তাবলিগের সংকট নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাদ অনুসারীরা : দেওবন্দ অনুসারীরা না আসায় কাল আবার বৈঠক

  • ২১-জানুয়ারী-২০১৯ ০৪:০১ pm
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

তাবলিগের এক পক্ষ না আসায় অন্য পক্ষের মতামত নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এবারের ইজতেমার তারিখ নির্ধারণে আগামীকাল বুধবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসবেন তারা।

সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠকে তাবলিগের দিল্লি মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান কামাল ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন এই পক্ষের নেতা কাকরাইল মারকাজের শূরা সদস্য ওয়াসিফুল ইসলাম। কিন্তু দেওবন্দ অনুসারীরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আরেকটি পক্ষ সময় মতো জানতে না পেরে আসতে পারেনি।

আমরা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় উভয়পক্ষকে নিয়ে একসঙ্গে বসব এবং তাদেরকে (উভয় পক্ষ) ইজতেমার তারিখ ঠিক করতে বলব।’ এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব এক পর্যায়ে সংঘাতে গড়ানোর পর এবারের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়। বাংলাদেশের টঙ্গিতে এই ইজতেমা হয়ে আসছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে একটি দাবি আছে, তা হলো একসঙ্গে ইজতেমা হতে হবে।’

উপমহাদেশে সুন্নি মতাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় সংঘ তাবলিগ জামাতের মূলকেন্দ্র ভারতের দিল্লিতে। মাওলানা সাদের দাদা ভারতের ইসলামি পণ্ডিত ইলিয়াছ কান্ধলভি ১৯২০-এর দশকে তাবলিগ জামাত নামের এই অরাজনৈতিক সংস্কারবাদী আন্দোলনের সূচনা করেন। মাওলানা ইলিয়াছের মৃত্যুর পর তার ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ এবং তারপর মাওলানা ইনামুল হাসান তাবলিগ জামাতের আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। মাওলানা ইনামুলের মৃত্যুর পর একক আমিরের বদলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেওয়া হয় একটি শূরা কমিটির ওপর।

মাওলানা জুবায়েরের মৃত্যুর পর মাওলানা সাদ আমিরের দায়িত্ব নেন এবং একক নেতৃত্বের নিয়ম ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু মাওলানা জুবায়েরের ছেলে মাওলানা জুহাইরুল হাসান তখন নেতৃত্বের দাবি নিয়ে সামনে আসেন এবং তার সমর্থকরা নতুন করে শূরা কমিটি গঠনের দাবি জানান। কিন্তু সাদ তা প্রত্যাখ্যান করলে বিরোধ বড় আকার ধারণ করে। নেতৃত্ব নিয়ে দিল্লির মারকাজ এবং দেওবন্দ মাদরাসার অনুসারীদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে গত বছর জানুয়ারিতে ঢাকায় বিশ্ব ইজতেমার সময়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসা সাদ কান্ধলভি বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ইজতেমায় অংশ না নিয়েই তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। তারপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে।

গতকাল বৈঠকের পর সাদের অনুসারী সৈয়দ আশরাফ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে ইজতেমা করতে রাজি আছি। তবে আমাদের কিছু দাবি রয়েছে।’ তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, আগের মতো নিজামুদ্দিন (নিজামুদ্দিন আউলিয়া) মারকাজের তত্ত্বাবধানে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে হবে। তাদেরকে প্রথম ইজতেমা করার সুযোগ দিতে হবে। পছন্দ মতো বিদেশি মেহমান আনার সুযোগ দিতে হবে। 

Ads
Ads