ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার  ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন

  • ২৩-জানুয়ারী-২০১৯ ০১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Ads

নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ভেবেই নির্বাচন কেন্দ্রীক কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছর পরই ছাত্র নেতৃত্বের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ডাকসু। আন্দোলনের সূঁতিকাগার নামের এই ডাকসু নির্বাচন ১৯৯০ সালে পর থেকে বন্ধ রয়েছে। ইতিহাস ও আন্দোলনের সারথী ডাকসুর নির্বাহী সংসদ গঠন হয় এর সদস্যদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে।

ডাকসুর গঠনতন্ত্র সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যলয়ের সকল নিয়মিত শিক্ষার্থীই ডাকসুর সদস্য। কোন শিক্ষার্থীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়েরে আর্থিক পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে সদস্য পদ বহাল থাকে। নির্ধারিত নিবন্ধন ফি দিয়ে বিভিন্ন কোর্সের শিক্ষার্থী (অনিয়মিত) এর সদস্য হতে পারেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরাও নিবন্ধন ফি পরিশোধ সাপেক্ষে সদস্য হতে পারলেও তারা সংসদ নির্বাচনের ভোট প্রদান বা কোন পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। অন্যদিকে, ১৯৯১ সালের ১৭ জুন সিন্ডিকেটের সভায় একটি সংশোধনী আনা হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রিডিগ্রি, বিএফএ, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবেন কিন্তু প্রার্থী হতে পারবেন না।

নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হলভিত্তিক ভোটার তালিকাও প্রস্তুত করেছে। ১৮টি হলের ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থীকে ভোটার তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৫০৯ জন ছাত্রী ও ২৩ হাজার ৯৮৪ জন ছাত্র।

ডাকসুর নির্বাহী সংসদের আকারে বিষয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি হবে বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাকে বেশ কিছু ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে যেমন, সংসদের সর্বোচ্চ স্বার্থে তিনি চাইলে যে কোন অবস্থাতেই সংসদের যে কোন নির্বাহী সদস্য বা সদস্যকে অপসারণ করতে পারবেন। তিনি চাইলে সংসদ বাতিলও ঘোষণা করতে পারবেন। সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে তিনি যতদিন চাইবেন ততদিনই সংসদকে বাতিল করে স্থগিত রাখতে পারবেন। তিনি সংসদের সভাগুলোর সভাপতিত্ব করবেন।

সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুসারে ডাকসুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন সহ-সভাপতি (ভিপি)। সভাপতি এবং কোষাধক্ষ্যের অনুপস্থিতিতে তিনি সকল সভায় সভাপতিত্ব করতে পারবেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এ সকল সম্পদ দেখাশুনা করবেন এবং সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন। তিনি সংসদের সকল সভা আহ্বান করবেন। তিনি নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে সকল কার্যক্রম সম্পাদন করবেন। সহ সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ছাত্রদের মধ্য থেকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে। অন্য পদগুলো হলে, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কমন রুম সম্পাদক, বিজ্ঞান কমন রুমের সম্পাদক, ছাত্রী কমন রুম সম্পাদক, সমাজ সেবা সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, ক্রিয়াবিষয়ক সম্পাদক, সামাজিক বিনোদন সম্পাদক, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক। এইসব পদধারী ও সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নয়জন নিয়ে নির্বাহী কমিটি গঠন হবে। তবে কোন প্রার্থীই একই সঙ্গে হল সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে হতে একজনকে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ করেন উপাচার্য।

ion Here ...

Ads
Ads