তারেক রহমানকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: আইনমন্ত্রী

  • ১৩-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিদেশে অবস্থানরত সব সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রোববার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজ/সমমনা কর্মকর্তাদের চার মাসব্যাপী ৩৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তারেক রহমানসহ বিদেশে অবস্থানরত সব সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এ প্রক্রিয়া চলমান।

জামায়াতকে ঐক্যফ্রন্টে নেওয়া ভুল ছিলো ড. কামাল হোসেনের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ড. কামাল হোসেন সকালে এক কথা বলেন, বিকেলে আরেক কথা বলেন। তার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। 

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপিল বিভাগে অপেক্ষমাণ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মামলার শুনানি করার বিষয়টি বিচার বিভাগের ওপর নির্ভর করে। বিচার বিভাগ স্বাধীন। আমরা কখনই বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করি না। তবু আপিলে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মামলা যেন শুনানির ব্যবস্থা করা হয়, সে বিষয়ে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে আলোচনা করব।

এর আগে নবীন বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণ যাতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সে বিষয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের ভালোভাবে বুঝাতে পারলে তারা এটিকে গুরুত্ব সহকারে নেবেন এবং সেই চেষ্টা করবেন। 

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে মামলা বা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয় সেসব দেশের আদালতগুলো। এ পরামর্শের কারণে সেখানে শতকরা ৯০ ভাগ বিরোধ/মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। এভাবে তাদের জুডিশিয়ারির উপর চাপ কমে আসছে।

আনিসুল হক বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কেবল আইনের শাসনই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং দারিদ্র দূরীকরণেও জুডিশিয়ারি বিশেষ করে কোয়ালিটি জুডিশিয়ারির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই জনগণকে কোয়ালিটি জুডিশিয়ারি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার বিচার বিভাগকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মামলা জট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে যে, বিচারক হয়ে ওঠার পেছনে দেশের গরিব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অবদান রয়েছে। আর বিচারকদের কর্মক্ষেত্রই হলো বিচারপ্রার্থী এসব মানুষের শেষ ভরসাস্থল। তাই বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ বিচার বিভাগকে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন, কিংবা তাদের চোখে ন্যায়বিচারের ধারণাই বা কেমন, সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। মোট কথা বিচারপ্রার্থী জনগণের অল্প সময়ে, অল্প ব্যয়ে ও সহজে ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিছক গতানুগতিক বা দায়সারা ভাব পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিতে হবে। 

বিচারকদের বিন্দুমাত্র লোভ কিংবা অসততার কারণে বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে কোনো হতাশা বা বিরূপ ধারণার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বললেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচারকদের পেশার গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করেই বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছে।

/ই

Ads
Ads