিস্তান দূতাবাসের একাধিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে। কারণ প্রায় একবছর রাষ্ট্রদূত ছাড়া তাদের দূতাবাস চলছে। তারা মনে করছে, এটা কূটনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী।

দুটি দেশের কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী, যে কোন দেশে যখন একজন কূটনীতিক পাঠানো হয়, তখন সে দেশ যদি মনে করে ঐ কূটনীতিক সুনির্দিষ্টভাবে ঐ দেশের স্বার্থবিরোধী কোন তৎপরতার সঙ্গে জড়িত তখন ঐ দেশ তাকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। সাকলাইন সাইয়েদাহকে বাংলাদেশের অস্বীকৃতির জানানোর এটাই হলো প্রধান কারণ।

...

Ads
Ads