ভোট না দেয়ায় গণধর্ষণের ‘নির্দেশদাতা’ রুহুল আমিনসহ আরও দু’জন গ্রেফতার

  • ৩-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

নৌকায় ভোট না দেয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা ও নির্দেশদাতা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হল।

বৃহস্পতিবার (০৩ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে সদর উপজেলার চরওয়াফদা ইউনিয়ের ৪নং ওয়ার্ডের সেনবাগ ইটভাটা থেকে তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন- সুবর্ণচর ইউপি সদস্য রুহুল আমিন (৩৩) ও বেছু (২৮)। তাদের বাড়ি একই এলাকায়।

রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং বেচু ব্যাগা গ্রামের আবু কাশেমের ছেলে। ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় নির্বাচনের দিন রাতে ওই নারীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে জখম করার ঘটনায় রুহুল আমিনকেই নেতৃত্বদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছিলেন তার স্বজনরা। 

যদিও এ ঘটনায় সেই নারীর স্বামীর দায়ের করা মামলার এজাহারে কৌশলে বাদ দেওয়া হয় রুহুল আমিনের নাম। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনার মুখে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কড়া অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার পর রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করা হলো।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, ভোর রাতে পুলিশের দু’টি দল সদর উপজেলার উত্তর ওয়াপদার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রুহুল আমিনকে ও সেনবাগ উপজেলার খাজুরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারের ৫ নং আসামি বেচুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এর আগে সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) লক্ষ্মীপুর থেকে আবদুল মন্নানের ছেলে ও আওয়ামী লীগকর্মী স্বপন (৩০) এবং গত মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) রাতে চরজুবলি ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের আহাম্মদ উল্লাহর ছেলে বাদশা আলমকে (৩৫) গ্রেফতারা করা হয়। এরপর বুধবার দুপুরে মামলার প্রধান আসামি একই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আওয়ামী লীগকর্মী মো. সোহেলকে (৩৫) কুমিল্লা জেলার অজ্ঞাত স্থান থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন যদি অপরাধী হয় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমরা দ্রুত সাংগঠনিক মিটিংয়ে বসে ও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী যদি তার অপরাধ প্রমাণিত হয় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। 

প্রসঙ্গত, নৌকায় ভোট না দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় গত রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০-১২ জন কর্মী রাত ১০টার দিকে সিরাজ মিয়া নামে এক সিএনজি চালকের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে।

গৃহবধূর স্বামী সিএনজিচালক বলেন, ৩০ ডিসেম্বর তার স্ত্রী কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী সোহেল, আলাউদ্দিন, স্বপন, আনিস, আনোয়ার, আবু মাঝি, হেদু মাঝিসহ কয়েকজন তাকে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সবার সামনে তার স্ত্রী ধানের শীষে সিল দেয়।

ধর্ষিতার স্বামী আরও জানান, এরপর রাত ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের সেসব কর্মী তার বাড়ি এসে পুলিশ পরিচয়ে দরজা খুলতে বলে। সিরাজ মিয়া দরজা খুললে ঘরে ঢুকে তারা সিরাজ মিয়া ও তার চার সন্তানের হাত-পা-মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর তার স্ত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং রাতভর গণধর্ষণ করে। পরের দিন সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উলঙ্গ অবস্থায় ঘরের পাশে ফেলে যায়। এলাকাবাসী সকালে গৃহবধূকে উদ্ধার করে এবং অজ্ঞান অবস্থায় দুপুর সোয়া ১২টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

/কে 

Ads
Ads