যে কারণে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশিদের আগ্রহ কম!

  • ১৬-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশিদের আগ্রহ কম। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৬টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ১৭৮জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এরমধ্যে সরাসরি বিদেশ থেকে আসবেন ৯৭জন। বাকি ৮১জন ঢাকাস্থ বিভিন্ন কূটনীতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত। এরমধ্যে ওইসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। এছাড়া, বিদেশি ৮জন সাংবাদিক আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশে আসার আবেদন জানিয়েছেন। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

এদিকে, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৮১টি দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার ৩৪ হাজার ৬৭১জন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছেন। তবে, ইসি ৯ হাজারের মতো কমিয়ে ২৫ হাজার ৯২০জনকে অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।    

জানা গেছে, এবার নির্বাচনে ৯টি দেশের কূটনৈতিক মিশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশগুলো হচ্ছে—ফ্রান্স, জাপান, স্পেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড। এ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পর্যবেক্ষকদের পাঠাচ্ছে না বলে আগেই ইসিকে জানিয়ে দিয়েছে। তবে ইইউ দুজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দেশে অবস্থান করছেন। তারা এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

জানা গেছে, শনিবার অনুষ্ঠিত কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে, বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জানান, পর্যবেক্ষকেরা ভোটকক্ষে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না। তারা বেশিক্ষণ ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে পারবেন না।

ইসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক এসেছিলেন। ওই নির্বাচনে ৫৯৩জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ১ লাখ ৫৯ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। সবচেয়ে কম পর্যবেক্ষক ছিলেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিলেন চারজন ও দেশীয় ৩৫টি সংস্থার পর্যবেক্ষক ছিল ৮ হাজার ৮৭৪জন। এর আগে ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি ২২৫জন ও ২ লাখ ১৮হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক ছিলেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।

জানা গেছে, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। যার কারণে দেশীয় যেসব সংস্থা পর্যবেক্ষণের আবেদন করছে তার সব কিছু যাচাই করে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ১৪টি সংস্থার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

এছাড়া, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, খান ফাউন্ডেশন, লাইটহাউস ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের বিষয়ে আপত্তি রয়েছে আওয়ামী লীগের। দলটির অভিযোগ, এ চার পর্যবেক্ষক সংস্থা বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ) সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। এই পাঁচটি সংস্থা এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে ইসির কাছে আবেদন জানিয়েছে।

শনিবারের কমিশন বৈঠকে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ইসিতে নিবন্ধিত ১১৮টি সংস্থার মধ্যে ৮১টি সংস্থা থেকে ৩৪ হাজার ৬৭১জন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন জানিয়েছে। কোনও কোনও আসনে অধিক সংখ্যক পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করায় তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে কেন্দ্রীয়ভাবে ২৫ হাজার ৯২০ পর্যবেক্ষক মোতায়েনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার মধ্যে ১৪টি পর্যবেক্ষক সংস্থার বিষয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট রয়েছে। জানা গেছে, যেসব সংস্থার বিষয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি, রূপান্তর, ডেমোক্র্যাসি ওয়াচ, খান ফাউন্ডেশন, লাইটহাউস ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ। 

আগ্রহী ১৭৮ বিদেশি পর্যবেক্ষক

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৬৫জন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন দূতাবাস ও ইউএসএইড যৌথভাবে। এর মধ্যে ৩২জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ৩৩জন এদেশে অবস্থানকারী দূতাবাসের কর্মকর্তা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিও নেটওয়ার্ক এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন (এএনএফআরইএল)। এই সংস্থার আওতায় ৩২জন বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার আবেদন করেছে। এছাড়া নেপালের বেসরকারি সংস্থা ডিপেন্দ্র ইনিশেয়েটিভ কেন্দ্র থেকে তিনজন আবেদন করেছেন। এসব পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্সের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি। 

আরও জানা গেছে, বাংলাদেশস্থ ৯টি কূটনৈতিক মিশন থেকে ১০০জন আবেদন জানিয়েছেন। এর মধ্যে ফ্রান্স ৪জন, জাপান ৯জন, স্পেন ১জন, ডেনমার্ক ৩জন, নরওয়ে ২জন, জার্মান ৮জন, নেদারল্যান্ড ৪জন ও সুইজারল্যান্ড ৬জন পর্যবেক্ষকের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে। এছাড়া ৪টি বিদেশি সংস্থা থেকে ৩২জন আবেদন জানিয়েছে।

দেশীয় পর্যবেক্ষণে ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে ১ হাজার ৫৬৭জন ও স্থানীয়ভাবে ৩৩ হাজার ১০৪জন নিয়োগের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের আপত্তি দেওয়া ৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩টি এবার চার হাজার ৫০৭ জন (ডেমোক্র্যাসি ওয়াচ দুই হাজার ৪৩০, লাইটহাউস ৮৭৬, খান ফাউন্ডেশন ৭৮৯ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ ৪১২) পর্যবেক্ষক নিয়োগের আবেদন করেছে। এদিকে, বিএনপির আপত্তি দেওয়া জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ) আবেদন করেছেন তিন হাজার ৮৪২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগে।  এছাড়া অন্যদের মধ্যে সেইফ ২১৫, সেবা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন ৩১, কর্মায়ন ৬২, জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার (জার) ৫, হোপ ২৪, অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ ৮, দেশ বাংলা ৫০০, এসো জাতি গড়ি ২০৭, অ্যাসোসিয়েশন ফর রাইটস অ্যান্ড পিস ৩২, অগ্রদূত সংস্থা ৪০৪, উদয় ১৭, নীড় ফাউন্ডেশন ১৪২, মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ১৯৬, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স (দিশা) ৮৩, ইন্টিগ্রেটেড সোসাইটি ফর উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ১৭, সোহা ১৩, এসডাপ ৭, র‌্যাক বাংলাদেশ ১৫, অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (উষা) ২১, স্বেচ্ছাসেবী বহুমুখী মহিলা সমাজকল্যাণ সমিতি ৩০০, দরিদ্র সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ৫, ডরপ ২৯, আলোর পথে ২৬০, ডেভেলপমেন্ট পার্টনার ২৭৫, স্টেপ ২০, মুক্ত আকাশ ৪৫, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ৪৭৯, কোস্ট ট্রাস্ট এক হাজার ৮৪, অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ৫৮৩, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা ১৪, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ১৪২, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ২৫০, স্বেচ্ছাসেবী পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পিপসা) ৭৭, সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন পরিষদ ৩৬, ডেপ ৫৯, ক্রিয়েটিভ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) ১৬৭, ভোলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ১২, আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র ৪৪৭, ডাক দিয়ে যাই ৩০০, সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (সাকো) ১৪, বাঁচতে শেখা ৩২১, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) ৭৫০, পিস অ্যান্ড রাইটস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ১০, উত্তরণ ৩০০, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ৭০০, নিড ফাউন্ডেশন ১৭০, পলাশীপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতি ২০০, নোয়াখালী রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ৬৬০, টাইডা ৪৫, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) ২০০, মিতু সেতু অ্যাডুকেশন অ্যান্ড চ্যারিটেবল সোসাইটি ২০, আরবান ৩৪, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র ৫৫০, প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা (প্রকস) ১২, সহায় ১৩, নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ৪৩৫, রূপান্তর ২০০, নবলোক ২০০, সলিডারিটি ১৫০, পল্লী একতা উন্নয়ন সংস্থা ৪১০, ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ২৫৩, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন ৬২১, সোসাইটি ফর রুরাল বেসিক নিড (শ্রাবণ) ৪৩৭, ফোরাম ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ৬৩, দি গুড আর্থ ৩০, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) ৬২৬, লুৎফর রহমান ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন (এলআরবি) ৬৬৫, ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) ৯৭৩, বাংলাদেশ আলোকিত প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন সোসাইটি ২ হাজার ৮৯৭, অনিক মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ২ হাজার ৮৭১, মুভ ফাউন্ডেশন ১২১, আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন ৯৬৫, আদর্শ পল্লী উন্নয়ন সংস্থা ৩ হাজার ৫৯৮ ও হাইলাইট ফাউন্ডেশন ৮৬ জন।

Ads
Ads