মইনুলকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

  • ২৯-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মানহানির মামলায় গ্রেফতার সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দি-সুবিধা তথা ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ব্যরিস্টার মইনুল হোসেনের স্ত্রী সাজু হোসেনের করা একটি আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২৯ অক্টোবর) এই আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।

খন্দকার মাহবুব পরে সাংবাদিকদের বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে (ফার্স্টক্লাস ডিভিশন) প্রথম শ্রেণির বন্দির সুবিধা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশটি বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

রোববার আবেদনের ওপর শুনানিতে কামাল হোসেন বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যে মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে সেটা জামিনযোগ্য। তারপরও তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবকে সভাপতি। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের মালিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে। এই মানিক মিয়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কারাগারে ছিলেন। তার নামে মানিক মিয়া এভিনিউ করা হয়েছে। অথচ মইনুল হোসেনকে কারাগারে ডিভিশন না দিয়ে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হয়েছে।”

কামাল বলেন, মইনুল হোসেনের জন্য কেন ডিভিশন চেয়ে আবদেন করতে হবে? রাষ্ট্র নিজে থেকেই তো ডিভিশন দেবে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য। বঙ্গবন্ধুর এই বাংলাদেশে আজ  মানিক মিয়ার ছেলেকে ডিভিশনের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়ে বিচারক উপস্থিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে জিজ্ঞেস করেন, এটা কী হচ্ছে? সামান্য একটি বিষয় নিয়ে কি আমাদের হস্তক্ষেপ করতে হবে? জেলার (তত্ত্বাবধায়ক) কোন এখতিয়ার বলে তাকে সাধারণ হাজতিদের সঙ্গে রাখবে?

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে বলেন, আইন অনুযায়ী বিচারিক হাকিম আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেবেন। সরাসরি হাইকোর্ট আসার সুযোগ নেই। এছাড়া হাকিম আদালতের কোনো আদেশের কপি এখানে নেই। তাই এটা অসম্পূর্ণ আবেদন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন তখন বলেন, ঢাকার হাকিম আদালতের আদেশের পর আমরা রংপুরের আদালতে ডিভিশন চেয়ে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো লিখিত আদেশ দেয়নি ওই আদালত। ফলে এখানে তা দিতে পারিনি।

বিচারক এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান, মইনুল হোসেনকে ডিভিশন দেওয়া যায় কিনা?

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইন অনুযায়ী বিষয়টি দেখবে বিচারিক আদালত।

খন্দকার মাহবুব হোসেন এ সময় বলেন, উচ্চ পর্যায় থেকে বলা হল, মামলা করেন, আমরা দেখব। এটা বলার পরই দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৮টি মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। আমরা তো তার জামিন চাচ্ছি না। আমাদের আবেদন ডিভিশনের জন্য।

রোববার শুনানি শেষে হাই কোর্ট ডিভিশনের আবেদনটি আদেশের জন্য রাখে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার মইনুল হোসেনকে প্রথম শ্রেণির বন্দির সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা আসে।

/ই

Ads
Ads